স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ১৭ মে।। স্বাস্থ্য দপ্তরের রিপোর্ট অনুসারে পানিসাগর নগর পঞ্চায়েত এলাকায় কোভিড- ১৯ সংক্রমণের ঘটনা মারাত্মকভাবে বেড়ে যাওয়ায় উত্তর ত্রিপুরা জেলার জেলাশাসক নাগেশ কুমার বি সমগ্র পানিসাগর নগর পঞ্চায়েতকে কনটেইনমেন্ট জোন হিসেবে ঘোষণা করেছেন৷
বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা আইন ২০০৫ এবং সি আর পি সি-র ১৪৪ ধারায় প্রাপ্ত ক্ষমতাবলে এক আদেশে পানিসাগর নগর পঞ্চায়েত এলাকার ১নং ওয়ার্ড থেকে ১৩নং ওয়ার্ড পর্যন্ত সমস্ত ওয়ার্ডকে কনটেইনমেন্ট জোন হিসেবে ঘোষণা করেছেন।
এই আদেশ কার্যকর করতে যেসব বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে তা নিম্নরূপ: কনটেইনমেন্ট জোন কার্যকর করার কাজে নিযুক্ত ব্যক্তি ও যান এবং স্বাস্থ্য সহ জরুরি পরিষেবার কাজে যুক্ত ব্যক্তি ও যান ছাড়া কোনও ব্যক্তি বা যান কনটেইনমেন্ট জোনে প্রবেশ বা কনটেইনমেন্ট জোন থেকে বাইরে যেতে পারবে না।
কনটেইনমেন্ট জোনে বসবাসকারী সমস্ত ব্যক্তি এবং বাইরে থেকে যারা কনটেইনমেন্ট জোনে ঢুকবেন তারা মাস্ক পরিধান করবেন। মুদির দোকান, ঔষধ ও ডেয়ারির দোকান ছাড়া কনটেইনমেন্ট জোনের বাকি সমস্ত দোকান, প্রতিষ্ঠান, পার্ক ইত্যাদি বন্ধ থাকবে।
ইতিমধ্যে বলবৎ থাকা কার্টুর নিয়ম অনুযায়ী নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি বিক্রয়কারী দোকান ও সকাল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।উল্লিখিত এলাকায় বসবাসকারী মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রিত থাকবে। শুধুমাত্র কনটেইনমেন্ট এলাকার দোকান থেকে প্রয়োজনীয় সামগ্রী ক্রয়ের উদ্দেশ্যে তারা বেরোতে পারবেন৷
চামটিলা ব্রিজ হতে পানিসাগর কে ভি কে পর্যন্ত, এন এইচ-০৮ থেকে জলেবাসা ভায়া পানিসাগর হাসপাতাল রোড, এন এইচ-০৮ থেকে আর সি পি ই, পানিসাগর রোড ভায়া সৎসঙ্গ, এন এইচ-০৮ থেকে আর সি পি ই পানিসাগর ভায়া ব্লকটিলা রোড, এন এইচ-০৮ থেকে পানিসাগর বি এস এফ ক্যাম্প, এন এইচ-০৮ থেকে রেগুলেটেড মার্কেট মেইন রোড এই রাস্তাগুলি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। যদিও চলাচল পুলিশের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে। ৬) কনটেইনমেন্ট এলাকায় দুই বা ততোধিক লোকের জমায়েত হতে পারবে না।
উত্তর ত্রিপুরা জেলার পুলিশ সুপার কনটেইনমেন্ট জোন এলাকায় আসা যাওয়ার পয়েন্টে (নাকা পয়েন্ট) কঠোর নজরদারির ব্যবস্থা করবেন। সংশ্লিষ্ট এলাকার জনগণের চলাচল যেন শুধুমাত্র নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয়ের জন্য হয়।
প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার উদ্দেশ্যে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যারিকেড ও পুলিশ মোতায়েন করবেন।কনটেইনমেন্ট জোনে জরুরি পরিষেবা প্রদানকারী ব্যক্তিদের আই ডি দেখেই প্রবেশ পয়েন্টে থাকা নিরাপত্তাকর্মীরা এলাকায় ঢুকতে দেবেন।
কনটেইনমেন্ট জোনে একমাত্র নির্দিষ্ট সরবরাহকারীরাই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরবরাহ করবেন। সংশ্লিষ্ট নগর পঞ্চায়েতের উদ্যোগে কনটেইনমেন্ট জোনে নিয়মিত স্যানিটাইজেশনের ব্যবস্থা করা হবে।
কনটেইনমেন্ট জোনের প্রতিটি পরিবারের একজন সদস্য এবং আই এল আই / এ আর আই লক্ষণযুক্ত ব্যক্তি এবং সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা ব্যক্তির টেস্টিং বাধ্যতামূলক।
আপৎকালীন পরিস্থিতিতে পানীয় জল স্বাস্থ্যবিধি দপ্তর ট্যাঙ্কার দিয়ে জল সরবরাহ। টি এস ই সি এল নিয়মিতভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে এবং আপৎকালীন পরিস্থিতিতেকরবে।সারাই কাজের টিমকে সর্বদা প্রস্তুত রাখবে।
উত্তর ত্রিপুরা জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক কনটেইনমেন্ট জোনে যেন স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নিয়মাবলী পালন করা হয় তা সুনিশ্চিত করবেন।
পানিসাগরের মহকুমা শাসক ব্যারিকেড / চেক পয়েন্ট, প্রয়োজনীয় শেড ইত্যাদি তৈরি করবেন যাতে কনটেইনমেন্ট জোন সঠিকভাবে কার্যকর হয়৷
এই আদেশ আজ সকাল ৫টা থেকে কার্যকর হয়েছে এবং ২৬ মে, ২০২১ সকাল ৫টা পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। এই আদেশ অমান্য করলে ভারতীয় দন্ডবিধির ১৮৮ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে।