পানিসাগরে করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার, পানিসাগর, ৪ মে।। রাজ্যে করোনার দ্বিতীয় স্ট্রেনে কেড়ে নিল আরও একটি তরতাজা প্রান। এবারে করোনা সংক্রামিত হয়ে মৃত্যুর ঘটনাটি উওর জেলার পানিসাগরে। কোভিড আক্রান্ত এক ব্যাক্তিকে সোমবার রাতে আনুমানিক দুইটা পঞ্চাশ মিনিট নাগাদ উওর জেলার কাঞ্চনপুর মহকুমা হাসপাতাল থেকে রেফার করা হয় পানিসাগর আরসিপিই ইনডোর স্টেডিয়ামে দুই নং কোভিড কেয়ার সেন্টারে।কিন্ত কেয়ার সেন্টারে পৌছলেও শেষ রক্ষা হয় নি।কোন ধরনের চিকিৎসা ছাড়াই মৃত্যুর কোলে ঢলে পরে সে।জানা গেছে মৃত ব্যক্তির বাড়ি কাঞ্চনপুরের মিলন সংঘ এলাকায়।সে নাকি বিগত কিছুদিন পূর্বে কোভিডের টিকা নেওয়ার পর থেকেই জ্বরে আক্রান্ত হয়।

এর পর থেকে তার খাওয়া দাওয়া প্রায় বন্ধ হয়ে পড়ে।ফলে শারিরীক অবস্হা আরও অবনতির দিখে চলে যায়।এমতাবস্থায় সোমবার কাঞ্চনপুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে প্রাথমিক ভাবে এন্টিজেন টেস্ট করানো হলে কোভিড পজেটিভ ধরা পরে। এরপরই তড়িঘড়ি পানিসাগর কোভিড কেয়ার সেন্টারে পাটিয়ে দেওয়া হয়।কোভিড সেন্টারটিতে বর্তমানে একশো কুড়ি শয্যা রয়েছে। সংক্রমিতদের চিকিৎসার ব্যবস্হা করা হয়েছে।বিগত পহেলা মে থেকে সেন্টারটি দ্বিতীয় বারের মতো চালু করা হলেও এখন পর্যন্ত তিন জন মহিলা সহ মোট ৫৪ জন আক্রান্তের চিকিৎসা চলছে সেন্টারটিতে।তবে অভিযোগ হল গতকাল রাএি থেকে মৃতদেহটি বেডে পড়ে থাকলেও সেন্টারটির দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক থেকে শুরু করে প্রশাসনিক কোন আধিকারিকের টিকির নাগাল মিলেনি।অপর দিকে একই হলে থাকা অন্যান্য আক্রান্তরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।

কর্মরত সাফাই কর্মিদের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে এরাও কোন সঠিক সদুত্তর দিতে পারেনি।তাই বাধ্য হয়ে চিকিৎসারত অবস্হায় আক্রান্তরা ক্ষোভে ফেটে পরেন এবং বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। তারা হলের বাইরে চলে আসে। এক সাফাই কর্মী জানায় গতকাল রাএিতে অসুস্হ ব্যাক্তিটি আসার পর কর্তব্যরত চিকিৎসককে অনেকবার জানানোর চেষ্টা করলেও উনার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। কারন কেয়ার সেন্টারে চিকিৎসাধীন অবস্হায় চিকিৎসকরা সেন্টারেই থাকার নিয়ম। সকল ধরনের ব্যাবস্হা থাকা সত্বেও নিজেদের আত্মরক্ষার্থে এরা অন্যএ রাএি যাপন করেন।এমতাবস্থায় অনেকরার ডাকা ডাকি করা সত্বেও তাদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশই বহিরাজ্যের এবং এদের বেশিরভাগই লরি চালক ও শ্রমিক।খবর পেয়ে কেয়ার সেন্টারে ছুটে যান পানিসাগর মহকুমা শাসক লাল নুন নেইমি ডার্লং, মহকুমা পুলিশ আধিকারিক সৌভিক দে,জেলা স্বাস্হ্য সুপার ডঃ দীপক হালদার,ডেপুটি কালেক্টর মঃনুরুজ্জামান,পানিসাগর থানার ও,সি,সৌগত চাকমা এবং জেলা শাসক কার্যালয়ের আধিকারিকরা ।এদের উপস্থিতিতে আক্রান্তরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এরা জানান কেয়ার সেন্টারটিতে সঠিক সময়ে টিফিন, দুপুরের খাবার, এমনকি রাএের খাবার পর্যন্ত দেওয়া হয় না।নেই কোন বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যাবস্হা।আজ অব্দি চার দিন অতিবাহিত হলেও তাদের কোন নিয়মিত চেক আপ বা ঔষধ দেওয়া হয় নি।তাই আক্রান্তরা মহকুমা শাসকের হস্হক্ষেপ দাবি করছেন। মৃত ব্যক্তির মৃতদেহ সৎকারের জন্য প্রথমে ধর্মনগরে নিয়ে যাওয়া হলেও পরিশেষে কোভিড বিধি মেনে সকল প্রকার আইনি জটিলতা মুক্ত করে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তবে রাএি বারোটার পর মৃতদেহ সৎকারের নির্দেশ দেওয়া হয়।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চ্যাট খুলুন
1
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠান
হেলো, 👋
natun.in আপনাকে কিভাবে সহায়তা করতে পারে?