অনলাইন ডেস্ক, ২৮ জুলাই।। দিল্লিতে পৌঁছনোর আগেই দলের সংসদীয় দলের চেয়ারপার্সন হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। আজ বুধবার দুপুরে সংসদীয় দলের চেয়ারপার্সন হিসেবে প্রথমবার তৃণমূলের লোকসভা ও রাজ্যসভার সাংসদদের নিয়ে বৈঠক করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই বৈঠকে মোদি সরকারের জনবিরোধী কাজকর্মের বিরুদ্ধে আরও বেশি করে সক্রিয় হতে এবং অধিবেশন চলাকালীন সংসদে উপস্থিতি যাতে একশো শতাংশ থাকে, তার নির্দেশ দিয়েছেন। বৈঠকে বিজেপি বিরোধী জোটের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য দলনেত্রীকে অনুরোধ জানান তৃণমূল সাংসদরা। যদিও এ প্রসঙ্গে তৃণমূল সুপ্রিমো সাফ জানান, বিজেপিকে হঠানোই মূল লক্ষ্য। ফলে কে নেতৃত্ব দেবেন, তা পরে ঠিক করা হবে।
সাধারণ মানুষ যাকে চাইবেন তিনিই নেতৃত্ব দেবেন। দলীয় সাংসদদের সঙ্গে বৈঠকের পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা বলেন, ‘দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে ধ্বংস করা হচ্ছে, বিচার ব্যবস্থাও হুমকির মুখ। পেট্রল-ডিজেল সহ জ্বালানির দাম লাগামছাড়া, করোনা মোকাবিলাতেও সরকার ব্যস্ত। দেশে এখন জরুরি অবস্থার চেয়েও শোচনীয় পরিস্থিতি। কেন্দ্রীয় সরকারের জনবিরোধী নীতির প্রতিবাদ জানাতে সব বিজেপি বিরোধী দলের জোট বাঁধার সময় এসেছে।
সোনিয়া গান্ধিও বিজেপি বিরোধী জোট চান।’ বিজেপি বিরোধী জোটের নেতৃত্ব তিনি দেবেন কিনা জানতে চাইলে তৃণমূল নেত্রী বলেন, ‘আমি সাধারণ কর্মী। কর্মী হিসেবেই কাজ করে যাব। ভবিষ্যতে কে নেতৃত্ব দেবেন, তা আমি বলতে পারব না। সন্তান হওয়ার আগে কীভাবে নাম বলতে পারি। সবার সঙ্গে আলোচনা করছি। শিগগিরই ছবিটা স্পষ্ট হবে।’ সোমবার বিকালে রাজধানীতে পা দিয়েই ঠাসা কর্মসূচিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। মঙ্গলবার আনন্দ শর্মা, কমল নাথের মতো বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতার সঙ্গে বৈঠক করার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ সেরেছিলেন।
আর এদিন দুপুরে তৃণমূলের রাজ্যসভার মুখ্যসচেতক সুখেন্দুশেখর রায়ের ৭ নম্বর মহাদেব রোডের বাড়িতে দলের সাংসদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন মমতা। বৈঠকে হাজির ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন, লোকসভার দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌগত রায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়রা।
বৈঠকে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জনস্বার্থ বিরোধী নীতির প্রতিবাদে আরও বেশি সরব হওয়ার জন্য দলীয় সাংসদদের নির্দেশ দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। বিশেষ করে কৃষি বিল, মূল্যবৃদ্ধি ও করোনা পরিস্থিতি নিয়ে বিজেপি সরকারকে চেপে ধরার পরামর্শ দেন। গুরুত্বপূর্ণ বিল নিয়ে ভোটাভুটির সময়ে কেউ যাতে গরহাজির না থাকেন, তাও পইপই করে বলেছেন। বিজেপি বিরোধী দলগুলির সঙ্গে সমন্বয় রাখার উপরেও জোর দিতে বলেছেন।
তবে দলীয় সাংসদরা যে নেত্রীকেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চান, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন লোকসভায় তৃণমূলের মুখ্যসচেতক কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমরা প্রধানমন্ত্রী পদে দেখতে চাই। এখন দেশের মধ্যে তিনিই বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের প্রধান মুখ। তাঁর নেতৃত্বেই বিজেপি-কে হঠানো সম্ভব। দলের সংসদীয় কমিটির বৈঠকে আমরা সব সাংসদ মিলে সেই প্রস্তাবই দিয়েছি