অনলাইন ডেস্ক, ১৯ জুলাই।। আফগান সরকার ও তালিবানের প্রতিনিধিরা এক যৌথ বিবৃতিতে রবিবার জানান, তারা আবারও সাক্ষাৎ করবে। দোহায় দুদিনের বৈঠক নিষ্পত্তি ছাড়া শেষ হলেও তারা শান্তির জন্য আলোচনা চালিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে।
আল জাজিরা জানায়, শনিবার শুরু হওয়া এ বৈঠক শেষে দুইপক্ষই সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে উল্লেখ করে। কয়েক মাস ধরে কাতারের রাজধানী দোহায় দুই পক্ষ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
কিন্তু সফলতা খুবই অল্প। তালেবানের মুখপাত্র জানিয়েছেন, দুইপক্ষের মধ্যে কোনো চুক্তি হয়নি। এমনকি, যুদ্ধবিরতিরও কোনো সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
একই সময়ে আফগানিস্তানের যুদ্ধ ক্ষেত্রে সরকারি বাহিনীকে হারিয়ে দেশটির বড় একটা অংশ কর্তৃত্ব নিয়েছে তালিবান।
কিছুদিন আগে মার্কিন গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছিল, আফগানিস্তানের এক-তৃতীয়াংশ এখন তালিবানের হাতে। প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের রাজধানী তারা ঘিরে ফেলেছে। দখল করেছে দেশের প্রায় প্রতিটি সীমান্ত। জার্মান সংবাদ সংস্থা ডিপিএ’র এক সমীক্ষা বলছে, দেশের অর্ধেক এখন তালেবানের দখলে। ৪০০টি জেলায় তালিবান ফৌজ ঢুকে পড়েছে।
গত সপ্তাহে কান্দাহারেও তালিবানের সঙ্গে আফগান সেনার তীব্র লড়াই হয়েছে। শেষপর্যন্ত পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে আফগান সেনা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন জানিয়েছেন, ৩১ আগস্টের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন হবে। একই সময়ে ন্যাটো সেনারাও যুদ্ধক্ষেত্র ত্যাগ করে। ইতিমধ্যে কয়েকটি দেশের সেনারা ফিরে গেছে।
বাইডেন এও জানিয়েছেন, আফগান সরকারকেই এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে। আমেরিকা আর তাদের সাহায্য করবে না। তবে জাতিসংঘের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা গত সপ্তাহে জানিয়েছিলেন, আফগানিস্তানকে ৮৫ কোটি ডলার দেওয়া হবে। ওই অর্থের সাহায্যে সেনা অস্ত্র কিনতে পারে।