Dragon Fruit : ড্রাগন ফল চাষ করে এখন আত্মনির্ভরতার পথে বিশালগড়ের প্রবীণ কৃষক আশুতোষ পাল

৷৷ কাকলী ভৌমিক ।। কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করার লক্ষ্যে গতানুগতিক ফসল উৎপাদনের পাশাপাশি রাজ্যের মাটি ও জলবায়ুর অনুকূল বিভিন্ন প্রজাতির অর্থকরি ফসল উৎপাদনে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। চাহিদা না থাকায় একটা সময়ে ড্রাগন ফল চাষে রাজ্যের কৃষকদের তেমন আগ্রহ ছিলনা কিন্তু খাদ্যগুণ ও রোগ নিরাময় উপাদান সম্পন্ন এই ফলের চাহিদা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন রাজ্যে ড্রাগন ফলের চাষ বাড়ছে। কৃষকরাও লাভের মুখ দেখছেন। কৃষকদের উৎসাহিত করতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা সহ পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করছে উদ্যানপালন ও ভূমি সংরক্ষণ দপ্তর।

চাষাবাদের কাজে ভর্তুকীতে পেয়েছেন পাওয়ার টিলার। আত্মা প্রকল্পে আর্থিক সহায়তায় বিশালগড় মহকুমার প্রবীণ কৃষক আশুতোষ পাল ড্রাগন ফল চাষ করে আজ আত্মনির্ভর। ফুল ও কৃষিকাজের সাথে যুক্ত থাকলেও ড্রাগন ফল চাষের কোন অভিজ্ঞতা ছিলনা।

২০২০-২১ অর্থবছরে চড়িলাম কৃষকবন্ধু কেন্দ্রের সহায়তায় ১০০ জনকে উন্নত ও আধুনিক চাষাবাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তার থেকে উৎসাহিত হয়েই ড্রাগন ফল চাষে উদ্যোগী হন। বিশালগড় মহকুমার কৃষি তত্বাবধায়ক কার্যালয় থেকে আত্মা প্রকল্পে ৪৯ হাজার ২২৫ টাকা আর্থিক সহায়তা করা হয়।

বাড়ির পাশের এককানি জমিতে ড্রাগন ফলের চাষের উদ্যোগ নেন চন্দ্রনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা আশুতোষ পাল। আত্মা প্রকল্পের অর্থানুকূল্যে প্রাপ্ত সহায়তামূলক অর্থরাশি দিয়ে সিমেন্টের পিলার ও ১৩০টি চারা সংগ্রহ করেন। সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে প্রাপ্ত প্রশিক্ষণ ও সহায়তায় মাথা তুলে দাড়িয়েছে ড্রাগন গাছগুলি। ফলনও হয়েছে ভাল।

আশুতোষ পাল আগে থেকেই নিজের বাড়িতেই বিভিন্ন ফল, সব্জি ও ফুল চাষ করতেন। পাশাপাশি নিজের বাড়িতে মাছ চাষও করেন। জীবিকা নির্বাহের জন্য কৃষিকাজই তার অন্যতম উৎস। ভালো রোজগার পেতেন। রোজগার বৃদ্ধির লক্ষ্যে তিনি ড্রাগন ফল চাষে উৎসাহিত হন।

এতেই তিনি সাফল্যের মুখ দেখেন। উৎপাদিত ড্রাগন ফল বাজারজাত করে তার ভালো আয় হবে বলে দৃঢ় বিশ্বাসী কৃষক আশুতোষ পাল। কৃষি বিভাগের আত্মা প্রকল্পে ১৬ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তায় ড্রাগন ফলের বাগানের পাশেই তিনি এই তরমুজ চাষ করছেন। এই মরশুমে উৎপাদিত তরমুজ বিক্রি করে তার ভালো রোজগার হয়েছে।

ড্রাগন ও তরমুজের পাশাপাশি এককানি জয়গায় নিজের দুটি পুকুরে চাষ করছেন কই ও রুইমাছ। মৎস দপ্তর থেকে মিলেছে মাছের পোনা, খাবার সহ প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ। মাছ বিক্রি করেই মাসে প্রায় ১১ হাজার টাকা উপার্জন করছেন। এছাড়াও ঋতুভিত্তিক ডাল শস্য, ফুল, শাকসব্জি চাষ করার উদ্যোগ নিয়েছেন।

৮০ বছরের এই প্রবীণ কৃষক এখন অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার আরেক নাম। এইভাবেই রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সহায়তায় আত্মনির্ভরতার নিশ্চিত পথ খুঁজে পাচ্ছেন অনেকেই। তাকে দেখে উৎসাহিত হচ্ছেন অন্য কৃষকগণ।

 

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চ্যাট খুলুন
1
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠান
হেলো, 👋
natun.in আপনাকে কিভাবে সহায়তা করতে পারে?