করোনা : সচিবালয়ে স্টেট লেভেল কোভিড টাস্ক ফোর্সের বৈঠকে পরিস্থিতির পর্যালোচনা

স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ৬ মে।। মুখ্যসচিব মনোজ কুমারের সভাপতিত্বে স্টেট লেভেল কোভিড টাস্ক ফোর্সের এক বৈঠক আজ সচিবালয়ের কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত হয়।এই বৈঠকে রাজ্যের সামগ্রিক কোভিড পরিস্থিতির পর্যালোচনা করা হয়।

স্বাস্থ্য, শিক্ষা, শিল্প, রাজস্ব, তথ্য ও সংস্কৃতি, আরক্ষা প্রশাসন সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান সচিব, সচিব ও পদস্থ আধিকারিকগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন। মূলতঃ এই বৈঠকে রাজ্যে সর্বশেষ কোভিড সংক্রমণ পরিস্থিতি, টিকাকরণ, কোভিড প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা, কোভিডে আক্রান্তদের চিকিৎসা, কোভিড কেয়ার সেন্টারের ব্যবস্থাপনা প্রভৃতি বিষয় নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। সভায় মুখ্যসচিব মনোজ কুমার কোভিড টেস্টিং এবং বিশেষ করে টিকাকরণের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। এই ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য দপ্তর ও জেলা প্রশাসনকে প্রতিনিয়ত মনিটরিং করার জন্য তিনি নির্দেশ দেন।

আজকের পর্যালোচনা সভায় স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে গতকাল পর্যন্ত কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা এবং এলাকাভিত্তিক পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়। জানা গেছে, গত এক সপ্তাহে রাজ্যে কোভিড পজিটিভিটির রেট ৩.১৯ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৫.৬১ শতাংশে। আগরতলা পুর নিগমের কিছু কিছু এলাকা সহ পশ্চিম জেলা ও উত্তর জেলায় পজিটিভিটির হার উর্দ্ধমুখী।

এই পরিপ্রেক্ষিতে পশ্চিম ও উত্তর জেলায় কোভিড টেস্টিং হার বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনে কনটেইনমেন্ট জোন করার উপর বৈঠকে গুরুত্ব আরোপ করা হয়। বহির্রাজ্য থেকে ট্রেনে যে সমস্ত যাত্রীরা রাজ্যে আসছেন তাদের টেস্টিং-এর জন্য রাজ্যের অভ্যন্তরে বিভিন্ন রেল স্টেশনগুলিতে টেস্টিং ব্যবস্থা করা হবে। বিশেষ করে দেশের হটস্পট জোন থেকে আগত যাত্রীদের টেস্টিং-এর ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেবে স্বাস্থ্য দপ্তর।

আজকের পর্যালোচনা বৈঠকে যেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সেগুলি হল-আগরতলা শহর এলাকায়, বিশেষ করে বাসস্ট্যান্ড, বাজার, রেলস্টেশন এবং অফিসগুলিতে রেন্ডম কোভিড টেস্টিং করা। ৪৫-৬০ বছর পর্যন্ত সকলকে আগামী ৭দিনের মধ্যে টিকাকরণের আওতায় নিয়ে আসা। এক্ষেত্রে জেলাশাসকগণ বি এল ও-দের সহায়তায় উক্ত বয়সীদের চিহ্নিত করে টিকাকরণের আওতায় নিয়ে আসবেন। টিকার প্রথম ডোজের ক্ষেত্রে শহর এলাকার সেন্টারগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে, ভলান্টারি লকডাউনের ক্ষেত্রে জনগণকে সচেতন করে তোলা। অর্থাৎ জনগণ যাতে স্বেচ্ছায় বাড়ির বাইরে বের না হন।

কোনো বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া নাগরিকরা যাতে বাড়ির বাইরে না বের হন তারজন্য ব্যাপক প্রচার চালানো হবে। পাশাপাশি মাস্ক পড়া, স্যানিটাইজার ব্যবহার করার উপর সচেতনতামূলক প্রচার অব্যাহত থাকবে। সভায় সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে কোনো প্রকার রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, বিনোদনমূলক ও ক্রীড়া ক্ষেত্রে জমায়েত করা যাবেনা। কোভিড কেয়ার সেন্টারগুলির ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে ২ জন নোডাল অফিসার দায়িত্বপ্রাপ্ত থাকবেন।

