করোনার লাগামহীন সংক্রমণ, আগরতলা পুর নিগমের ৫,২১ ও ৪৬ নং ওয়ার্ড কন্টেইনমেন্ট জোন

স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ১২ মে।। স্বাস্থ্য দপ্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী আগরতলা পুর নিগমের ৫,২১ এবং ৪৬ নং ওয়ার্ডে কোভিড-১৯ সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় এই ওয়ার্ডগুলি এবং তার চারপাশের এলাকাকে ভৌগোলিকভাবে যদি কোয়ারেন্টিন করা না হয় তাহলে এই এলাকা কোভিড-১৯ হটস্পট জোনে পরিণত হতে পারে। তাই বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা আইনে প্রাপ্ত ক্ষমতাবলে সংক্রমিত এলাকার ভিতরে এবং এলাকায় যান চলাচল, জনসাধারণের আগমন-নির্গমন নিয়ন্ত্রণ করার জন্য পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার জেলাশাসক ও সমাহর্তা রাভেল হেমেন্দ্র কুমার ৫,২১ ও ৪৬নং ওয়ার্ডের সমস্ত এলাকাকে কন্টেইনমেন্ট জোন হিসাবে ঘোষণা করে কিছু বিধিনিষেধ জারি করেছেন। বিধিনিষেধগুলি হচ্ছে নিম্নরূপ :

এই কন্টেইনমেন্ট জোন-এ জনসাধারণ ও যানবাহনের যাতায়াত বন্ধ থাকবে। শুধুমাত্র কন্টেইনমেন্ট পরিকল্পনা কার্যকর করার কাজে নিযুক্ত ব্যক্তি/যান এবং স্বাস্থ্য পরিষেবা সহ জরুরী পরিষেবার সাথে যুক্ত ব্যক্তিরা এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবেন৷

কন্টেইনমেন্ট জোন-এ বসবাসকারী সমস্ত ব্যক্তি এবং বাইরে থেকে যারা কন্টেইনমেন্ট জোন-এ ঢুকবেন তারা মাস্ক পরিধান করবেন।মুদির দোকান, ঔষধ ও ডেয়ারির দোকান ছাড়া কন্টেইনমেন্ট জোন-এর বাকি সমস্ত দোকান, প্রতিষ্ঠান, পার্ক ইত্যাদি বন্ধ থাকবে। যেহেতু সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল ৫টা পর্যন্ত ইতিমধ্যে কার্ফু রয়েছে তাই নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি বিক্রয়কারী দোকানও সকাল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

উল্লিখিত ওয়ার্ডে বসবাসকারী মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রিত থাকবে। শুধুমাত্র ওয়ার্ডের মধ্যে খোলা দোকান থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ক্রয়ের জন্য তারা বেরুতে পারবেন৷ ৫নং ওয়র্ডের ক্ষেত্রে জিবি বাজার থেকে সার্কিট হাউস (মেইন রোড), জিবি বাজার থেকে

ইন্দ্রনগরের আই টি আই হয়ে ধলেশ্বর রোড, জিবি বাজার থেকে বণিক্য চৌমুহনী রোড এবং জিবি বাজার থেকে অভয়নগর হয়ে পুরাতন মটরস্ট্যান্ড রোড ছাড়া ওয়ার্ডের মধ্যে সমস্ত রাস্তা এবং ৪৬নং ওয়ার্ডের ক্ষেত্রে আগরতলা-সাব্লুম রোড এন এইচ-০৮ এবং ২১নং ওয়ার্ডের আসাম আগরতলা রোড, শিবনগর মর্ডাণ ক্লাব থেকে পি এন দেব রোড হয়ে কল্যাণী রোড ছাড়া বাকি রাস্তা বন্ধ থাকবে।

সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড এলাকায় দুই বা ততোধিক লোকের জমায়েত হতে পারবে না এবং পশ্চিম জেলার পুলিশ সুপার ওয়ার্ডের মধ্যে এবং ওয়ার্ডে আসা-যাওয়ার পয়েন্টে (নাকা পয়েন্টে) কঠোর নজরদারী বজায় রাখবেন। তিনি নজর রাখবেন ওয়ার্ডের মধ্যে জনসাধারণের চলাচল যেন শুধুমাত্র নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয়ের জন্য হয়। নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যারিকেড ও পুলিশ মোতায়েনের ব্যবস্থা করবেন।

জরুরী পরিষেবা প্রদানকারী ব্যক্তিদের পরিচয়পত্র দেখেই প্রবেশ পয়েন্টে থাকা নিরাপত্তারক্ষীরা কন্টেইনমেন্ট জোনের ওয়ার্ডে ঢুকতে দেবেন। সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সরবরাহ করা হবে একমাত্র আগরতলা পুর নিগম আগরতলা পুর নিগম কন্টেইনমেন্ট জোনে নিয়মিত স্যানিটাইজ করবে।কর্তৃপক্ষ দ্বারা চিহ্নিত সরবরাহকারীর মাধ্যমে।কোভিড-১৯ সংক্রমণকে প্রতিহত করতে কন্টেইনমেন্ট জোনের প্রতিটি পরিবারের একজন সদস্য এবং আই এল আই/এ আর আই এবং সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা ব্যক্তির টেস্ট

করা বাধ্যতামূলক। আপতকালীন পরিস্থিতিতে পানীয়জল ও স্বাস্থ্যবিধি দপ্তর ট্যাংকার দিয়ে জল সরবরাহ করবে। টি এস ই সি এল নিয়মিতভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে এবং কোন আপতকালীন পরিস্থিতির জন্য তার সারাই কাজের টিমকে সবসময় প্রস্তুত রাখবে।

কন্টেইনমেন্ট জোনে যাতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের নির্দেশিকা পালন করা হয় তা পশ্চিম জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুনিশ্চিত করবেন। ১৪) সদরের মহকুমা শাসক ব্যারিকেড/চেক পয়েন্ট ও প্রয়োজনীয় শেড ইত্যাদি তৈরি করবেন

যাতে কন্টেইনমেন্ট জোন সঠিকভাবে কার্যকর করা যায়। এই আদেশ ১৩মে, ২০২১ ইং তারিখের সকাল ৫টা থেকে ২২মে, ২০২১ ইং তারিখের সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আই পি সি এবং বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা আইনে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চ্যাট খুলুন
1
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠান
হেলো, 👋
natun.in আপনাকে কিভাবে সহায়তা করতে পারে?