স্টাফ রিপোর্টার, আমবাসা, ০২ জুলাই।। গন্ডাছড়ায় এ বছরের ১৫ই আগস্টের মধ্যে পি ডব্লিউ ডি জেনারেল ডিভিশন চালু করা হবে। সড়ক, সেতু, পানীয়জল ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরিষেবার জন্য তখন মানুষকে আর অন্যত্র ছুটে যেতে হবে না। এই ডিভিশনেই গন্ডাছড়া এলাকার মানুষ সমস্ত রকমের সুযোগ সুবিধা পাবেন।
গন্ডাছড়া মহকুমায় ৩৬টি কোয়ার্টার কমপ্লেক্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, একটা সময়ে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মচারীদের গন্ডাছড়ায় ট্রান্সফার করা হলে তাকে শাস্তিমূলক ট্রান্সফার হিসেবে ধরে নেওয়া হতো। কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন পরিষেবা এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের ফলে বদলে যাচ্ছে গন্ডাছড়ার চেহারা।
কর্মচারীগণ এখন গন্ডাছড়ায় পোস্টিং নিতে আগ্রহী। এটাই সরকারের উন্ননয়মূলক দৃষ্টিভঙ্গির নির্দশন। একটা সময়ে গন্ডাছড়ার সঙ্গে প্রত্যন্ত শব্দটাকে জুড়ে দিয়ে এই অঞ্চলের মানুষদের অপমান করা হতো। প্রকৃতির আশির্বাদধন্য নারিকেলকুঞ্জ, ডুম্বুর পর্যটক কেন্দ্র রয়েছে এই অঞ্চলে। যা চাক্ষুস করার জন্য গোটা দেশের মানুষ উৎসুক। এই অঞ্চলের মানুষ মৎস্য চাষের উপর নির্ভরশীল।
এখানকার প্রায় হাজার মৎস্যচাষীদের ডুম্বুর জলাশয়ের উন্নয়নে ৪১ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। তার পাশাপাশি মন্দিরঘাট থেকে উন্নত সড়ক তৈরির লক্ষ্যে ৫২ টাকার টেন্ডার ইতিমধ্যেই হয়ে গেছে। আজ গঙ্গানগরে চালু হওয়া ১৩২ কেভি বিদ্যুৎ ট্রান্সমিশন লাইন ডিসেম্বরের মধ্যেই গন্ডাছড়া পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হবে।
তিনি বলেন, মানুষের জন্য কাজ করতে আন্দোলনের প্রয়োজন হয় না। কেন্দ্রে এবং রাজ্য সরকারের প্রচেষ্টায় রাজ্যের সার্বিক বিকাশ ত্বরান্বিত হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিগত ৭ বছর যাবৎ রাজ্যের কর্মচারীদের পদোন্নতি স্থগিত ছিল যার ফলে এই সময়কালের মধ্যে ২৫ হাজারের উর্দ্ধে কর্মচারী যারা অবসরে গেছেন পদোন্নতি না পাওয়ার ফলে অর্থনৈতিকভাবে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
বর্তমান সরকার যখন আইন মেনে তাদের পদোন্নতির পথে হাঁটছে তখন এই সিদ্ধান্তকে বিরোধী দল সংবিধান বিরোধী বলে আখ্যায়িত করছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কর্মচারীরা যেমন সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করার লক্ষ্যে নাগরিক পরিষেবা দিতে অক্লান্ত পরিশ্রম করেন তেমনি তাদের অধিকার আদায়ের বিষয়টিও সরকার গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে ৭ লক্ষ পরিরবারকে রেশনের মাধ্যমে খাদ্য সামগ্রীর প্যাকেট ও তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ১ হাজার টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্দেশিত পথে জনধন অ্যাকাউন্ট হয়েছিল বলেই সরাসরি এখন মানুষের অ্যাকাউন্টে এই টাকা পাঠানো যাচ্ছে। রাজ্য সরকার মানবিক কারণেই করোনা কার্ফুর সময়ে রাজ্যের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গন্ডাছড়া এখন আর প্রত্যন্ত অঞ্চল নয়। গোটা রাজ্যে যে উন্নয়নের কর্মযজ্ঞ চলছে তারমধ্যে অন্যতম এই জনপদ। বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকগণ এখানে থেকে যেন মানুষের কল্যাণে আরও বৃহৎ পরিসরে কাজ করতে পারে সেই লক্ষ্যেই টাইপ-১, টাইপ-২, টাইপ-৩, টাইপ-৪ ক্যাটাগরির মোট ৩৬টি কোয়ার্টার নির্মাণ করা হয়েছে।
ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুসারে আরও কোয়ার্টার নির্মাণ করার বিষয়ে সরকার বিবেচনা করবে। অনুষ্ঠানে সাংসদ রেবর্তী ত্রিপুরা বলেন, বিভিন্ন কারণে কর্মচারীরা গন্ডাছড়ায় আসতে চাইত না। তৎকালীন নেতৃত্বের অনিহার ফলেই পিছিয়ে ছিল গন্ডাছড়া। কিন্তু এই সরকারী আবসনগুলি নির্মাণ হওয়ার ফলে এখানে থেকেই মানুষের কল্যাণে আধিকারিকগণ মনোনিবেশ করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সাংসদ আরও আশা প্রকাশ করেন, এই অঞ্চলের উন্নয়নে গতি সঞ্চার করতে আগামীদিনে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবের নেতৃত্বে রাজ্য সরকার আরও সদর্থক দৃষ্টিভঙ্গী নিয়ে কাজ করবে। অনুষ্ঠানে পূর্ত দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে বলেন, গন্ডাছড়া একটি বড় মহকুমা। আধিকারিকগণের স্থায়ীভাবে এখানে থাকার ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা ছিল।
আধিকারিকদের জন্য এই সরকারি আবাস তৈরির ফলে এখন থেকে তারা এখানে থেকেই সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পগুলি মানুষের কল্যাণে রূপায়িত করতে পারবেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক ধনঞ্জয় ত্রিপুরা, ত্রিপুরা স্বশাসিত জেলা পরিষদের এমডিসি ভূমিকানন্দ রিয়াং, ধলাই জেলার জেলশাসক ময়ূর গোবেকর রতিলাল প্রমুখ।