একজন জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পদস্থ আধিকারিক এবং অন্যজন স্বাস্থ্য দপ্তরের চিকিৎসক। প্রত্যেক কোভিড কেয়ার সেন্টারে ২৪ ঘন্টার জন্য একটি অ্যাম্বুলেন্স রাখা হবে বলে আজকের সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জেলাস্তরে একজন ফিজিসিয়ান প্রতিদিন কোভিড কেয়ার সেন্টারে থাকা রোগীদের চিকিৎসার ব্যাপারে তদারকি করবেন এবং ৭২ ঘন্টা অন্তর অন্তর হোম আইসোলেশনে থাকা রোগীদের শারীরিক বিষয়ে খোঁজখবর নেবেন।

বাজারগুলিতে ভীড় নিয়ন্ত্রণের জন্য জেলা ও মহকুমা প্রশাসন বিশেষ নজরদারি চালাবেন। বাজার কমিটিগুলির সঙ্গে আলোচনা করে ভীড় এড়াতে দোকান খোলার সময়সীমা নির্ধারিত করা, বাজার প্রশস্ত করা ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। নিয়ম ভঙ্গ করলে কঠোর পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে।

এরজন্য জেলা ও মহকুমা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ এনফোর্সমেন্ট টীম গঠন করা হবে। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর যেসব জওয়ানরা বহির্রাজ্যে থেকে আসছেন তাদের সকলের টিকাকরণ এবং যাদের সংক্রমণের লক্ষণ রয়েছে তাদের আইসোলেশনে রাখার বিষয়ে বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়৷ সভায় বি এস এফের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে রাজ্যে তারা ১২টি কোভিড কেয়ার সেন্টার চালু করবে। সংশ্লিষ্ট এলাকার জেলা শাসকগণ এই বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করবেন।

বৈঠকে কোভিড চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ঔষধের সরবরাহ এবং অক্সিজেনের সামগ্রিক অবস্থা নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়। জরুরী এইসব বিষয়ে নিয়মিত পর্যালোচনা ও তদারকি করার উপরও বৈঠকে গুরুত্ব আরোপ করা হয়। স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রধান সচিব জে কে সিনহা কোভিড মোকাবিলায় স্বাস্থ্য দপ্তরের বিভিন্ন স্তরের কর্মচারীরা সময়ে সময়ে উদ্ভুত পরিস্থিতির মোকাবিলা করে যেভাবে কাজ করছেন তার জন্য তাদের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

সভায় স্বাস্থা দপ্তরের প্রধান সচিব জে কে সিনহা, পরিবহণ দপ্তরের প্রধান সচিব শ্রীরাম তরণীকান্ত, নগরোন্নয়ন দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে, শিক্ষা দপ্তরের সচিব সৌম্যা গুপ্তা, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সচিব ড. প্রশান্ত কুমার গোয়েল, রাজস্ব দপ্তরের সচিব তনুশ্রী দেববর্মা, পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার জেলাশাসক রাভেল হেমেন্দ্র কুমার, স্বাস্থ্য দপ্তরের অধিকর্তা ডা. শুভাশিস দেববর্মা, পরিবার কল্যাণ ও রোগ প্রতিরোধ অধিকারের অধিকর্তা ডা. রাধা দেববর্মা, জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের মিশন ডিরেক্টর ডা. সিদ্ধার্থ শিব জয়সওয়াল, বি এস এফ, এয়ারপোট অথোরিটির প্রতিনিধি সহ স্বাস্থ্য দপ্তরের অন্যান্য পদস্থ আধিকারিকগণ উপস্থিত ছিলেন। সভায় শেষে রাজ্যের প্রাক্তন প্রধান সচিব আর পি মীনার প্রয়াণে শোক জ্ঞাপন করে দু’মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চ্যাট খুলুন
1
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠান
হেলো, 👋
natun.in আপনাকে কিভাবে সহায়তা করতে পারে?