অনলাইন ডেস্ক, ১৯ জুন।। ইরানে প্রথম দফার নির্বাচনে বিপুল ভোটে এগিয়ে থাকায় কট্টরপন্থী এব্রাহিম রাইসি দেশটির পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি। রাইসি ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান এবং তার মতাদর্শ অতি-রক্ষণশীল। তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এবং অতীতে রাজনৈতিক বন্দীদের মৃত্যুদণ্ডের সঙ্গেও তার সম্পর্ক রয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলী খামেনির পর প্রেসিডেন্ট দেশটির দ্বিতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তি। ইরানের অভ্যন্তরীণ নীতিমালা ও পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে প্রেসিডেন্টের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। তবে সুপ্রিম নেতা আয়াতোল্লাহ আলী খামেনি রাষ্ট্রীয় বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকেন। ৬০ বছর বয়সী রাইসি তার কর্মজীবনের বেশিরভাগ সময় সরকারি কৌঁসুলি হিসেবে কাজ করেছেন।
তাকে ২০১৯ সালে বিচার বিভাগের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর দু’বছর আগে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি হাসান রুহানির কাছে বড় ব্যবধানে পরাজিত হন। রাইসি দেখিয়েছেন যে ইরানে দুর্নীতি মোকাবেলা এবং অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানে তিনিই হবেন সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি। তবে ১৯৮০-এর দশকে রাজনৈতিক বন্দীদের যেভাবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে তাতে রাইসির ভূমিকা নিয়ে বহু ইরানি এবং মানবাধিকার কর্মী এর আগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
ইরান কখনো এই গণ-মৃত্যুদণ্ডের কথা স্বীকার করেনি এবং এতে রাইসির ভূমিকা নিয়ে যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে- সেবিষয়ে তিনি কখনো কিছু বলেন নি।বিবিসির ফার্সি বিভাগের কাসরা নাজি বলছেন, রাইসির অধীনে কট্টরপন্থীরা ইসলামি অনুশাসন মেনে সরকার পরিচালনার ব্যাপারে আরো কঠোর হবেন যার অর্থ সামাজিক কার্যক্রমের ওপর আরো বেশি নিয়ন্ত্রণ, নারীদের কর্মসংস্থান ও স্বাধীনতা কমে যাওয়া এবং সংবাদ মাধ্যমসহ সোশাল মিডিয়ার ওপর আরো বেশি নিয়ন্ত্রণ আরোপ হবে।