স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ১১ জুন।। ৪৫ উর্ধ্ব নাগরিকদের টিকাকরণে ত্রিপুরা সমগ্র দেশে শীর্ষে রয়েছে। ১০০ শতাংশ টিকাকরণে শীর্ষ শিরোপা আর্জনের লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। আজ হাঁপানিয়াস্থিত ত্রিপুরা মেডিক্যাল কলেজ প্রাঙ্গণে ৬০০ এমপিএল অক্সিজেন প্ল্যান্টের উদ্বোধন করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব।
অক্সিজেন প্ল্যান্টের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, পিএম কেয়ার্সের অর্থে ত্রিপুরা মেডিক্যাল কলেজ প্রাঙ্গণে এই অক্সিজেন প্ল্যান্টটি স্থাপন করা হয়েছে। রাজ্যে অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপনের প্রস্তাব পাঠানোর সাথে সাথেই কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে মঞ্জুরি পাওয়া গেছে।
কোভিড-১৯ অতিমারি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কতটা তৎপর তা এই পদক্ষেপেই প্রমাণিত হয়। কোভিড-১৯ অতিমারি মোকাবিলায় বিশ্বের অনেক বড় বড় দেশ যখন হিমসিম খাচ্ছিলো তখন ১৩০ কোটির এই দেশে কোভিড পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর মার্গদর্শনে সঠিক ব্যাবস্থাপনায় কেন্দ্রীয় সরকার তা মোকাবিলা করছে। কারোর কল্পনার মধ্যেও ছিলো না দেশীয় দুটি সংস্থার মাধ্যমে অতি অল্প সময়েই আমাদের দেশে কোভিড ভ্যাকসিন তৈরি করা সম্ভব হবে।
প্রধানমন্ত্রীর যোগ্য নেতৃত্বেই এই সাফল্য এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের একটা অংশের মানুষ দেশীয় কোভিড ভ্যাকসিনের বিরুদ্ধে গুজব ছড়িয়ে ছিল৷ কিন্তু তারাই সবার আগে টিকা নিয়েছেন। কোভিড-১৯ অতিমারি মোকাবেলায় প্রথম ধাপে বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতা ছিলো। এখন রাজ্য সরকার কোভিড-১৯ অতিমারি মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
৮ জেলায় ৮টি অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপন করার পাশাপাশি জিবিপি হাসপাতালে, অটল বিহারী রিজিওন্যাল ক্যান্সার হাসপাতালে ও আইজিএমে অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপনের কাজ চলছে। আইজিএম হাসপাতালে যে অক্সিজেন প্ল্যান্টটি চালু হতে যাচ্ছে তা হবে উত্তর পুর্বাঞ্চলের সর্বোবৃহৎ প্ল্যাস্ট। সবগুলি প্ল্যান্টই আগামী দু-মাসের মধ্যেই চালু হয়ে যাবে বলে মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ করেন। মুখ্যমন্ত্রী এজন্য দেশের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, রাজ্যে করোনা রিকোভারি রেট ভাল।
পজিটিভিটি রেটও ৫ শতাংশের নীচে নেমে এসেছে। যেখানে রাজ্যের কিছু কিছু জায়গায় পজিটিভিটি রেট ২০ শতাংশ ছাড়িয়ে গিয়েছিলো।অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কোভিডে মৃত্যুর একটা অন্যতম কারণ সঠিক সময়ে কোভিড পরীক্ষা করা ও চিকিৎসার সুযোগ না নেওয়া। কোভিড সংক্রমণের ৫ থেকে ৮ দিন গুরুত্বপূর্ণ সময়৷ কোভিডে যাদের মৃত্যু হচ্ছে তাদের মধ্যে এমন অনেকেই রয়েছেন যারা উপসর্গ থাকার পরেও পরীক্ষা করা বা চিকিৎসা পরিষেবা গ্রহণে গাফিলতি করেছিলেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, টিএমসি হাসপাতালকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রথম সারির হাসপাতালগুলির সারিতে দেখতে চাই। তিনি বলেন, ইতিমধ্যেই ১৮ বছরের ঊর্ধ্বের নাগরিকদের টিকাকরণের ব্যয়ভার কেন্দ্রীয় সরকার বহন করবে বলে জানিয়েছে। যদিও এর আগেই ১৮ উর্ধের নাগরিকদের টিকাকরণে রাজ্য সরকার ১৩২ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিলো। কেন্দ্রীয় সরকারের এই ঘোষণার পর রাজ্যের মানুষের যেমন লাভ হয়েছে, তেমনি অর্থনৈতিকভাবে লাভ হয়েছে রাজ্য সরকারও।
টিকাকরণের জন্য বরাদ্দকৃত এই অর্থ রাজ্য সরকার এখন স্বাস্থ্যক্ষেত্রের উন্নয়নে ব্যয় করতে পারবে। অনুষ্ঠানে এনএইচএম-এর রাজ্যের মিশন অধিকর্তা ডা. সিদ্ধার্থ শিব জয়সবাল বলেন, একটা সময়ে অক্সিজেনের জন্য আসামের উপর নির্ভশীল থাকতে হত। রাজ্যে এখন পর্যাপ্ত অক্সিজেন তৈরির প্রক্রিয়া চলছে।
https://www.facebook.com/bjpbiplab/videos/206933851283702/
এদিন টিএমসিতে চালু হওয়া এই প্ল্যান্ট থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ১২০ জনকে অক্সিজেন সরবরাহ করা যাবে। তিনি জানান, কোভিড চিকিৎসার জন্য রাজ্যে এখনও ৪০ শতাংশের অধিক অক্সিজেন বেড খালি রয়েছে। অক্সিজেন কন্সেনট্রেটরও পর্যাপ্ত পরিমাণে রয়েছে। এদিন অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ত্রিপুরা মেডিক্যাল কলেজের উন্নয়নে বেশকিছু দাবি রাখা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক মিমি মজুমদার, ইন্ডিয়ান ডেন্টাল কাউন্সিলের ত্রিপুরা শাখার চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. মানিক সাহা, এন এইচ এম এর মিশন অধিকর্তা ডা. সিদ্ধার্থ শিব জয়সবাল, পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার জেলাশাসক রাভেল হেমেন্দ্র কুমার, এস এফ টি এম সি-র চেয়ারম্যান ড. পি রায় সহ হাসপাতালের অন্যান্য কর্মকর্তাগণ।