অনলাইন ডেস্ক, ৮ জুলাই।। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আজ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সহায়তাপুষ্ট প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলির অধিকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এই মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ১০০ জনেরও বেশি অধিকর্তা যোগ দেন। কোভিডজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলির গবেষণা ও উন্নয়নধর্মী কাজকর্মের প্রশংসা করেন।
তিনি দ্রুত প্রযুক্তিগত সমাধানসূত্র খুঁজে বের করার লক্ষ্যে তরুণ উদ্ভাবকদের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন। পরিবর্তিত পরিস্থিতি ও উদ্ভূত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সক্ষম উচ্চ শিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষা প্রবর্তনের প্রয়োজনীয়তার ওপর প্রধানমন্ত্রী জোর দেন। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে প্রতিষ্ঠানগুলির পুনর্মূল্যায়ন এবং নতুনত্বকে আত্মস্থ করা প্রয়োজন, যাতে তারা দেশ ও সমাজের বর্তমান তথা ভবিষ্যৎ চাহিদা অনুযায়ী বিকল্প ও উদ্ভাবনমূলক মডেল উদ্ভাবন করতে পারে। ‘আমাদের উচ্চ শিক্ষা এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলিকে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ক্রমপরিবর্তনশীল পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে দেশের যুবসম্প্রদায়কে প্রস্তুত করে তুলতে হবে’, বলে প্রধানমন্ত্রী জোর দেন।
শ্রী মোদী এমন এক নমনীয়, সরল এবং শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী শিক্ষার সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দিতে শিক্ষা মডেল গড়ে তোলার লক্ষ্যে আরও উদ্যোগী হওয়ার কথা বলেন। এ সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের চাহিদা অনুযায়ী আদর্শ, নমনীয় ও সরল শিক্ষা ব্যবস্থার মূল মন্ত্রই হ’ল সমতা, সামঞ্জস্যতা ও সহজলভ্যতা। প্রধানমন্ত্রী গত কয়েক বছরে উচ্চ শিক্ষা ক্ষেত্রে নাম নথিভুক্তিকরণের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। এ সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, উচ্চ শিক্ষায় নাম নথিভুক্তিকরণের সংখ্যা বাড়ানোর ক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির ডিজিটাইজেশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এর ফলে, ছাত্রছাত্রীরাও সহজেই গুণগতমানের শিক্ষার সুযোগ-সুবিধা পাবে।
প্রধানমন্ত্রী অনলাইনে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর প্রদান কর্মসূচি চালু করার ক্ষেত্রে উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি যে সমস্ত উদ্যোগ নিয়েছে, তার প্রশংসা করেন। প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, “ভারতীয় ভাষাগুলিতে এমন এক প্রযুক্তি শিক্ষার অনুকূল বাতাবরণ গড়ে তুলতে হবে, যার ফলে আঞ্চলিক ভাষাগুলিতে বিশ্বের অগ্রণী প্রতিষ্ঠানগুলির প্রকাশিত জার্নাল বা সমীক্ষাপত্র অনুবাদ করা যাবে”। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আত্মনির্ভর ভারত অভিযান আগামী ২৫ বছরে, যখন আমরা স্বাধীনতার শতবার্ষিকী উদযাপন করবো, তখন ভারতের স্বপ্ন ও প্রত্যাশার ভিত্তি গড়ে দেবে। আগামী দশকে প্রযুক্তি তথা গবেষণা ও উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠানগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তখন এই দশককে ভারতের টেকএড হিসাবে গণ্য করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, প্রতিরক্ষা এবং সাইবার প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ভবিষ্যতমুখী সমাধান্সূত্র খুঁজে বের করার ওপর আমাদের অগ্রাধিকার দিতে হবে”। প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির পরিকাঠামোর মানোন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্মার্ট ওয়্যারেবল, অগমেন্টেড রিয়ালিটি সিস্টেম এবং ডিজিটাল অ্যাসিস্ট্যান্ট সংক্রান্ত সুযোগ-সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়। এ সম্পর্কে তিনি বলেন, আমাদের সুলভ, ব্যক্তি-কেন্দ্রিক এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-ভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দিতে হবে।
এই মতবিনিময় অনুষ্ঠানে ব্যাঙ্গালোরের ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অফ সায়েন্স – এর অধ্যাপক গোবিন্দন রঙ্গরাজন, বোম্বে আইআইটি-র অধ্যাপক শুভাশিষ চৌধুরী, মাদ্রাজ আইআইটি’র অধ্যাপক ভাস্কর রামামূর্তি এবং কানপুর আইআইটি-র অধ্যাপক অভয় কারান্ডিকা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে চালু বিভিন্ন কর্মসূচি ও গবেষণাধর্মী কাজকর্ম সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন। এছাড়াও, কোভিড সম্পর্কিত গবেষণা, নমুনা পরীক্ষার নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন, কোভিড টিকার উদ্ভাবন, সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটর, অক্সিজেন জেনারেটর, ক্যান্সার সেল থেরাপি, মডুলার হাসপাতাল, হটস্পট প্রেডিকশন, ভেন্টিলেটর উৎপাদন প্রভৃতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়।
এর পাশাপাশি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে নতুন শিক্ষা সূচি, বিশেষ করে যে সমস্ত পাঠ্যক্রম অনলাইন পদ্ধতিতে ছাত্রছাত্রীদের সুবিধার জন্য আর্থিক ও প্রযুক্তি সম্পর্কিত পরিবর্তিত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে, সে সম্পর্কেও শ্রী মোদীকে অবহিত করা হয়। এই মতবিনিময় অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রী ও বিভাগীয় প্রতিমন্ত্রী যোগ দেন।