অনলাইন ডেস্ক, ২০ জুলাই।। বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শনে গিয়েছিলেন দেশের জার্মানির প্রেসিডেন্ট। সঙ্গে ছিলেন মার্কেলের পর সিডিইউ দলের পক্ষ থেকে দেশটির চ্যান্সেলর পদপ্রার্থী আরমিন লাশেট। সেখানকার একটি স্থিরচিত্র প্রকাশ হতেই ওঠে সমালোচনার ঝড়।
প্রেসিডেন্ট যখন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন, ক্যামেরায় ধরা পড়ে পেছনে লাশেটের হাসাহাসির দৃশ্য।
হঠাৎ বন্যায় জার্মানিতে নিহতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে দেড়শ। আহত হয়েছেন আরও অনেকে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বিলিয়ন ইউরো ছাড়ানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে শনিবার ফ্রাঙ্ক-ভাল্টার শ্টাইনমায়ার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলতে এর্ফস্টাডট শহরে গিয়েছিলেন।
পরিদর্শন শেষে যখন প্রেসিডেন্ট সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন, পেছনে একটু দূরে দাঁড়িয়ে অন্য কয়েকজনের সঙ্গে কোনো এক বিষয়ে উৎফুল্ল হয়ে হাসতে দেখা যায় লাশেটকে।
ডয়চে ভেলে জানায়, দুর্গত এলাকায় গিয়ে হাসাহাসি করায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে লাশেটকে। আসছে সেপ্টেম্বরে জার্মানির ক্ষমতাসীন সিডিইউ’র চ্যান্সেলর প্রার্থী লাশেট। ফলে সমালোচনার তিরটা বেশিই তীক্ষ্ণ ছিল।
লাশেট অবশ্য এ ঘটনার জন্য সঙ্গে সঙ্গেই ক্ষমা চেয়েছেন। এক টুইটে তিনি নিজের ব্যবহারকে ‘অযথাযথ’ বলে উল্লেখ করেন।
বলেন, ‘‘বিভিন্ন আলোচনায় যাদের দুর্ভাগ্যের কথা উঠে এসেছে, তাদের বিষয়টিই আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ফলে আমার কথোপকথনের মধ্যে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, সেটা নিয়ে আমি লজ্জিত। এটা যথাযথ ছিল না এবং আমি এ জন্য দুঃখিত। ”
অবশ্য ক্ষমা চেয়েও পার পাননি লাশেট। খুব দ্রুতই হাসতে থাকা লাশেটের ভিডিও ও ছবি ভাইরাল হয়ে পড়ে। জার্মান গণমাধ্যমে এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়, টুইটারে #Laschetlacht (লাশেট হাসে) হ্যাশট্যাগ শীর্ষ ট্রেন্ডিং টপিক হয়ে পড়ে।
বিরোধী দলের নেতারাও এই ঘটনার সূত্র ধরে লাশেটকে একহাত নেওয়ার সুযোগ ছাড়েননি। এসপিডি’র মহাসচিব লার্স ক্লিংবাইল জার্মান পত্রিকা বিল্ড আম সনটাগকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই ঘটনাকে ‘অশালীন এবং আপত্তিকর’ বলে উল্লেখ করেছেন।
এসপিডি যদিও ম্যার্কেলের সিডিইউ’র সঙ্গে বর্তমান জোট সরকারে রয়েছে, কিন্তু ২৬ সেপ্টেম্বরের নির্বাচনে দল দুটি আলাদা নির্বাচন করছে।