স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ২১ জুন।। কোভিড অতিমারির এই সময়ে যোগাভ্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যোগা আমাদের দেশেরই প্রাচীন এক পরম্পরা। প্রাচীনকালে মানুষ যোগচর্চার মাধ্যমে নিজেদেরকে সুস্থ ও নিরোগ রাখতেন। সুস্থ ও নিরোগ শরীরের জন্য প্রাচীন এই পরম্পরাকে নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করতে হবে।
আজ এনএসআরসিসি’র ইন্ডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত আন্তর্জাতিক যোগা দিবসে বক্তব্য রাখতে গিয়ে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব। রাজ্য সরকারের যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া দপ্তরের উদ্যোগে রাজ্য আয়ুষ মিশন এর সহায়তায় আন্তর্জাতিক যোগা দিবস অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর অন্যান্যদের সাথে যোগা অনুশীলনে অংশ নেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, করোনা সংক্রমণের প্রথম পর্বে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বলেছিলেন শারীরিক সুস্থতার লক্ষ্যে আয়ুষ মন্ত্রকের দিশা ও যোগাভ্যাস আমাদের অনুসরণ করা উচিত। করোনা অতিমারির এই সঙ্কটের মধ্যেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মার্গদর্শনে আমাদের দেশ আত্মনির্ভর হয়ে উঠার লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী করোনা সংক্রমণ নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থেকে করোনা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নিয়মিত শরীরচর্চা আমাদের সুস্থতার জন্য একটি অত্যাবশ্যকীয় অভ্যাস। আমাদের রাজ্যে শহর থেকে গ্রাম সর্বত্রই যোগা বা শরীরচর্চার অভ্যাস দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে।
রাজা থেকে অনেকেই জাতীয় আসরের ইভেন্টগুলিতে অংশগ্রহণ করেছেন। যোগাভ্যাসের এই পরিধিকে আরও বিস্তৃতভাবে সমগ্র রাজ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে যোগচর্চাকে নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করতে পারলেই যোগা দিবসের সার্থকতা আসবে।
মুখ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন সকলের সর্বাঙ্গীন সহযোগিতায় কোভিডের প্রথম ঢেউয়ের মতো দ্বিতীয় ঢেউকেও মোকাবিলা করতে রাজ্য সম্পূর্ণ সক্ষম হবে। সুস্থ দেহ ও সুস্থ মন গড়ে তুলতে মুখ্যমন্ত্রী সবার প্রতি নিয়মিত যোগাভ্যাস ও শরীরচর্চা করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া মন্ত্রী মনোজ কান্তি দেব বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রেরণায় ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগা দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়েই অধিকাংশ রাষ্ট্র এই দিনটিকে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস হিসেবে পালন করে আসছে।
রাজ্যে যোগাভ্যাসের পরিসর আরও বিস্তারের ক্ষেত্রে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব গুরুত্ব আরোপ করেছেন। ক্রীড়ামন্ত্রী বলেন, গতবছর আয়ুষ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় রাজ্যের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীদের যোগাভ্যাসে উৎসাহিত করতে ৫০ লক্ষ টাকার যোগা ম্যাট বিতরণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, যোগার জাতীয় ইভেন্টগুলিতে ত্রিপুরার অংশগ্রহণকারীদের সাফল্য উল্লেখযোগ্য। করোনাজনিত কারণে যখন খেলাধূলার চর্চা বন্ধ, সেই সময়ে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে যোগার ভূমিকা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া দপ্তরের সচিব শরদিন্দু চৌধুরী, ত্রিপুরা স্পোর্টস কাউন্সিলের সম্পাদক অমিত রক্ষিত, যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া দপ্তরের অধিকর্তা সুবিকাশ দেববর্মা প্রমুখ।