।। অমৃত দাস।। আগরতলা, ৮ জুন।। প্রবল ইচ্ছাশক্তি থাকলেই যে সমস্ত প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে সাফল্যে পৌঁছানো যায় তা করে দেখালেন মোহনভোগ ব্লকের মোহনভোগ পঞ্চায়েতের বাবুলাল ও তার পরিবার।
পারিবারিক সূত্রে ছোটবেলা থেকেই কৃষি কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন তিনি। বড় ভাইয়ের কাছ থেকে কিভাবে মৌমাছি পালন করা হয় তা শেখার পর আত্মনির্ভর হওয়ার এক নতুন পথ খুঁজে পেলেন বাবুলাল।
মৌমাছি পালন করে আত্মনির্ভর হওয়ার স্বপ্ন দেখা শুরু তখন থেকেই। তবে পারিবারিক আর্থিক প্রতিকূলতা বাধ সাধে তার স্বপ্ন ও বাস্তবতার মাঝে। আত্মনির্ভর ত্রিপুরা গড়ার লক্ষ্যে দক্ষতামূলক নানান প্রশিক্ষণের পাশাপাশি নানা সরকারি সুযোগ সুবিধার মাধ্যমে, রাজ্যের যুবরা শুধুমাত্র নিজেই স্বনির্ভর হচ্ছেন না।
তৈরি করছেন কর্মসংস্থানের সুযোগও। একটা সময়ে আর্থিক অস্বচ্ছলতা ও প্রশিক্ষণের অভাবে মৌমাছি পালনের মাধ্যমে স্বনির্ভরতার স্বপ্ন মনের মধ্যেই লালন করে রাখা বাবুলাল ২০২০ সালের ১১ জানুয়ারি মোহনভোগ ব্লক আয়োজিত প্রধানমন্ত্রী গ্রামোদয় যোজনার অন্তর্গত স্বাবলম্বন প্রকল্পের ঋণের সুযোগ পান।
মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব ক্ষুদ্র চাষী বাবুলালের হাতে স্বাবলম্বন প্রকল্পে ঋণ মঞ্জুরের চেক তুলে দিয়ে মধু চাষে উৎসাহিত করেন। একটা সময়ে আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে নানান প্রতিবন্ধকতার সম্মুখিন হলেও বর্তমানে এখনো পর্যন্ত ২ লক্ষ ১১ হাজার টাকার ঋণ পেয়েছেন তিনি।
শুধুমাত্র আর্থিক সহায়তাই নয় ত্রিপুরা খাদি ও গ্রামোদ্যোগ পর্ষদ এবং গ্রামীণ ব্যাঙ্ক এর সহায়তায় বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে মধু চাষের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বনির্ভরতার পথ খুঁজে পেয়েছেন মোহনভোগ পঞ্চায়েতের বাবুলাল নন্দী৷
মৌমাছি পালনে আগ্রহ থেকে বর্তমানে বাণিজ্যিক দৃষ্টি ভঙ্গিতে মধু চাষ করে ভালই লাভের মুখ দেখছেন তিনি।
স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে মধুর যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। ত্রিপুরা খাদি ও গ্রামোদ্যোগ পর্ষদ থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন যন্ত্রাংশের মাধ্যমে বর্তমানে আধুনিক পদ্ধতিতে ১৫টি বাক্স থেকে প্রায় ৭০ কেজি সংগ্রহ করেছেন। প্রতি কেজি ১,২০০ টাকা দরে তার ৮৪ হাজার টাকায় আয় হয়েছে। আসন্ন মরশুমে ১০০টি বাক্সে আরও বৃহদায়তনে মধু চাষের পরিকল্পনা রয়েছে তার।
সাথে সহায়তা করছেন স্ত্রী কল্পনা নন্দী। দুজন মিলে মধু সংগ্রহের পর প্যাকেটজাত করে বিক্রি করছেন। মধু চাষের পাশাপাশি ১.৫ কানি জমিতে আনারস চাষ করেছেন। আর্থিক অনটনের কারণে সপ্তম শ্রেণী অতিক্রম করতে না পারলেও মোহনভোগ সহ বিভিন্ন এলাকার যুবক ও
উদ্যোগীদের কাছে বাবুলাল এখন অনুপ্রেরণা। অনেকেই তার থেকে অভিজ্ঞতা নিয়ে মৌমাছি পালনে উৎসাহিত হচ্ছেন। সরকারের নানান স্বনির্ভরতামূলক প্রকল্পের সহায়তায় এভাবেই বাবুলাল নন্দীর মত স্বাবলম্বী হয়ে রোজগারের নতুন দিশা খুঁজে পাচ্ছেন।