স্টাফ রিপোর্টার, তেলিয়ামুড়া, ২১ মে।। তেলিয়ামুড়া হাসপাতালে এক ফুটফুটে শিশু সন্তানের জন্ম দিলেন করোণা আক্রান্ত মা। মা শিশু দুজনই সুস্থ আছে। তাদেরকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। করোণা আক্রান্ত এক প্রসূতি মা শুক্রবার সাতসকালে তেলিয়ামুড়া মহকুমা হাসপাতালে পৃথিবীর আলো দেখালো এক পুত্র সন্তানকে। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, তেলিয়ামুড়া থানাধীন মহারানীপুর চাকমা ঘাট এলাকার ১৮ বছর বয়সী এক প্রসূতি মা তার প্রসব ব্যাথা নিয়ে তেলিয়ামুড়া মহকুমা হাসপাতালে আসে শুক্রবার সকাল আনুমানিক ৫টা:৩০মিনিট নাগাদ।
তখন তেলিয়ামুড়া মহকুমা হাসপাতালের কর্তব্যরত কর্মীরা ওই গর্ভবতী মায়ের করোণা পরীক্ষা করলে তার শরীরে করোনার জীবাণু ধরা পড়ে।তেলিয়ামুড়া মহকুমা হাসপাতালে করোণা আক্রান্ত কোন প্রসূতি মহিলার প্রসব করানোর ব্যবস্থা না থাকার দরুন তেলিয়ামুড়া মহকুমা হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক অনির্বাণ ভৌমিক ওই গর্ভবতী মহিলাকে আগরতলা জিবি হাসপাতালে প্রেরণ করতে চাইলে চিকিৎসক দেখতে পায় কিছুক্ষণের মধ্যেই ওই গর্ভবতী মহিলা সন্তান ভূমিষ্ঠ করবে। তেলিয়ামুড়া মহকুমা হাসপাতালের চিকিৎসক অনির্বাণ ভৌমিক ও হাসপাতালে অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের সহায়তায় শুক্রবার সকাল আনুমানিক সাতটা নাগাদ করোণা আক্রান্ত গর্ভবতী মা এক ফুটফুটে পুত্র সন্তানের জন্ম দেন।
এ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তেলিয়ামুড়া মহকুমা হাসপাতালের চিকিৎসক অনির্বাণ ভৌমিক বলেন, রীতিমতো ঝুঁকি নিয়ে তিনি চিকিৎসা কাজে হাত লাগিয়েছেন। মা এবং শিশু উভয়েই সুস্থ রয়েছে। তাদের হোম আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। তাদের চিকিৎসায় কোন ধরনের ঘাটতি নেই বলেও জানানো হয়। চিকিৎসক বলেন এই কাজে নিজেকে গর্বিত মনে করছেন। তিনি আরো বলেন চিকিৎসকের কাছে রোগীরোগী রোগীই।
পরিষেবা দেওয়াই চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী দায়িত্ব ও কর্তব্য।যখন কোন রোগী হাসপাতালে আসে তখন ডাক্তারবাবুরা সেসব বিচার করে না সে করোণা আক্রান্ত নাকি অন্য কিছু।তবে বর্তমান করুণা পরিস্থিতিতে নিজেদের জীবনকে বাজি রেখে ডাক্তার ও নার্সদের ভূমিকায় প্রশংসায় পঞ্চমুখ তেলিয়ামুড়া বাসী। উল্লেখ করা যেতে পারে তেলিয়ামুড়া মহকুমা হাসপাতালের চিকিৎসক অনির্বাণ ভৌমিক গত বছর করোণা মহামারী কালেও করোণা আক্রান্ত গর্ভবতী মহিলার প্রসব করিয়েছিলেন নিজের জীবনকে বাজি রেখে।