স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ২১ জুন।। সংরক্ষণ নীতির কোন তোয়াক্কা না করেই ছাত্র ভর্তি করাচ্ছে ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়৷ ২০২০-২১ সালের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য যে প্রসপেকটাস প্রকাশ করেছে তাতে পিএইচডি ভর্তির ক্ষেত্রে সংরক্ষণ নিয়ম মেনে আসন ভাগের কোন উল্লেখ নেই৷
বিগত কয়েক বছর ধরেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এভাবে সংরক্ষণ নীতি অমান্য করে আসছে৷ সোমবার এই বিষয়ে এক বিবৃতিতে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, রাজ্য কমিটি এই অভিযোগ তুলেছে৷ ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয় তাদের ২০২০-২১ সালের যে প্রসপেকটাস প্রকাশ করেছে তাতে সংরক্ষণ নিয়ম মেনে আসন ভাগের কোন উল্লেখ নেই৷
সংরক্ষণ নিয়ম না মানার কারণে ২০১৮ সালেই বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি আয়োগ ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়কে এক চিঠিতে হুঁশিয়ারী দিয়েছিল৷ কিন্তু ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয় তার নিজস্ব পথেই হাঁটছে৷ ফলে আইনি অধিকার থাকা সত্ত্বেও গবেষণার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়ে চলছে একাংশ তপশিলি জাতি, তপশিলি উপজাতি সহ পিছিয়ে পড়া গোষ্ঠীর ছেলেমেয়েরা৷
অথচ সংরক্ষণের সুবিধা প্রাপক সমস্ত জাতি গোষ্ঠীর ছাত্রছাত্রীদের গবেষণার ক্ষেত্রে আরও বেশি করে এগিয়ে নিয়ে যেতে ২০১৬ সাল থেকেই কেন্দ্র সরকার এক বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে৷ সংরক্ষণের ছাড় নিয়েও পিএইচডি আসন খালি পড়ে থাকলে পরবর্তী সময় বিশেষ ভর্তি প্রক্রিয়ার আয়োজন করে আসন পূরণ করতে বলছে কেন্দ্র সরকার৷ ঠিক উল্টো দিকে হাঁটছে ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়৷
ছাত্র সংগঠনের পক্ষে রাজ্য সম্পাদক কৌশিক দাস বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করেন যে ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু সংরক্ষণ নিয়ম অমান্য করছে তা নয়, পিএইচডি পরীক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রেও নিজেদের মর্জিমত প্রশ্ণপত্র তৈরি করেছে৷ শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ই নয় বিভিন্ন বিভাগগুলিও গবেষণায় ছাত্র ভর্তির ক্ষেত্রে নিজেদের মত করে তৈরি করছে প্রশ্ণপত্র৷
ফলে গবেষণার ছাত্রছাত্রীদের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে চরম বৈষম্য৷ ফলে দেখা যাচ্ছে গবেষণার ক্ষেত্রে অন্যান্য প্রবেশিকা পরীক্ষায় অনেক কম নম্বর পেয়েও ছাত্রছাত্রীরা গবেষণার সুযোগ পেলেও কর্তৃপক্ষের স্বেচ্ছাচারিতার শিকার হচ্ছে ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা৷
সব মিলিয়ে আখেরে ক্ষতি হচ্ছে ছাত্রছাত্রীদের৷ সোমবার এই বিষয়ে বিস্তারিত অভিযোগ তুলে বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের নজরে নিয়েছে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন৷ নতুন করে সংরক্ষণ নিয়ম মেনে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন পিএইচডি আসনে আবার ভর্তি পরীক্ষা নিতে দাবি তুলেছে সংগঠন৷