অনলাইন ডেস্ক, ৩১ মে।। নাইজেরিয়ার নিজার প্রদেশের একটি মাদ্রাসা থেকে বন্দুকধারীরা প্রায় ২০০ শিক্ষার্থীকে অপহরণ করেছে। বিবিসি জানায়, সম্প্রতি দেশটিতে স্কুলে হওয়া হামলাগুলোর মধ্যে এটি সর্বশেষ ঘটনা।
নাইজার প্রদেশের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রবিবার তেজিনা শহরের একটি মাদ্রাসা থেকে বেশ কিছু শিক্ষার্থীকে অপহরণ করেছে বন্দুকধারীরা।
এক শিক্ষক জানান, কমপক্ষে ১৫০ জন শিক্ষার্থী নিখোঁজ রয়েছে। তবে অন্য প্রতিবেদনগুলোতে এই সংখ্যা প্রায় ২০০ বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। মুক্তিপণ আদায়ের জন্য অপহরণের ঘটনা ওই এলাকায় ক্রমাগত বেড়েই চলেছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে জামফারা স্টেটের জাঙ্গেবে এলাকার একটি আবাসিক স্কুল থেকে প্রায় ৩০০ ছাত্রীকে অপহরণ করেছিল অস্ত্রধারীরা। তাদের বেশিরভাগকেই অবশ্য পরে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, অস্ত্রধারীরা মোটরসাইকেলে করে পুরো শহর চষে বেড়ায় এবং এলোপাতাড়ি গুলি করতে থাকে। মানুষজন তাদের হাত থেকে বাঁচতে পালিয়ে যাওয়ার পর তারা স্কুলে ঢুকে শিক্ষার্থীদের অপহরণ করে।
স্কুলটিতে ছয় বছর থেকে শুরু করে ১৮ বছর বয়সী ছেলেমেয়েরা এক সঙ্গে পড়তো। কর্তৃপক্ষ বলছে, হামলায় দুই ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাদের একজন মারা গেছে। এছাড়া গাড়িতে করে ঘুরছিলেন এমন বেশ কিছু মানুষকেও অপহরণ করা হয়েছে।
গত ডিসেম্বর থেকে নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিম এবং মধ্যাঞ্চলে শিক্ষার্থী অপহরণের কমপক্ষে ছয়টি ঘটনা ঘটেছে। এতে আটশোর বেশি শিক্ষার্থী ও কর্মীদের অপহরণ করা হয়।
গত ২০১৪ সালে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় চিবক শহরে ইসলামি জঙ্গি গোষ্ঠী বোকো হারাম ২৭৬ জন ছাত্রীকে অপহরণের পর বিশ্বজুড়ে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। তবে সাম্প্রতিক হামলাগুলো সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রগুলোর কাজ বলে ধারণা করা হচ্ছে।