মরিচ চাষ করে স্বাবলম্বী কাঁঠালিয়ার জনজাতি যুবক মানিক নোয়াতিয়া

।।

অমৃত দাস ।। গ্রামীণ এলাকার জনজাতি অংশের মানুষকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্যের কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তর। এজন্য দপ্তর থেকে জানজাতির অংশের কৃষকদের আর্থিক ভাবে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। রাজ্য সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টায় ও কৃষি দপ্তরের অর্থানুকূল্যে মরিচ চাষ করে স্বাবলম্বী হয়ে নজির স্থাপন করলেন কাঁঠালিয়া ব্লকের অধীন মনাইপাথর ভিলেজের যুবক মানিক নোয়াতিয়া কৃষি দপ্তরের দেওয়া লক্ষাধিক টাকার বিভিন্ন সহায়তা সামগ্রী নিয়ে মরিচ ফলনে মুনাফা অর্জনের মধ্য দিয়ে আজ এলাকার অন্যদের কাছেও অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছেন এই যুবক।রাজ্যের বেকার যুবকদের আত্মনির্ভর করে তুলতে বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়েছে বর্তমান সরকার।

কৃষি ক্ষেত্রে বেকারদের স্বনির্ভর করাও এরমধ্যে অন্যতম একটি সরকারি উদ্যোগ। এজন্য প্রতি বছরই কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তর থেকে জনজাতি জুমিয়া পরিবারগুলির আর্থ সামাজিক মান উন্নয়নে আনারস, কলা, লেবু, পেঁপে, নারকেল, সুপারি, মোসাম্বি সহ বিভিন্ন জাতের ফলের চারা দিয়ে সহায়তা করা হয়। যদিও সঠিক নজরদারি এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অনেক সময়েই সফল হয় না। তবে ব্যতিক্রমী মানসিকতার এমন কিছু লোকও রয়েছেন যারা সরকারি সহায়তার সুযোগকে বিফলে যেতে দেন না। সোনামুড়া মহকুমার কাঠালিয়া ব্লকের অধীন মনাইপাথর ভিলেজের এমনই এক পরিশ্রমী ও উদ্যমী যুবক মানিক নোয়াতিয়া।

নিজ এলাকার দেড় কানি পতিত জঙ্গলাকীর্ণ টিলা ভূমিকে চাষযোগ্য করে তুলে সেখানে মরিচের চারা রোপণ করেন তিনি। কাঁঠালিয়া কৃষি মহকুমা তত্বাবধায়ক প্রশান্ত দেববর্মা তাকে এই কাজে উৎসাহ দেন। কৃষি আধিকারিক জানিয়েছেন, উদ্যমী যুবক মানিক নোয়াতিয়াকে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পে ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা ব্যয়ে একটি মিনি পাওয়ারটিলার, একটি পাম্পসেট, জঙ্গল পরিষ্কারের যন্ত্র একটি ব্যাটারি চালিত স্প্রে মেশিন ও একটি বীজ বপন যন্ত্র দেওয়া হয়। কৃষি দপ্তর রাষ্ট্রীয় খাদ্য মিশন প্রকল্পে মরিচ চাষী মানিক নোয়াতিয়ার জমিতে ২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে একটি সাব মার্সিবল। পাম্প সেট বসানোর পরিকল্পনা নিয়েছে।

কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তরের সার্বিক সহায়তায় নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে আজ মুখে হাসি ফুটেছে এক সময়ের দিনমজুর মানিক নোয়াতিয়া ও তার পরিবারের। এখন তার মরিচ ক্ষেতেই ২ জন স্থানীয় শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে। সাক্ষাতে এই উদ্যমী যুবক জানান, আগে দিনমজুরি করে সংসার চালাতে গিয়ে ঋণগ্রস্ত হয়ে পরেছিলেন। এখন মরিচ চাষ করে শুধু প্রথম বছরেই প্রায় ৩ লক্ষ টাকা আয় করে আর্থিকভাবে অনেকটাই স্বচ্ছল হয়েছেন। সেই অর্থে সমস্ত ঋণ পরিশোধ করেন এবং নিজের ব্যবহারের জন্য ১ লক্ষ ১১ হাজার টাকা দিয়ে একটি নতুন মোটর বাইক কিনেছেন। এখন আর তাকে দিনমজুরি করতে হয় না। মানিক নোয়াতিয়ার মরিচ চাষের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে এলাকার অমল ত্রিপুরা, গুপ্তরায় ত্রিপুরা, রবি কুমার নোয়াতিয়া সহ অন্যরাও এখন আত্মনির্ভর হওয়ার স্বপ্নের জাল বুনছেন।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চ্যাট খুলুন
1
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠান
হেলো, 👋
natun.in আপনাকে কিভাবে সহায়তা করতে পারে?