নাবালক- নাবালিকার বিয়ে ঘিরে কল্যাণপুরে হুলুস্থূল কাণ্ড, পৌঁছল প্রশাসন

স্টাফ রিপোর্টার, কল্যাণপুর, ৮ মে।। অবৈধভাবে নিজ বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠান করতে গিয়ে লেজেগোবরে গ্রামপ্রধান৷ ঘটনা শুরু হতেই গোটা এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে৷ খোয়াই জেলার কল্যাণপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অধিন দক্ষিণ দুর্গাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান শিখারানি দাস৷ স্বামী নীলকান্ত দাস ওরফে মাধু৷ এলাকায় শাসক দলের উঠতি নেতা৷

কল্যাণপুর থানা এলাকার দক্ষিণ দুর্গাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন তরুণী দাসপাড়া ওয়ার্ড নাম্বার-৩ প্রধানের নিজের আস্তানা৷ মানুষের ভোটে জনপ্রতিনিধি হয় আইনের ঘরে গিয়েও আইনকে একপ্রকার কবর দিয়েই শনিবার ৮মে ২০২১ নাবালক পুত্রের সাথে তেলিয়ামুড়া করইলং গ্রামের নাবালিকার বিয়ের জাঁকজমক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে৷ কোনরকম সরকারি অনুমতি না নিয়েই প্রধান বাড়ির বিয়ে বলে গ্রামের বহু মানুষই আমন্ত্রিত৷ সন্ধ্যা হতেই বিয়েবাড়িতে আলোর রোশনাই সানাইয়ের সুর৷ নাবালক নাবালিকা বরবধূও মালা বদলের অন্তিম প্রহর গুণছিল৷ এরই মধ্যে শুভবুদ্ধি সম্পন্ন গ্রামের মানুষের অভিযোগে বিয়ের আসলে পৌঁছে যায় জেলা প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা৷

কল্যাণপুর থানার পুলিশ টিএসআর পুরো বাড়ি ঘিরে রাখে৷ এরই মধ্যে নাবালক বর প্রধান পুত্র অবস্থা বেগতিক বুঝে গা-ঢাকা দেয়৷ ততক্ষণে জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা নাবালিকা বধুকে তাদের হেপাজতে নিয়ে নেয়৷ খবর চাউর হতেই বিয়েবাড়িতে গ্রামবাসীদের ভিড় জমায়৷ অনেকেই গ্রাম প্রধানের এই অনৈতিক কাজের বিরুদ্ধে সরব হয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে৷ বিয়েবাড়ি প্রশাসনের নির্দেশে মুহূর্তে ছন্নছাড়া হয়ে যায়৷

নিভে যায় আলোর রোশনাই, মুখ থুবড়ে পড়ে মঙ্গলশাখ আর সানাইয়ের সুর৷ প্রধান বাড়িতে নাবালক-নাবালিকার বিয়ে ভাঙতে উপস্থিত হয়েছিলেন তেলিয়ামুড়া এসডিএম অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিসিএম দেবপ্রিয়া দাস, কল্যাণপুর ব্লকের বিডিও ইস্টার জোংথে, কল্যাণপুর থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিক এস.আই শুভ্রাংশু ভট্টাচার্য ও বিশ্বজিৎ দাস৷

ডিসিএম দেবপ্রিয়া দাস জানান এলাকাবাসী সূত্রে খবরের ভিত্তিতে কল্যাণপুর ব্লকের দক্ষিণ দুর্গাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান শিখরানি দাস নিজের নাবালক পুত্রের সাথে তেলিয়ামুড়া কড়ইলং গ্রামের এক নাবালিকার বিয়ের আয়োজন করছিল খোদ প্রধানের নিজ বাসভবনেই৷ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে নাবালক পুত্রের বয়স সতেরো এবং নাবালিকার বয়স পনেরো হওয়ায় আইন মোতাবেক বিয়ে বেআইনি৷

তাই সাথে সাথেই প্রশাসনিকভাবে বিয়ে না করাতে নির্দেশ জারি করা হয় এবং বিয়ে ভন্ডুল করে দেওয়া হয়৷ নাবালক বর বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ায় তাকে পাওয়া যায়নি কিন্তু নাবালিকা বধুকে প্রশাসনিক নিয়ম মোতাবেক তুলে এনে তেলিয়ামুড়া কড়ইলং গ্রামে নাবালিকার পরিবারের লোকজনের হাতে তুলে দেওয়া হয়৷ ডিসিএম জানায় একজন জনপ্রতিনিধি হয়েও আইনকে তোয়াক্কা না করে বেআইনিভাবে এই কাজ করায় প্রধানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চ্যাট খুলুন
1
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠান
হেলো, 👋
natun.in আপনাকে কিভাবে সহায়তা করতে পারে?