অনলাইন ডেস্ক, ১৭ মে।। ইনস্টাগ্রামে ভিডিও পোস্ট করে ফের বিতর্কে জড়ালেন কঙ্গনা রনৌত। এ প্রসঙ্গে তার মন্তব্যকে ‘সুচিন্তিত বদমায়েশি’ বলে উল্লেখ করলেন পশ্চিমবঙ্গের এক অভিনেতা।
সম্প্রতি গঙ্গা নদীতে ভাসা মৃতদেহের ছবি আসলে নাইজেরিয়ার লাশের ছবি। ভারতকে নিচে নামানোর অপচেষ্টা হিসেবে এমন ছবি প্রচার করা হচ্ছে। অথচ মৃতদেহগুলো দেখে প্রাথমিক অনুমান তা করোনা আক্রান্ত রোগীদের। তা নিয়েই এ ১৮০ ডিগ্রি উল্টো মন্তব্য করে বিতর্ক উস্কে দেন কঙ্গনা।
এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করেছেন অনেকেই। পরিচালক কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায় বলেন, “ক্ষমতার কাছাকাছি গেলে তখন দায়িত্বজ্ঞানহীনতা স্বাভাবিকভাবেই আসে। অভিনেত্রী হিসেবে কঙ্গনা যথেষ্ট সুনাম কুড়িয়েছিলেন, কিন্তু বিজেপির সংস্পর্শে আসার পর থেকে তিনি অনেক দায়িত্বজ্ঞানহীন কথাবার্তা বলেই চলেছেন। এটা অত্যন্ত দূর্ভাগ্যজনক, এবং ইদানিং এই কথাগুলো খুবই অপ্রাসঙ্গিক হয়ে গেছে। ”
অভিনেমা কৌশিক সেনের মতে, “সুস্থ স্বাভাবিক যে কোনো মানুষই বলবেন, কঙ্গনা রনৌতের চিকিৎসার প্রয়োজন, তার মানসিক চিকিৎসার প্রয়োজন। এটাও বলব তিনি অত্যন্ত বিপজ্জনক একজন মানুষ। সবার মতই আমিও ওনার কাজের ভক্ত, আমিও ওনার কাজের প্রশংসা করি কিন্তু যতদিন যাচ্ছে ওনার মন্তব্য আর বিতর্কিত মন্তব্য বলে মনে হচ্ছে না,বরং সুচিন্তিত বদমায়েশি বলে মনে হচ্ছে। ”
পরিচালক-অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় বলেন, “অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সম্পর্কে যে ধারণাটা চালু করার চেষ্টা, কঙ্গনা রনৌত যে দলের মুখপাত্র হয়ে বলছেন সেই দলের লোকেরাই বলে থাকেন সচরাচর, যে অভিনেতারা অশিক্ষিত, ‘নাচনেওয়ালি’, ‘গাইয়েওয়ালি’ তারা সেই কাজটা করলেই ভালো করবেন। এই ধরনের কথাবার্তাগুলো এই ধারণাগুলোকেই মান্যতা দেয়। আরও বেশি করে প্রতিষ্ঠিত করে। যদিও আমি ব্যক্তিগতভাবে এ জাতীয় মন্তব্য, উনি সাধারণত যে ধরনের মন্তব্য করে থাকেন, তা শুনে এটাই বলতে পারি, দেখুন উন্মাদের তো চিকিৎসা আছে, তাই তার চিকিৎসা হওয়া দরকার। ”
কঙ্গনার কাছে অবশ্য এই ধরনের মন্তব্য নতুন কিছু নয়। সম্প্রতি ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলের হামলা প্রসঙ্গে লেখেন, “উগ্র ইসলামি সন্ত্রাসের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করা যে কোনো জাতির মৌলিক অধিকার, ইসরায়েলের পাশে আছে ভারত। ” এরপর নিজের টুইটারে সম্প্রীতি বজায় রাখা নিয়ে সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার ইরফান পাঠান একটি পোস্ট করলে, তার সঙ্গেও নেটমাধ্যমে বিতর্কে জড়ান কঙ্গনা।
কিছুদিন আগেই পশ্চিমবঙ্গের ভোট পরবর্তী সহিংসতা নিয়ে মন্তব্য করে টুইটার থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার হন কঙ্গনা। এরপর বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে ইনস্টাগ্রাম থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় ভিডিও।