স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ১৬ জুন।। রাজ্যের বিদ্যুৎ পরিষেবা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছে৷ বিদ্যুৎ ব্যবস্থা অক্ষুন্ন রাখতে সরকারের যে ভূমিকা কতটা উদাসীন তা তুলে ধরল ত্রিপুরা বিদ্যুৎ কর্মী ইউনিয়ন৷ সারা রাজ্যে বিদ্যুতের অব্যবস্থা চলছে৷
২০১৯ সালে সেপ্টেম্বর মাসে রাজ্যের ৫টি ডিভিশন বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে৷ তারপর থেকে সেই পাঁচটি ডিভিশনে পরিষেবা ভেঙে পড়েছে৷ পাঁচটি ডিভিশনের গ্রাহকদের অত্যন্ত সমস্যার মধ্যে দিন যাপন করতে হচ্ছে৷
তাই সেই বেসরকারিকরণ করা পাঁচটি ডিভিশন যাতে পুনরায় বিদ্যুৎ কর্পোরেশনের হাতে তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করে তার জন্য বুধবার ত্রিপুরা বিদ্যুৎ কর্মী ইউনিয়নের পক্ষ থেকে সমন্বয় ভবনে সাংবাদিক সম্মেলন করে সাধারণ সম্পাদক সুব্রত গাঙ্গুলি দাবি জানান৷ সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, রাজ্যের বিদ্যুতের সেন্ট্রাল স্টোরে আধুনিক যন্ত্রপাতি সহ তার এবং বৈদ্যুতিক বহু যন্ত্রপাতির অভাব রয়েছে৷ ঊধর্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি বহুবার জানানো হয়েছে৷
কিন্তু এখন পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ দেখা করার সুযোগ পর্যন্ত দেয়নি কর্মীদের৷ তাই পর্যাপ্ত পরিমাণে আধুনিক যন্ত্রপাতি আনার ব্যবস্থা করা, নয়তো বিদ্যুৎ পরিষেবা গ্রাহকদের প্রদান করা সম্ভব হবে না৷ দপ্তরের যে কাস্টমার কেয়ারের নম্বরটি রয়েছে, তাতে ফোন করলে গ্রাহকরা ব্যস্ত পায়৷ কারণ টোল ফ্রি নম্বর একটি৷ তাই টোল ফ্রি নম্বর বেশ কয়েকটি করার জন্য দাবি জানান৷
এছাড়াও উল্লেখযোগ্য বিষয় গত মাসখানেক যাবৎ গ্রাহকদের বাড়িতে গিয়ে বিলিং সিস্টেম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে৷ পরবর্তী সময় বিদ্যুৎ দপ্তরের সাথে যোগাযোগ করলে, দপ্তরের কর্মীরা বলছে বাড়িতে গিয়ে মিটার রিডিং দেখে আসার জন্য৷
এতে বহু গ্রাহক রিডিং দেখতে না পারায় বিল সঠিক সময়ের মধ্যে দিতে পারছে না বলে জানান তিনি৷ তিনি আরো বলেন, ২০১৫ সালে ৪৮৭ জন হেল্পার বিদ্যুৎ দপ্তরে নিয়োগ করা হয়েছিল৷ কিন্তু তাদের চাকরি এখনো নিয়মিত হয়নি৷ পাঁচবছর পর তাদের চাকরি নিয়মিত হওয়ার কথা৷ বিগত বছর জুলাই মাসে তাদের চাকরির ৫ বছর উত্তীর্ণ হয়েছে৷
তাই তাদের চাকরি যাতে অবিলম্বে নিয়মিত করা হয় এবং তাদের সকলকে যাতে করোনা ভ্যাকসিনের আওতায় আনা হয় তার জন্য দাবি জানান৷ এদিন এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি পি রায়, সাধারণ সম্পাদক স্বপন বল সহ অন্যান্যরা৷