স্টাফ রিপোর্টার, কমলপুর, ২৫ জুলাই।। বর্তমানে ধান চাষ করে তেমন লাভের মুখ দেখছেন না বর্গাচাষীরা। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে অধিক পরিশ্রম করে জমিতে ধান চাষ করে কোন রকমে বেঁচে বর্তে আছে কমলপুরের গঙ্গানগর, মলয়া, ও মোহনপুরের বর্গা চাষীরা। কমলপুর মহকুমার কৃষি নির্ভর এলাকা গঙ্গানগর, মলয়া ও মোহনপুর ।
চাষাবাদ করে তারা জীবিকা নির্বাহ করেন। ওইসব এলাকায় ধানের হাওড়ে প্রায় নয়শ হেক্টর ধানের জমি রয়েছে। জমি গুলির নববই শতাংশ মালিকরা এক বছর নতুবা দুই বছর চুক্তিতে বর্গাদারদের দিয়ে জমিতে ধান ফলিয়ে সেই ধান গোলায় তোলেন।
এই তিনটি কৃষি কবলিত গ্রামে প্রায় আড়াইশ থেকে তিনশ বর্গাদার আছেন যারা পরের আট/নয় কানি বা বিঘা জমিতে ধান চাষ করে কোন রকমে পরিবার নিয়ে দিন গুজরান করছেন। এই ধানের জমি গুলিতে ধান চাষ করতে গিয়ে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।
বিশেষ করে মৌসুমী বৃষ্টিপাত সময় মতো না হলে কৃষকদের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। এবার কমলপুরে আউস রোপন করার সময়ে বৃষ্টি না হওয়ায় অনেক বর্গাদার আউস ধান করতে পারেনি। তারা আউস ধান চাষ করেছেন পাম্প মেশিনের মাধ্যমে জল এনে। তবে কৃষিক্ষেত্রে জলসেচ বিশেষ প্রয়োজন।
যেটা এই ধানের হাওরে অভাব আছে। এখানে বর্গাদার কৃষকরা বিনে পয়সার সার, বীজ সহ নানা সুবিধা পাচ্ছেন বলে জানালেন। পাশাপাশি বর্গাদার কৃষকদের মধ্যে যাদের এক/দেড় কানি অল্প বিস্তর জমি আছে ওই জমির মালিকরাও কিষাণ সম্মান নিধির আর্থিক সুযোগ পাচ্ছেন।
এছাড়া বর্গাদার কৃষকদের কাছ থেকে নায্যমূল্যে ধান ক্রয় করছে সরকার। এই অবস্থায় ভাগচাষীরা কৃষিকাজের মাধ্যমে সংসার প্রতিপালন করছেন এই কোভিড পরিস্থিতির মধ্যে। জলের সুবিধা যে জায়গায় রয়েছে সেই জায়গায় বর্গা চাষীরা ব্যুরো, আউস,ও আমন এই তিন ফসল ধান চাষ করেছেন।
এ বিষয়ে মহকুমার গঙ্গানগর এলাকার এক প্রবীণ বর্গাচাষী মনতাজ মিয়া জানালেন তার অভিজ্ঞতা। ১২ জনের সংসার কৃষিকাজের মাধ্যমে প্রতিপালন করার পাশাপাশি ছেলেকে স্নাতকোত্তর পড়িয়েছেন এই প্রান্তিক ভাগচাষী।এই এলাকার কৃষিক্ষেত্র মলয়ার মাঠে ভাগচাষ করে সংসার প্রতিপালন করছেন মিঠু দেবনাথ।
উনি জলসেচের কিছুটা সমস্যার কথা জানিয়েও সরকারি ব্যবস্থাপনায় উনার খুশি ব্যক্ত করে জানালেন, চাষাবাদ করে তারা জীবিকা নির্বাহ করছেন। বর্তমানে কঠোর পরিশ্রম করে সরকারি কিছু সাহায্যে বর্গা চাষীরা কৃষি ক্ষেত্রে কোন রকমে বেঁচে বর্তে আছেন বলে জানিয়েছেন।