অনলাইন ডেস্ক, ২৭ জুলাই।। পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়া এবং প্রধানমন্ত্রী হিশাম মেচিচিকে বরখাস্তের ঘটনায় তিউনিসিয়ার প্রেসিডেন্ট কায়েস সাইয়েদের বিরুদ্ধে ‘ক্যু’র অভিযোগ করেছেন বিরোধীরা।
করোনাভাইরাস ও অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভের মুখে রবিবার পার্লামেন্ট ভেঙে দেন এবং প্রধানমন্ত্রীকে বরখাস্ত করেন প্রেসিডেন্ট।
নিজ প্রাসাদে জরুরি বৈঠকে প্রেসিডেন্ট তার সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণার পর রাস্তায় রাস্তায় আতশবাজি ও গাড়ির হর্ন বাজিয়ে উল্লাস প্রকাশ করে লোকজন।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে কায়েস সাইয়েদ বলেছেন, জনগণের অধিকার নিয়ে ভণ্ডামি, বিশ্বাসঘাতকতার ফলে বহু মানুষ প্রতারিত হয়েছেন।
সহিংস প্রতিক্রিয়ার বিরুদ্ধে সতর্ক করে তিনি বলেছেন, ‘কেউ সশস্ত্র আন্দোলনের কথা ভাবলে তাদের আমি সতর্ক করছি। কেউ গুলি চালালে সশস্ত্র বাহিনী তা বুলেটের মাধ্যমেই জবাব দেবে। ’
প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেছেন, তার কাজ সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি সংসদ সদস্যদের দায় মুক্তি স্থগিত করেছেন।
তবে পার্লামেন্টের অধিকাংশ দল প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তকে ক্যু তথা অভ্যুত্থান হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়া এবং নির্বাহী ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট সংবিধানের ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছেন বলেও তারা অভিযোগ করেছেন।
তিউনিসিয়ার পার্লামেন্টের স্পিকার ও মধ্যপন্থী ইসলামি দল এন্নাহদা পার্টির প্রধান রাশেদ ঘানোচি এ পদক্ষেপের পর প্রেসিডেন্ট সাইয়েদের বিরুদ্ধে ‘বিপ্লব ও সংবিধানের বিরুদ্ধে পুরোদস্তুর অভ্যুত্থান’ চালানোর অভিযোগ করেছেন।
উল্লেখ্য, এক বছরেরও বেশি সময় ধরে করোনা মহামারি ও অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে প্রেসিডেন্ট সাইয়েদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মেচিচির রাজনৈতিক বিরোধ চলছিল।
করোনা মহামারীর আগে থেকেই দেশটির চলমান দুর্নীতি, রাষ্ট্রীয় সেবা হ্রাস, বেকারত্ব বৃদ্ধির ফলে অনেক তিউনিসিয়ান সরকারের রাজনৈতিক পদ্ধতি নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিল। মহামারীর পর সংকট আরও তীব্র রূপ নিলে জনগণ রাস্তায় নেমে আসে।