স্টাফ রিপোর্টার, বক্সনগর, ১৬ জুন।। ভেলুয়ারচর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনলেন সদলীয় পঞ্চায়েত সদস্যরা। বুধবার অনাস্থা প্রস্তাব বক্সনগর ব্লকের বিডিওর কাছে জমা দিয়েছেন তারা।বক্সনগর ব্লকের অধীন ভেলুয়ারচর গ্রাম পঞ্চায়েতের মোট সদস্য সংখ্যা হল ৯ জন। সেই পঞ্চায়েতের প্রধানের বিরুদ্ধে মোট ৬জন প্রতিনিধি অনাস্থা প্রস্তাব জমা দিয়েছেন বক্সনগর ব্লক ভিডিও দ্রুতি শেখর রায়ের কাছে। বুধবার সকাল সাড়ে দশটা নাগা তারা অনাস্থা পত্র জমা দিয়েছেন।
অভিযোগ ভেলুয়ারচর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান অনিল দাস অন্যান্য প্রতিনিধিদের ঘুমে রেখে নিজেদের মর্জি মাফিক কাজ করে চলছেন।পঞ্চায়েতের বহু কাজকর্ম নিজেই তদারকি করে তা থেকে বহু মুনাফা অর্জন করেছেন বলে অভিযোগ।ওই প্রধানের কাজকর্মে দলের অন্যান্য সদস্যরা একপ্রকার অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে অন্যান্য সদস্যদের সে বিষয়ে অবগত করানোর প্রয়োজন বোধ করেননি প্রধান অনিল দাস। এলাকাবাসীর অভিযোগ তার লোভের কারণে বহু নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
বিশেষ করে এলাকায় ভাতা ও পুকুর খনন সহ জমি সমতল এসব নানা কাজে পঞ্চায়েতের অন্যান্য সদস্যদের সাথে আলাপ-আলোচনা ছাড়া নিজের মনমতো যে ভাতার যোগ্য নয় তাকে বাধা দিয়ে দেন। এসব কর্মকান্ড নিয়েই পঞ্চায়েত সদস্যদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। কিন্তু গ্রাম প্রধান কারোর কথা কানে দেননি। মন্ডল নেতৃত্বের কাছেও সাধারণ মানুষ এবং দলীয় কর্মী সমর্থকরা অভিযোগ করেছিল। কিন্তু কেউই সে বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। শেষ পর্যন্ত নেতা-নেত্রীরা এসেই প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দিয়েছেন।
জানা গেছে বুধবার বক্সনগর বিডিওর কাছে অনাস্থা প্রস্তাব জমা পড়েছে।নয় জনপ্রতিনিধির মধ্যে ছয় জন প্রতিনিধি অনাস্থা প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেন। এই ছয় জন প্রতিনিধির মধ্যে রয়েছেন উপপ্রধানও । অনাস্থা প্রস্তাবে যারা স্বাক্ষর করেছেন তারা হলেন – উপপ্রধান সুভাষ দেব, আব্দুর রশিদ, অপর্ণা দেবনাথ, কুলু রানী দাস বর্মন, স্বপ্না বর্মন,সুদন চন্দ্র দাস। শাসক দলের প্রধান যদি এই ধরনের কাজ করেন তাহলে বিরোধী দলের অসন্তোষ বাড়াটাই স্বাভাবিক। গত কিছুদিন পূর্বে রহিমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের বিরুদ্ধেও অনাস্থা এনেছিলেন অন্যান্য সদস্যরা।