CM Biplab Kumar Deb : রাজ্যের প্রতিটি জনপদের সার্বিক উন্নয়নে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে সরকার, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার, আমবাসা, ০২ জুলাই।। রাজ্যের প্রতিটি জনপদের সার্বিক উন্নয়নে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে সরকার। আমবাসা-গঙ্গানগর ১৩২ কেভি বিদ্যুৎ ট্রান্সমিশন লাইন চালু হওয়ার জন্য এলাকার জনসাধারণকে ১৩ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার মাত্র ৩ বছর সময়ের মধ্যেই এই ট্রান্সমিশন লাইনের উদ্বোধন হল আজ।

এখানেই মানিসকতার পার্থক্য। আজ আমবাসা গঙ্গানগর ১৩২ কেভি বিদ্যুৎ ট্রান্সমিশন লাইনের সূচনা ও গঙ্গানগর প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের নতুন
ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব৷ আজ
অনুষ্ঠান শুরুর আগে মুখ্যমন্ত্রী গঙ্গানগরে ১০ শয্যা বিশিষ্ট প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রর নতুন ভবন ও
আমবাসা-গঙ্গানগর ১৩২ কেভি ট্রান্সমিশন লাইনের উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপমুখ্যমন্ত্রী যীষ্ণু দেববর্মা, সাংসদ রেবতী ত্রিপুরা, বিদ্যুৎ দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে, বিধায়ক ধনঞ্জয় ত্রিপুরা, ত্রিপুরা স্বশাসিত জেলা পরিষদের এমডিসি ভূমিকানন্দ রিয়াং, বিদ্যুৎ নিগম লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর এম এস কেলে, পরিবার কল্যাণ ও রোধ প্রতিরোধক দপ্তরের অধিকর্তা ডা. রাধা দেববর্মা, জেলাশাসক ময়ূর গোবেকর রতিলাল প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গঙ্গানগর, রইস্যাবাড়ির মত জনপদগুলির জল, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার সম্প্রসারণে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কাজ করছে সরকার। কারণ একটি জনপদকে পিছিয়ে রেখে সামগ্রিক উন্নয়ন কোনভাবেই সম্ভব নয়। চিকিৎসা ব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যেও গুরুত্ব আরোপ করেছে সরকার।

এই প্রাথমিক স্বাস্থা কেন্দ্রের ফলে এলাকার ৪ হাজার পরিবার চিকিৎসা পরিষেবার সুযোগ পাবেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আন্দোলন দিয়ে মানুষের উন্নয়ন করা যায় না। উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন সঠিক দিশায় কর্ম পরিচালনা। মানুষের স্বার্থে কিভাবে বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা গ্রামীণ এলাকায় পৌঁছে দিতে হয় তা বর্তমান সরকার করে দেখাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমবাসা-গঙ্গানগর বিদ্যুৎ পরিবাহী লাইন সম্প্রসারণের কাজ দীর্ঘ ১৩ বছর যাবৎ আটকে ছিল।

কিন্তু বর্তমান সরকার দায়িত্বভার গ্রহণ করার মাত্র ৩ বছরের মধ্যে আমবাসা-গঙ্গানগর পর্যন্ত মানুষদের স্থায়ী বিদ্যুৎ পরিষেবা দিতে এই পরিষেবাটি আজ চালু করেছে। এটাই হচ্ছে ডবল ইঞ্জিন সরকারের সাথে মানসিকতার পার্থক্য। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার প্রধানমন্ত্রীর মার্গ দর্শনে বিভিন্ন জনকল্যাণমুখী পরিষেবার সুযোগ রাজ্যের অন্তিম মানুষের কাছে পৌছে দিচ্ছে।

এটাই পরিবর্তন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার মন কি বাত অনুষ্ঠানে ত্রিপুরা নাগরিকদের মানসিকতার পাশাপাশি তাদের বিভিন্ন সুদক্ষ কর্মকান্ডের খতিয়ান তুলে ধরেছেন। যার মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে ত্রিপুরার কাঠাল, বাশবেতের তৈরি সামগ্রী ও রাজ্যের প্রতাপগড় গোবিন্দবাড়ি সহ বিভিন্ন অঞ্চলের কথা। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শুধুমাত্র প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও এদিন চালু হওয়া বিদ্যুৎ প্রকল্পটিই
নয় গঙ্গানগরের সার্বিক উন্নয়নে রাস্তার ডি পি আর তৈরি করা হচ্ছে।

ব্যাঙ্ক, ফায়ার স্টেশন সহ আরও বিভিন্ন পরিষেবায় আধুনিকীকরণ আনা হবে এই অঞ্চলে। বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে জনজাতি এলাকার ১২টি এসপিরেশন্যাল ব্লকের মাধ্যমে মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ চলছে। আগের তুলনায় বেড়েছে রেগার শ্রমদিবস। অটল জলধারা মিশন ও জল জীবন মিশনের মাধ্যমে প্রতিটি জনপদে পানীয়জল পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণে এদিন বৃক্ষরোপনও করেন মুখ্যমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে উপমুখ্যমন্ত্রী বীষ্ণু দেববর্মণ বলেন, বিগত সরকার ৯০ শতাংশ বিদ্যুৎ মাশুল বৃদ্ধি করেও রাজ্যে বিদ্যুৎ পরিষেবার তেমন উন্নতি ঘটাতে পারে নি। কিন্তু মানুষের উপর কোন ধরণের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ মাশুল না চাপিয়েও কি করে বিদ্যুৎ পরিষেবার উন্নতি করা যায় তা করে দেখাচ্ছে বর্তমান রাজ্য সরকার।

গ্রাহকদের কাধে মাশুলের বোঝা চাপানোর পরিবর্তে বিভিন্ন সংস্থা থেকে অর্থ বন্দোবস্ত করে রাজ্য সরকার এই বিদ্যুৎ প্রকল্পটি চালু করেছে। স্বাধীনতার পর প্রথম পর্যন্ত এই ধরণের বিদ্যুৎ পরিষেবা চালু হল। ১৩ বছরের দীর্ঘ প্রতিক্ষিত এই প্রকল্পটি মাত্র ৩ বছরের মধ্যেই চালু করতে পেরেছে রাজ্য সরকার। এটাই ডবল ইঞ্জিনের সরকার। ডিসেম্বর মাসের মধ্যে এই পরিষেবা গন্ডাছড়া পর্যন্ত সম্প্রসারণের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।

তাছাড়াও আরও ৩৪টি বিদ্যুৎ সাব স্টেশন তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ নিগমের আরও আধুনিকীকরণের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ দপ্তরের সচিব কিরণ গিতো বলেন, রাজ্য সরকারের সদিচ্ছার ফলেই এত দ্রুত এই বিদ্যুৎ প্রকল্পটি চালু করা সম্ভব হয়েছে। আজ থেকে স্থায়ী বিদ্যুৎ পরিষেবা পাবেন এই অঞ্চলের মানুষ।

গোটা রাজ্যে উন্নত বিদ্যুৎ পরিষেবা দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। এদিন গঙ্গানগরে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব এক জনজাতি পরিবারের বাড়িতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী কোভিড স্পেশাল প্যাকেজ প্রকল্পে খাদ্য সামগ্রীর প্যাকেট পেয়েছেন কিনা জানতে চান। পরিবারের এক সদস্য বাড়িতে রাখা সেই প্যাকেট এনে মুখ্যমন্ত্রীকে দেখান।

 

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চ্যাট খুলুন
1
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠান
হেলো, 👋
natun.in আপনাকে কিভাবে সহায়তা করতে পারে?