অনলাইন ডেস্ক, ৬ আগস্ট।। করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের ভয়াবহতার রেশ একটু থিতিয়ে যেতেই ফের তৃতীয় ঢেউ। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মতো তৃতীয় স্ট্রেনের হাত থেকে বাঁচা সম্ভব নয়। তার জন্য আগেভাগেই ভ্যাকসিন, করোনা বিধিনিষেধ মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে তৃতীয় ঢেউয়ে শিশুদের আক্রান্ত খবর বেশি বলে আগেই সতর্কবার্তা দিয়েছিল হু।
তবে বৃহস্পতিবার একটি ওয়েবমিনারে আন্তর্জাতিক পেডিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ডঃ নবীন ঠক্কর জানান ‘সংক্রমণের আসন্ন ঢেউয়ে শিশুরাই সংক্রমিত হবে, এর কোনও জৈবিক কারণ নেই।’ ‘কোভিড-১৯ তৃতীয় ঢেউ: প্রতিরোধ ও প্রস্তুতি’ নামক একটি ওয়েবিনারে আন্তর্জাতিক পেডিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ডঃ নবীন ঠক্কর এই বক্তব্য রাখেন। তিনি সেখানে বলেন, শিশুদের থেকে কখনও বড়রা সংক্রমিত হয় না, বরং উল্টোটাই হয়ে এসেছে বার বার। সেটাই আমরা দেখেছি। সুতরাং জৈবিক কোনও কারণ নেই, যার উপর ভিত্তি করে যাবে তৃতীয় ঢেউতে শিশুরাই বেশি আক্রান্ত হবে’।
তবে এই সংক্রমণ থেকে শিশুরা যে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত নয় সেই বিষয়টি আলোচনা করে, ডঃ বলেন, ও লকডাউনের কারণে টিকাকরণ অনেকাংশে ব্যাহত হয়েছে। যার প্রভাব পড়তে পারে শিশুদের ওপর। এছাড়াও স্কুল বন্ধ, শিশুদের উপর মানসিক চাপও বাড়ছে। তবে শিশুরা করোনা সংক্রমিত হলেও তাদের অধিকাংশই উপসর্গহীন এবং সংক্রমণও খুব হওয়ার সম্ভাবনা নেই’।
আইআইটি কানপুরের অধ্যাপক রাজেশ রঞ্জন, যিনি করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, তিনি বলেন, ” করোনা বিধি অনুসরণের পাশাপাশি টিকাকরণও অত্যন্ত জরুরি। কারণ যারা টিকা নিয়েছেন তাদের থেকে সংক্রমণ ছড়ানোর সম্ভাবনা কম। তবে পাশাপাশি অধ্যাপক রাজেশ রঞ্জন জানিয়েছেন, তৃতীয় ঢেউ যে আসবে না, এই কথাটা বলা ভুল।
এই কারণে বার বার সচেতন হতে বলা হচ্ছে। আমেরিকা, ব্রিটেন, জাপান, রাশিয়া ইতিমধ্যেই একাধিক সংক্রমণের ঢেউ দেখেছে। করোনা ভাইরাস এমন ধরন, তাই থেকে আগে থেকে নিশ্চিতভাবে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। তৃতীয় ঢেউয়ে ১৮ থেকে ৫৯ বছর বয়সীদের সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, তাই টিকাকরণ জরুরি। সেই কোভিড বিধিনিষেধ অবশ্যই মেনে চলতে হবে’।