স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ২৫ মে।। রাজ্যে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় করোনা কার্ফু আগামী ৫ জুন পর্যন্ত বলবৎ থাকবে৷ আজ মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজ সচিবালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী রতনলাল নাথ এই সংবাদ জানান। সাংবাদিক সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী জানান, দেশের অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় ত্রিপুরার করোনা পরিস্থিতি ভাল অবস্থায় রয়েছে।
তথাপি এই অতিমারিকে কঠোরভাবে মোকাবিলা করার জন্য আজ রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে আগরতলা পুর নিগম এলাকা সহ অন্যান্য আরবান এলাকাগুলিতে আগামীকাল ২৬ মে সকাল পর্যন্ত যে করোনা কার্ফু জারি ছিল তা আগামী ৫ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
মানুষের জীবনের নিরাপত্তার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সাংবাদিক সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, করোনা কার্ফুর সময়ে সবজি, ফলের দোকান, মুদি, মাছ এই ধরণের জরুরী পরিষেবার দোকানগুলি সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। এক্ষেত্রে তল্লাসি সহ কঠোর পদক্ষেপ নেবে প্রশাসন।
সরকারি গাড়ি ও স্বাস্থ্য পরিষেবার গাড়ি ছাড়া সমস্ত যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। শুধুমাত্র জরুরী পরিষেবার সাথে যুক্ত সরকারি কার্যালয়গুলি খোলা থাকবে। এজন্য আজ রাতে পৃথক পৃথক নোটিফিকেশন জারি করা হবে৷ সাংবাদিক সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আরবান এলাকা ছাড়া রাজ্যের অন্যান্য এলাকায়, অর্থাৎ সমগ্র রাজ্যে আগামী ২৭ মে থেকে ৫ জুন পর্যন্ত করোনা কার্ফু জারি থাকবে। এজন্যও পৃথক নোটিফিকেশন জারি করা হবে।
তিনি জানান, এক্ষেত্রেও সবজি, ফলের দোকান, মুদি, মাছ এই ধরণের জরুরী পরিষেবাকারী দোকানগুলি সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। সরকারি গাড়ি ও স্বাস্থ্য পরিষেবার গাড়ি ছাড়া সমস্ত যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। সাংবাদিক সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী জানান, কোভিড মোকাবিলায় ৮টি জেলায় ১,৪০৭ জন শিক্ষক- শিক্ষিকা ওয়ার রুমে কাজ করছেন।
এখন পর্যন্ত পশ্চিম, ধলাই ও সিপাহীজলা জেলায় ৩টি কোভিড ওয়ার রুম চালু করা হয়েছে। অন্য ৫টি জেলাতেও শীঘ্রই ওয়ার রুম চালু করা হবে। এক পরিসংখ্যান তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী জানান, ১৫ মে থেকে ২৪ মে পর্যন্ত এই বর্তমানে আগরতলা পুর নিগম এলাকায় গড়ে সংক্রমণ হয়েছে ২১৩৭ শতাংশ। জেলাগুলির চিত্র অনুযায়ী বর্তমানে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলায় সংক্রমণের হার গড়ে ১২.৩২ শতাংশ।
সিপাহীজলা জেলায় ৫.৩৩ শতাংশ, খোয়াই জেলায় ১১.০৬ শতাংশ, গোমতী জেলায় ৫.৫৬ শতাংশ, দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলায় ৪.৩৩ শতাংশ, ধলাই জেলায় ৫.০১ শতাংশ, ঊনকোটি জেলায় ৫.১৭ শতাংশ ও উত্তর ত্রিপুরা জেলায় রয়েছে ৪০৫ শতাংশ।