অনলাইন ডেস্ক, ১৫ জুলাই।। জয়ের জন্য শেষ ওভারে ১১ রান দরকার ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের। স্ট্রাইকে আন্দ্রে রাসেল। এর আগে ৭ বলে ২ ছয়ে ১৮ রান নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার জয়টা প্রায় মুঠোবন্দী করার পথে ছিলেন তিনি।কিন্তু শেষ কাজটা করতে পারলেন না রাসেল। মিচেল স্টার্কের করা শেষ ওভারের প্রথম চার বলে কোনো রানই করতে পারলেন না উইন্ডিজ অলরাউন্ডার। অবশ্য তখনো ক্যারিবীয়দের জয় ছুটে যায়নি। শেষ দুই বলে দুই ছয় হাঁকাতে পারলে জয় নিশ্চিত ছিল তাদের। কিন্তু পঞ্চম বলে স্টার্ক নিতে দিলেন ২ রান। শেষ বলে চার মেরে কেবল হারের ব্যবধানটুকু কমাতে পারলেন রাসেল।
এই জয়ে হোয়াইটওয়াশের হাত থেকে বাঁচল অস্ট্রেলিয়া। এর আগের পাঁচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম তিন ম্যাচ জিতে সিরিজ নিজেদের করে নেয় স্বাগতিক উইন্ডিজ। চতুর্থ টি-টোয়েন্টি ৪ রানে জিতে ব্যবধানটা ৩-১ করল অজিরা।সেন্ট লুসিয়ায় ড্যারেন স্যামি জাতীয় স্টেডিয়ামে টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ৬ উইকেটে ১৮৯ রান করে অস্ট্রেলিয়া। জবাবে ৬ উইকেটে ১৮৫ রান করে উইন্ডিজ।
হোয়াইটওয়াশ এড়াতে নেমে শুরুতে ওপেনার-উইকেটরক্ষক ম্যাথু ওয়েড (৫) বিদায় নিলেও অজিরা বড় সংগ্রহের দিকে ছুটতে থাকে অ্যারন ফিঞ্চ ও মিচেল মার্শের ব্যাটে ভর করে। তবে দলীয় ১২৬ রানে বিদায় নেন দুজনে। অধিনায়ক-ওপেনার ফিঞ্চ ৩৭ বলে ৫ চার ও ৩ ছয়ে করেন ৫৭ রান। ৪৪ বলে ৪ চার ও ৬ ছয়ে ৭২ রান করেন মার্শ।
এরপর অবশ্য আর কোনো অজি ব্যাটসম্যান দাঁড়াতে পারেননি। শেষদিকে ড্যান ক্রিশ্চিয়ানের ১৪ বলে অপরাজিত ২২ রানের সুবাদে বড় পুঁজি পায় তারা।উইন্ডিজের হয়ে ৪ ওভারে ২৭ রান দিয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নিয়েছেন হেইডেন ওয়ালশ।
জবাব দিতে নেমে দুর্দান্ত শুরু পায় ক্যারিবীয়রা। ৫ ওভারেই লেন্ডল সিমন্স ও এভিন লুইস ওপেনিং জুটিতে এনে দেন ৬২ রান। তাদের এই জুটি ভাঙেন অ্যাডাম জাম্পা। ১৪ বলে ৩১ রানে বিদায় নেন লুইস। এরপর মার্শ দ্রুত ফেরান আগের ম্যাচের নায়ক ক্রিস গেইলকে (১)।
পরে দ্বিতীয় শিকার হিসেবে তুলে নেন সিমন্সকে। ক্যারিবীয় ওপেনারের ৪৮ বলে ৭২ রানের ইনিংসটি সাজানো ছিল ১০ চার ও ২ ছয়ে। এরপর উইকেটরক্ষক-অধিনায়ক নিকোলাস পুরানও (১৪) মার্শের তৃতীয় হিসেবে সাজঘরে ফেরেন।
এর আগে জাম্পা নিজের দ্বিতীয় হিসেবে ফেরান আন্দ্রে ফ্লেচারকে (৬)। হঠাৎ হাত থেকে জয় ছুটে যাচ্ছিল ক্যারিবীয়দের। তবে সেই আশা ফের জাগিয়ে তোলেন ফাবিয়ান অ্যালেন ও রাসেল। কিন্তু শেষ হাসিটা হাসল অজিরা।
রিলে ম্যারেডিথের করা ১৯তম ওভারের শেষ বলে সাজঘরে ফেরেন দুর্দান্ত খেলতে থাকা অ্যালেন। ১৪ বলে ২ চার ও ৩ ছয়ে ২৯ রান করে অজিদের মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। অ্যালেন ওয়েডকে ক্যাচ দিয়ে ফিরলে স্ট্রাইক পায় রাসেল। জয়ের জন্য ৬ বলে ১১ রান করতে ব্যর্থ হন তিনি। রাসেল ১৩ বলে অপরাজিত ছিলেন ২২ রানে।স্টার্ক ৪ ওভারে ৩৭ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি। তবে শেষ ওভারে রাসেলকে জয়সূচক রান করতে না দেওয়ার নায়ক তিনি। ম্যাচ সেরা হয়েছেন মার্শ।