অনলাইন ডেস্ক, ২৭ জুলাই।। রাজমিস্ত্রীর ছেলের দুর্দান্ত পরীক্ষার রেজাল্টে গর্বিত গোটা সম্প্রদায় সহ তার পরিবার। কর্ণাটকের প্রত্যন্ত গ্রাম গুলবার্গা গ্রামের ছেলে মতীন জমাদার। পিইউসি (প্রাক বিশ্ববিদ্যালয় কোর্স) পরীক্ষায় মতীন পেয়েছে ৬০০’র মধ্যে ৬০০ নম্বর। পরীক্ষায় শীর্ষস্থান অধিকারী মতীন জমাদারকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে কর্ণাটক সরকার থেকে শুরু বিশিষ্ট মানুষেরা।
চলতি বছরের ২৩ জুলাই প্রকাশিত হয় পিইউসি’র রেজাল্ট। তার পরেই জানা যায় মতীনের এই নজরকাড়া সাফল্যের কথা।বরাবরই মেধাবী ছাত্র হিসেবে পরিচিত মতীন। সীমাহীন দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে মতীনের পড়াশোনা। ২০১৮ সালে এসএসএলসি পরীক্ষায় ৬২৫ এর মধ্যে মতীনে প্রাপ্ত নম্বর ছিল ৬১৯।দিন আনা দিন খাই পরিবারের ছেলে মতীনের পড়াশোনা দারিদ্রের সঙ্গে লড়াই করে।
গ্রামের বস্তি এলাকায় বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকে মতীন। এক চিলতে ঘরে পড়াশোনা। ঘরের চারদিকে দারিদ্রতার ছাপ স্পষ্ট। বাবা পেশায় রাজমিস্ত্রী নবীসাব জমাদার। দৈনিক আয় ৫০০ টাকা। মা রাজিয়া বেগম প্রতিবেশীদের ক্ষেত পরিষ্কার করে দৈনিক ১৫০ টাকা রোজগার করেন। করোনার সময়ে সেই আয়ও কমেছে।তবে নবীসাব জমাদার ও রাজিয়া বেগম দুজনেই দশম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন।
দুজনেই চান, তাদের সন্তানেরা পড়াশোনা করে উজ্জ্বল ভবিষ্যত গড়ে তুলুক। বড় ছেলে প্রতিবন্ধী। চোখে সংক্রমণের কারণে সে আর দেখতে পায় না। মেজ ছেলে কনস্টেবল পদে সদ্য নিযুক্ত হয়ে ব্যাঙ্গালুরুতে পোস্টিং পেয়েছে। তবে ছোট ছেলে মতীনের এই নজরকাড়া সাফল্য তাদের কাছে আশার অতীত জানিয়েছেন নবীসাব জমাদার ও রাজিয়া বেগম।মতীন জমাদারের এই সাফল্যে শুভেচ্ছা জানিয়েছে কর্ণাটক সরকার।
‘দরিদ্র রাজমিস্ত্রীর গর্বিত পুত্র’ বলে কর্ণাটক সরকারের পক্ষ থেকে বলে ট্যুইট করে অভিনন্দন জানিয়েছেন আইএএস অফিসার মহম্মদ মহসিন।সংখ্যালঘু কল্যাণ অধিদফতরের পক্ষ থেকে ট্যুইট করে জানানো হয়েছে, ‘পিইউসি পরীক্ষায় মতীন জমাদারের এই সাফল্যে আমরা গর্বিত। আমাদের দফতর পক্ষ থেকে এই ধরনের মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য বৃত্তি প্রদান করে’।