অনলাইন ডেস্ক, ৬ আগস্ট।। লোকসভায় সরকার জানিয়েছে পুলিশি হেফাজতে নিগ্রহ ও মৃতের সংখ্যা। এর প্রতিক্রিয়ায় অধিকার সংগঠন এনসিএইচআরও বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, এটি গভীর উদ্বেগের বিষয়। মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য যে আইন তার অপব্যবহার করছে পুলিশ বাহিনী। প্রসঙ্গত, কংগ্রেসের সাংসদ কার্তি চিদাম্বরম সংসদে জানতে চেয়েছিলেন যে, ভারতে পুলিশি হেফাজতে অত্যাচার ও মৃত্যুর হার বাড়ছে কিনা।
তার উত্তরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের তথ্য পেশ করে বলেন যে, ২০১৮ সালে ১৩৬ জন, ২০১৯ সালে ১১২ জন, ২০২০ সালে ১০০ জন পুলিশ হেফাজতে মারা গিয়েছে। আবার ২০১৮ সাল থেকে হেফাজতে পুলিশি নিগ্রহের শিকার হয়েছেন যথাক্রমে ৫৪২, ৪১১ ও ২৩৬ জন। যদিও সম্প্রদায়ভিত্তিক তথ্য দেননি মন্ত্রী, কিন্তু এটা মনে করা হচ্ছে যে, অধিকাংশ নিগৃহীতই সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও দুর্বল শ্রেণির।
কংগ্রেস সাংসদ আরও জানতে চান, করোনাভাইরাস অতিমারিজনিত অপরিকল্পিত লকডাউন কার্যকর করতে পুলিশ যেভাবে হিংসা চালিয়েছে তার কোনও তথ্য রয়েছে কিনা। এর উত্তরে জানানো হয়, এই বিষয়ে কোনও তথ্য নেই। যাইহোক, পুলিশি হেফাজতে নিগ্রহ ও মৃত্যুর যে পরিসংখ্যান সামনে এসেছে তা শুধু উদ্বেগজনকই নয়, অমানবিকও।
মানবাধিকার সংগঠন ন্যাশনাল কনফেডারেশন অফ হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন (এনসিএইচআরও) পুলিশি অত্যাচারের বিরুদ্ধে নিজেরাই জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কাছে বহু অভিযোগ দায়ের করেছে। গত কয়েক বছরে পুলিশি হিংসা ও নির্যাতনের হার বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে দেশে। এটি নতুন কোনও ঘটনা নয়, কিন্তু হেফাজতে নিগ্রহ করে মেরে ফেলেও পুলিশ যেভাব ছাড় পেয়ে যাচ্ছে তা কার্যত দেশের রাজনৈতিক চিত্রকেই তুলে ধরে।
যদিও, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানিয়েছেন, এই ধরনের সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব প্রাথমিকভাবে বর্তায় রাজ্য সরকারের উপর। এদিকে, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে হেফাজতে রেখে অত্যাচার ও মৃত্যুর হার তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। এনসিএইচআরও যতগুলি রাজ্যের বিরুদ্ধে পুলিশি হিংসা সংক্রান্ত বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করেছে তাদের অধিকাংশই বিজেপি-শাসিত এবং নিগ্রহের শিকার মূলত সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও সমাজের দুর্বল অংশ।