অনলাইন ডেস্ক, ১৫ জুলাই।। মারাকানায় চির প্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলকে হারিয়ে ২৮ বছর পর কোপা আমেরিকার শিরোপা জিতেছে আর্জেন্টিনা। প্রধান কোনো টুর্নামেন্টের শিরোপার জন্য দীর্ঘ এই প্রতীক্ষার পর লাতিন ফুটবলে সর্বোচ্চ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার তালিকায় উরুগুয়েকে ছুঁয়ে ফেলেছে লা আলবিসেলেস্তেরা। দুই দল এখন ১৫টি কোপার শিরোপা নিয়ে বসেছে একই চেয়ারে।
২০২১ সাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে লিওনেল মেসি প্রথম আন্তর্জাতিক শিরোপা জয়ের জন্য। দেশের হয়ে ১৬ বছরের ক্যারিয়ারের শিরোপা খরার ইতি টানলেন কোপা জিতে। যে স্বপ্ন তিনি দীর্ঘদিন ধরে লালন করে আসছিলেন ৩৪ বছর বয়সে এসে তার স্বাদ পেলেন।
পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে দুর্দান্ত ছিলেন মেসি। বাঁ পায়ের জাদুতে যেন একাই টেনেছেন দেশকে। দলের ১২ গোলের মধ্যে ৯টিতে অবদান তার। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচ থেকে ফাইনাল পর্যন্ত ৭ ম্যাচ খেলে ৪ গোলের পাশাপাশি ৫ গোলে অ্যাসিস্ট করেন তিনি। কোপার সেরা খেলোয়াড় ও সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কারও উঠেছে এলএমটেন’র হাতে।
এই অর্জনে ইতিমধ্যে মেসির সঙ্গে তুলনা চলছে কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনার। সেরার তুলনায় এগিয়ে কে? ছিয়াশির মহানায়ক ম্যারাডোনা একক নৈপুণ্যে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ এনে দিয়েছেন। মেসিও বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েছিলেন। ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপের ফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে হেরে স্বপ্ন ভাঙে তার। অবশেষে কোপা জিতে যেন সেই ক্ষতে কিছুটা প্রলেপ দিলেন মেসি।
লাতিন ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে অবশ্য তেমন উজ্জ্বল পারফরম্যান্স নেই গত ২৫ নভেম্বর ৬০ বছর বয়সে ফুটবল বিশ্বকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমানো ম্যারাডোনার। দেশকেও কোপা আমেরিকা জেতাতে পারেননি তিনি। এমনকি ফাইনালে খেলতে পারেননি একবারও।
তিনবার কোপা আমেরিকায় খেলেছেন ম্যারাডোনা। আসরে ১২ ম্যাচ তার গোলের সংখ্যা ৪। অ্যাসিস্ট নেই একটিও। প্রথমবার ম্যারাডোনা কোপা খেলেন ১৯৭৯ সালে। ২ ম্যাচে করেন এক গোল। ১৯৮৭ আসরে ৪ ম্যাচে তার গোলের সংখ্যা ৩টি। ১৯৮৯ সালে ৬ ম্যাচ খেললেও কোনো গোলের দেখা পাননি তিনি।
অন্যদিকে এই আসরে ছিয়াশির মহানায়কের চেয়ে ঢের এগিয়ে মেসি। এলএমটেন প্রথম কোপায় খেলেন ২০০৭ সালে। নিজের প্রথম আসরেই ৬ ম্যাচে ২ গোলের পাশাপাশি অ্যাসিস্ট করেন একটি। এরপর আরও ছয়বার দেশকে কোপা জেতানোর স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামেন তিনি। ২০১১ সালে ৪ ম্যাচ খেললেও গোল পাননি মেসি। তবে সতীর্থদের দিয়ে করান ৩ গোল।
২০১৫ সালের কোপায় মেসির ৬ ম্যাচে গোল একটি এবং অ্যাসিস্ট ৩টি। ২০১৬ সালে ৫ ম্যাচে ৫ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট। ২০১৯ সালে ৬ ম্যাচে ১ গোল ও ১ অ্যাসিস্ট। ২০২১ সালে ৭ ম্যাাচে ৪ গোল ও ৫ অ্যাসিস্ট। সঙ্গে জিতলেন শিরোপাও। কোপায় মোট ৩৪ ম্যাচ খেলে ১৩ গোলের পাশাপাশি ১৭ গোল অ্যাসিস্ট করেছেন মেসি। একবার চ্যাম্পিয়ন হওয়া ছাড়াও তিনবার (২০০৭, ২০১৫ ও ২০১৬) ফাইনাল খেলেছেন তিনি।