স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ২৪ জুন।। কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়ার দায়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এক গৃহবধূকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে। ঘটনা রাজধানী আগরতলা শহর সংলগ্ন দক্ষিণ রামনগরে। রাজ্যে নারী নির্যাতনের ঘটনা উপর্যপরি বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে। আগরতলা শহর সংলগ্ন দক্ষিণ রামনগরে সৃষ্টি ক্লাবের পার্শ্ববর্তী মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় এক গৃহবধূকে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন পিটিয়ে রক্তাক্ত করেছেন। আক্রান্ত গৃহবধূর নাম জোৎস্না বেগম।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, জোসনা বেগম এর তিনটি কন্যা সন্তান এবং একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। পুত্রসন্তান দিব্যাঙ্গ। কন্যা সন্তান এবং দিব্যাঙ্গ পুত্র সন্তান জন্ম দেয়ায় গৃহবধূ জোৎস্না বেগম এর উপর তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন দীর্ঘদিন ধরেই নির্যাতন চালিয়ে আসছেন। গত দু’বছর ধরে নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। বৃহস্পতিবার গৃহবধূকে তার স্বামী ও শাশুড়ি মারধর করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। পরবর্তী সময়ে তার তিন ননদ ও ননাস এসেও তাকে মারধর করে বলে অভিযোগ।
তাদের মারধরে গৃহবধূ আহত হলে গৃহবধুটি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু তাকে হাসপাতালে যেতে দেওয়া হয়নি। ঘরের ভিতরে আটকে রেখে তাকে গায়ে কেরোসিন ঢেলে হুমকি দেয়া হয় বলে জানিয়েছে গৃহবধূ। ঘটনার পর গৃহবধূর বাপের বাড়ির লোকজনরা ছুটে এসে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরিবারের লোকজন তাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেয়নি বলে অভিযোগ। এ ব্যাপারে থানায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ এ ব্যাপারে মামলা গ্রহণ করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তবে এখনো পর্যন্ত অভিযুক্ত স্বামী আলমগীর মিয়াকে গ্রেপ্তার এর কোনো সংবাদ নেই। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।