স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ১২ মে।। রাজ্যে বাজারগুলিতে নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে৷ চাল, ডাল, ভোজ্য তেলের মূল্য লাগামহীনভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে ব্যস্ত ব্যবসায়ীরা৷
বিগত বছর করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউনকে সামনে রেখে বাজারে মর্জিমাফিক অসাধু ব্যবসায়ীরা চাল, ডাল, ভোজ্য তেল, আলু, পেঁয়াজের মূল্য প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি করে চলেছে৷ বিশেষ করে ভোজ্য তেল এবং ডালের মূল্য ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার পরেও হুঁশ ফেরেনি প্রশাসনের৷ অবশেষে ভোজ্য তেলের পাইকারি মূল্যে বিক্রি করার নাম করে প্রচারে আসলেন ত্রিপুরা হোলসেইল গ্রোসারি মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন৷
এমনই অভিমত ক্রেতাদের৷ জানা যায়, অতিমারিতে ক্রেতাদের সুবিধার্থে ভোজ্য তেল পাইকারি মূল্যে সরবরাহ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান ত্রিপুরা হোলসেইল গ্রোসারি মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক তমাল পাল৷ তিনি জানান, ক্রেতা স্বার্থে পাইকারি মূল্যে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে৷
গত দু-তিন মাস পূর্বে ভোজ্য তেলের মূল্য ছিল ১২০-১৩৫ টাকা লিটার৷ বুধবার ঢাক-ঢোল পিটিয়ে পাইকারি মূল্যে ভোজ্য তেল দেওয়ার ঘোষণা করলেও মূল্য ছিল ঊর্দ্ধমুখী৷ এদিন বিভিন্ন কোম্পানির তেল মহারাজগঞ্জ বাজারে বাণিজ্য ভবনের সম্মুখে ১৪৮-১৬৫ টাকা দরে বিক্রি করে৷ রাজ্যের বাজারগুলোতে বেশি প্রচলিত তেল হলো ইঞ্জিন এবং ফরচুন৷
ইঞ্জিন তেলের মূল্য এদিন পাইকারি দরে প্রতি লিটার ১৬৫ টাকা৷ ফরচুন তেল ১৬১ টাকা ৫০ পয়সা৷ সুতরাং তেলের ঊর্দ্ধমুখী মূল্য বজায় রয়েছে বললেই চলে৷ তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, শুধুমাত্র ভোজ্য তেলের মূল্য স্বাভাবিক রাখা নাকি চাল, ডাল সহ বিভিন্ন সামগ্রীর মূল্যও স্বাভাবিক রাখতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে? তমাল পাল জানান, শুধুমাত্র তেলের মূল্য নিয়ে অভিযোগ আছে৷
তাই ভোজ্য তেল পাইকারি দরে বিক্রি করতে মহারাজগঞ্জ বাজারে কাউন্টার খোলা হয়েছে৷ এদিকে মসুরের ডালের মূল্যও ধারাবাহিকভাবে বেড়ে চলেছে৷ গত কয়েক মাসে ১০-২০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অভিযোগ বাজারে আসা ক্রেতাদের৷ এমনকি ক্রেতারা দীর্ঘ কয়েকমাস যাবৎ ন্যায্য মূল্যের দোকান থেকে গণবণ্টন ব্যবস্থার মাধ্যমে মসুর ডাল পাচ্ছে না৷
আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা ডালের মূল্য নিয়ে নিয়ে ক্রেতাদের পকেট কেটে চলেছে বলে অভিযোগ৷ খাদ্য দপ্তরের কোন ধরনের ভূমিকা নেই বাজারগুলিতে৷ অসাধু ব্যবসায়ীরা নিত্যদিন কোভিড পরিস্থিতির অজুহাত তুলে ক্রেতাদের পকেট কেটে চলেছে৷
এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে সাধারণ গরিব অংশের মানুষ৷ দাবি উঠেছে দপ্তরের মন্ত্রী সহ আধিকারিকরা যেন মাঠে নেমে দাম নিয়ন্ত্রণে এবং কালোবাজারি বন্ধ করতে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেন৷