স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ৪ জুলাই।। ব্যতিক্রমী কাজের মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করুন। নিষ্ঠা এবং দৃঢ়তার সাথে কাজ করলে সাফল্য আসবেই। আজ প্রজ্ঞা ভবনে স্বামী বিবেকানন্দের প্রয়াণের ১১৯ তম পুণ্যতিথিতে বিবেকানন্দ বিচার মঞ্চ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব। মুখ্যমন্ত্রী আজ প্রজ্ঞাভবনে আয়োজিত “ভারতীয় ব্যবস্থা ও ভারতীয় চিন্তা’’ এই ভাবনায় মন্থন শীর্ষক অনুষ্ঠানে স্বামী বিবেকানন্দের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি জনকল্যাণে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি ও প্রকল্পের সুযোগ সম্পর্কে আরও জনজাগরণ তৈরীর লক্ষ্যে ইতিবাচক প্রচারের উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। অনুষ্ঠানে রাজ্যে স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদানে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য স্বাস্থ্যকর্মী ও আশাকর্মীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। তাছাড়াও সততার নজির স্থাপনের জন্য আটো চালক সুজিত বরণ নাথ ও স্বনির্ভর কৃষক বিক্রমজিৎ চাকমাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব আরও বলেন, গতানুগতিকতার উর্দ্ধে নিজের ভাবনা এবং চিন্তননির্ভর কাজ, নিজেকে যেমন আরও বেশী সমৃদ্ধ করে তেমনি কার্য সম্পাদনেও গতি সঞ্চার করে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নিয়োগ নীতি থেকে শুরু করে, বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধাভোগী বাছাই, সরকার পরিচালনায় স্বচ্ছতার সাথে রাজ্যের সমস্ত অংশের মানুষের কল্যাণে কাজ করেছে সরকার। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী মার্গদর্শনে জনধন একাউন্ট হয়েছে বলেই বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা এখন সুবিধাভোগীগণ সরাসরি পেতে পারেন। এর ফলে কোন ধরনের কমিশন আদায়ের সুযোগ এখন নেই। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শ নিজেদের জীবন শৈলীতে অনুসরণ করারও পরামর্শ দেন। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব প্রথমেই ফোয়াইফাং স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কমিউনিটি হেলথ অফিসার সুমিত কুরিকে পাহাড়ি এলাকায় কোভিড় টিকাকরণের পাশাপাশি প্রতিকূল পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদানে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য সম্বর্ধিত করেন। কোভিডকে প্রতিহত করার ক্ষেত্রটিকে প্রাধান্য দিয়ে বৃষ্টির মধ্যেও আশাকর্মী সঙ্গীত দেব আচার্য নিষ্ঠার সাথে নিজের দায়িত্ব প্রতিপালন করে নিজ কমর্তবোর প্রতি দৃষ্টান্ত স্থাপনের জন্য এদিন মুখ্যমন্ত্রী দ্বারা সম্মানিত হন। এরপর মুখ্যমন্ত্রী হরিপদ দেববর্মা, অরুনা দেববর্মা, ঊষারাণী দেববর্মা, তরুবালা দেববর্মা, মিতা নাহা দাস রায়, শেফালী দেব ও শর্বরী পালকে সংবর্ধনা জ্ঞাপন করেন। তাঁরা প্রত্যেকেই বর্তমান সময়ে কর্মক্ষেত্রে নিষ্ঠার পরিচয় দিয়েছেন। একই সাথে কোভিড ভ্যাক্সিনেশনেও প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করে কাজ করে গেছেন। এদিনের অনুষ্ঠানে সম্বর্ধনা প্রাপকদের মধ্যে ছিলেন অটোচালক সুজিত বরণ নাথ। তিনি নিজের অটোতে ফেলে যাওয়া এক বাংলাদেশী নাগরিককের মূল্যবান স্বর্ণালংকার ও সামগ্রী ফিরিয়ে দিয়ে সততার অনন্য নজির সৃষ্টি করেন। এরপর সম্বর্ধনা প্রদান করা হয় উদ্যমী যুবক কৃষক বিক্রমজিৎ চাকমাকে। উল্লোখ, বিক্রমজিৎ চাকমা মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব রাজ্যের যুবক- যুবতিদের আত্মত্মনির্ভর হওয়ার যে আহ্বান জানিয়েছেন তাতে উনুপ্রাণিত হয়ে আপেল ও কুল চাষ করে আজ স্বনির্ভর হয়েছে। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বর্তমান সরকারের জনকল্যাণমুখী বিভিন্ন প্রকল্প সম্পর্কে জনজাগরণে ভূমিকা গ্রহণ করতে সবার প্রতি আহ্বান জানান। এদিনের অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন টিসিএ সভাপতি প্রফেসর ডঃ মানিক সাহা, বিবেকানন্দ বিচার মঞ্চের সভাপতি তথা ত্রিপুরা খাদি ও গ্রামোদ্যোগ পর্ষদের চেয়ারম্যান রাজীব ভট্টাচার্য, বিবেকানন্দ বিচার মঞ্চের সহ সভাপতি তথা ত্রিপুরা ক্রীড়া পরিষদের সচিব অমিত রক্ষিত, সাধারণ সম্পাদক তথা ত্রিপুরা ওয়াকফ বোর্ডের চেয়ারম্যান বাহারুল ইসলাম মজুমদার, প্রধান সচিব জে কে সিনহা, সচিব পি কে গোয়েল প্রমুখ।