স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ২৭ মে।। শাসকদলের সংস্কারপন্থী বিধায়ক আশিস দাসও কমলাসাগর এর দিঘী থেকে সাংসদ প্রতিমা ভৌমিক এর যোগসাজসে মাছ চুরির ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ করেছেন সাংসদ প্রতিমা ভৌমিক কিভাবে দেবস্থানের মাছ ধরার জন্য বিএসএফকে চিঠি দিলেন। সংস্কারপন্থী বিধায়ক আশিস দাস আগরতলা প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ করেন, সাংসদ প্রতিমা ভৌমিক কমলাসাগর বিওপির কমান্ডেন্টকে মাছ ধরার জন্য যে চিঠি পাঠিয়েছেন তাতে মাছ বিক্রি হবে ,না খাওয়ার জন্য মাছ ধরা হবে তা কিছুই উল্লেখ করা হয়নি।
আশিষ বাবু বলেন কমলা সাগরদিঘী পরিচালনার জন্য একটি সোসাইটি রয়েছে। এছাড়া রয়েছে বাজার কমিটি, গ্রাম পঞ্চায়েত এবং রয়েছেন পূজারী। তাঁদেরকে এ ব্যাপারে কিছুই জানানো হয়নি। অথচ পুকুর থেকে 2 হাজার কেজি মাছ ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ ধরনের কার্যকলাপকে জঘন্য অন্যায় বলে আখ্যায়িত করেছেন তিনি। যার নির্দেশে মাছ চুরি হয়েছে তিনিও পাপী বলে উল্লেখ করেন বিধায়ক আশিস দাস। জাতপাত ধর্ম বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে এ ধরনের কার্যকলাপের প্রতিবাদে সোচ্চার হওয়ার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যথায় আরও কঠিন পরিস্থিতির উদ্ভব হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। আশিষ বাবু বলেন এখন ত্রিপুরেশ্বরী মা ও কমলেশ্বরি মা -ও সুরক্ষিত নন। অতিমারীর সুযোগকে কাজে লাগিয়ে যেভাবে এ ধরনের অপকর্ম সংগঠিত করা হচ্ছে তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া এবং নিন্দা জানানো উচিত বলে মন্তব্য করেন সংস্কারপন্থী বিধায়ক আশিস দাস।বিজেপির নেতা বিধায়ক সাংসদরা যেখান ধর্মীয় বিষয় নিয়ে বড়াই করেন সেখানে একজন সাংসদ কিভাবে দেবমন্দিরের দিঘী থেকে মাছ ধরার জন্য অনুমতি দিলেন সেই প্রশ্নই মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। উল্লেখ্য ধর্মপ্রাণ মানুষ মন্দিরে গিয়ে পুজো দেওয়ার পাশাপাশি দেবমন্দিরের দীঘিতে মাছ দেবতার উদ্দেশ্যে ছাড়েন। কমলাসাগর দিঘী থেকে মাছ চুরির ঘটনা রীতিমতো উদ্বেগজনক। ইতিপূর্বে আগরতলায় লক্ষীনারায়ন বাড়ির দীঘি থেকেও যুব মোর্চার শীর্ষস্থানীয় নেতা ভিকি প্রসাদের নেতৃত্বে মাছ তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরপর এসব ঘটনা ঘিরে ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, যারা ধর্মের ধ্বজা উড়িয়ে জয়গান গেয়ে থাকেন তারা কিভাবে ধর্মীয় জলাশয় থেকে মাছ চুরির ঘটনায় জড়িয়ে পড়ছেন। এই প্রশ্নের জবাব মিলবে কি।