অনলাইন ডেস্ক, ৩ জুলাই।। করোনাভাইরাসের নতুন নতুন ভ্যারিয়েন্টের কারণে নতুন ঢেউয়ে মহামারী পরিস্থিতি প্রলম্বিত হচ্ছে। করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে স্বাস্থ্যবিধি আর টিকাদানের ওপরই গুরুত্ব দিচ্ছে বিশেষজ্ঞরা। সুসংবাদ হচ্ছে- কভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে যত টিকা এখন পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলো এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করছে বলে প্রমাণ মিলছে গবেষণায়।
তবে করোনাভাইরাসের প্রথম দিকের ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে এসব টিকা যতটা কার্যকর ছিল, নতুন ভ্যারিয়েন্টের বেলায় কিছুটা কম। বিশেষ করে যারা কেবল টিকার প্রথম ডোজ পেয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে। পাবলিক হেলথ ইংল্যান্ডের এক গবেষণায় বলা হয়, ফাইজার বা অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার একটি ডোজ ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে মাত্র ৩৩ শতাংশ সুরক্ষা দেয়।
অন্যদিকে আলফা ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয় ৫০ শতাংশ। তবে যারা দুটি ডোজই নিয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে ফাইজারের বেলায় ৮৮ শতাংশ এবং অ্যাস্ট্রাজেনেকার বেলায় ৬০ শতাংশ সুরক্ষা পাওয়া যায়। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির এক স্বতন্ত্র গবেষণায় দেখা গেছে, ভারতে পাওয়া ডেল্টা এবং কাপা ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে ফাইজার এবং অ্যাস্ট্রাজেনেকার দুটি টিকাই কাজ করে। ‘সেল’ জার্নালে প্রকাশিত এক নিবন্ধে গবেষকরা বলেন, ‘এই টিকা ব্যাপকহারে অকার্যকর হচ্ছে এমন কোনো প্রমাণ নেই। এতে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে বর্তমান প্রজন্মের টিকাগুলো কাজ করছে।
’‘কিন্তু যেহেতু এই টিকাগুলো শতভাগ কার্যকর নয়, তাই টিকা দেওয়ার পরও বিভিন্ন ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত অনেককে হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে। এমনকি টিকা দেওয়া অনেক মানুষ, বিশেষ করে যারা কেবল একটি ডোজ নিয়েছে তাদের মধ্যে অনেকের মৃত্যুও ঘটবে’ বলছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)।
সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ১৪ জুন পর্যন্ত ১৪ কোটি ৪০ লাখ মানুষকে টিকার সবগুলো ডোজ দেওয়া হয়েছে। টিকা নেওয়ার পরও তাদের মধ্যে ৩ হাজার ৭২৯ জনের কভিড হয়েছে এবং ৬৭১ জন মারা গেছেন। যুক্তরাজ্যে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পর ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডে বয়স্ক মানুষদের বেলায় টিকার প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজের মাঝের সময় কমিয়ে আনা হয়।