Fish Farming: যতনবাড়ির চন্দন ও উত্তম এখন মৎস্যচাষে স্বনির্ভর

৷৷ অনুপম পাল ৷৷ স্বনির্ভর ব্যক্তি আত্মনির্ভর ত্রিপুরা গঠনে সক্ষম। রাজ্যের অন্তিম জনপদে বেকার যুবক যুবতীদের উন্নয়নের প্রাথমিক ক্ষেত্রগুলির সাথে যুক্ত করে স্বনির্ভর করে তুলতে বর্তমান রাজ্য সরকার শুরু থেকেই প্রয়াস নিয়েছে। এরই প্রতিফলন ঘটেছে করবুক মহকুমায়।

মহকুমার যতনবাড়ির দুই যুবক চন্দন পাল ও উত্তম দেবনাথ। আর্থিক অনটন ছিলো তাদের পরিবারের ।। তবুও চন্দন ও উত্তম দুই অভিন্ন হৃদয় বন্ধু সরকারি সহায়তায় স্বনির্ভর হতে নিত্যসঙ্গী। চাইছিলেন। সরকারি সহায়তা তারা পেয়েও গেলেন।

২০১৯ সালে যতনবাড়ি এডিসি ভিলেজ থেকে চন্দন পাল ও উত্তম দেবনাথকে মৎস্য চাষের জন্য ৩ বছরের জন্য একটি জলাশয় লিজে দেওয়া হয়। মৎস্য দপ্তর থেকে তাদেরকে ১৬ হাজার মাছের চারা পোনা দেওয়া হয়। সাথে ২ বস্তা মাছের খাবার ও কিছু পরিমাণ খৈও দেওয়া হয়। যতনবাড়ির এই দুই বন্ধু সরকারি সহায়তার পাশাপাশি নিজেরাও কিছু পুঁজি বিনিয়োগ করে আরও মাছের পোনা লিজে পাওয়া জলাশয়ে ছাড়লেন।

এই সহায়তা ও নিজেদের উদ্যোগ বছর দুয়েকের মধ্যেই তাদেরকে স্বনির্ভর করে তুলেছে। দুই বন্ধু মৎস্য চাষে অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য পার্শ্ববর্তী এলাকার মৎস্যচাষীদের সাথে সময়ে সময়ে মতবিনিময়ও করেন। সঠিক পরিচর্যা ও খাদ্য দেওয়ার মাধ্যমে ধীরে ধীরে ছোট চারা পোনা বড় হতে থাকে। ৬ মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পর চিন্তায় আসে পোনা বাজারজাতকরণ নিয়ে।

যদিও মহকুমা এলাকায় মাছের পোনার চাহিদা সারা বছরই লেগে থাকে। তথাপি গ্রামীণ এলাকায় এতো বিশাল সংখ্যক পোনা বিক্রি করার জন্য উপযুক্ত বাজার পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। ঠিক সে সময় মৎস্য দপ্তর থেকে ডম্বুর জলাশয়ে মাছের পোনা ছাড়ার টেন্ডার করা হয়।

সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে টেন্ডার জমা দেন দুই বন্ধু। তারা মাছের পোনা বিক্রির বরাতও পেয়ে যান। ডুম্বুর জলাশয়ে তারা ২ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকার মাছের পোনা সরবরাহ করেন। লাভ হয় প্রায় ১ টাকা। তারপর যতনবাড়ি ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় পোনা বিক্রি করে লাভ করেন ৪০ হাজার টাকা।

যতনবাড়ি এডিসি ভিলেজের মাধ্যমে অন্যান্য সুবিধাভোগীদের কাছেও মাছের পোনা সরবরাহ করে তারা লাভবান হয়েছেন। মাছের পোনা বিক্রয় করা ছাড়াও জলাশয়ের মাছও তারা স্থানীয় বাজারে বিক্রয় করতে লাগলেন। বিজ্ঞান সম্মতভাবে মৎস্য চাষের জন্য তারা প্রশিক্ষণও নিয়েছেন।

মৎস্য দপ্তর থেকে ২০২০ সালে করবুকে উন্নত প্রথায় মাছ চাষের জন্য ৭ দিনের একটি মৎস্য প্রশিক্ষণ শিবির অনুষ্ঠিত হয়। এই প্রশিক্ষণ শিবিরে তারা অংশ নেন। প্রশিক্ষণ শেষে নিজেদের মৎস্য চাষকে আরও সম্প্রসারিত করার উদ্যোগ নিলেন তারা। তাদের দুটি ছোট্ট জলাশয়কে সংস্কার করে মাছের রেণু উৎপাদনের উপযুক্ত করে তোলেন।

এই দুটি জলাশয়ে তারা শুধু মাছের রেণু উৎপাদন করা শুরু করেন। এই রেণুগুলি থেকে পোনা হয়ে গেলে সেগুলিকে এনে তারা তাদের লিজ নেওয়া জলাশয়ে ছেড়ে দেন। মাছের পোনাগুলি ৬ মাসের হয়ে গেলে তারা স্থানীয় বাজারে মাছের পোনাগুলি বিক্রয় করেন।

সাথে সাথে জলাশয়ের মাছও তারা বিক্রয় করেন। ডম্বুর জলাশয় সহ যতনবাড়ি, করবুক, শিলাছড়ি, ঘোড়াকাপ্পা এলাকায় মাছের পোনা বিক্রি করে এখন তাদের বছরে লাভ হচ্ছে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা। এই আয় দুজনের সংসারেরই হাল ফিরিয়েছে। হাসি ফুটিয়েছে তাদের মুখেও। সরকারের সহায়তা পেয়ে মৎস্যচাষ করে দুই বন্ধুই এখন স্বনির্ভর।

মৎস্য চাষে লাভের মুখ দেখতে পেয়ে দুই বন্ধু আরও একটি ১ কানি জলাশয় লিজে নিয়েছেন। বাড়িতে স্বল্প জায়গায় বিভিন্ন ধরনের সব্জি চাষও করছেন। তারা জানান, আগামীদিনে জলাশয়ের উপর মাচান তৈরি করে মাছ চাষের পাশাপাশি হাঁস ও মোরগ পালনও করবেন।

বায়োফ্লকের মাধ্যমেও বিভিন্ন প্রকল্পের মাছ চাষ করার পরিকল্পনাও আছে তাদের। দুই বন্ধুই এখন বহুমুখী উৎপাদন প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে চাইছেন। চন্দন ও উত্তমের স্বনির্ভরতার দৃষ্টান্ত এখন উৎসাহিত করছে প্রান্তিক জনপদের বেকার যুবক যুবতীদেরও।

 

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চ্যাট খুলুন
1
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠান
হেলো, 👋
natun.in আপনাকে কিভাবে সহায়তা করতে পারে?