অনলাইন ডেস্ক, ৩ মে।। দেশের করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ। দিন যত যাচ্ছে ততই উদ্বেগ বাড়িয়ে মারাত্মক আকার ধারণ করছে সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ। এই অবস্থায় গোটাদেশ সহ বিভিন্ন রাজ্যে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জনকল্যাণের স্বার্থে দেশব্যাপী সম্পূর্ণ লকডাউনের পথে হাঁটতে কেন্দ্রীয় সরকারকে পরামর্শ সুপ্রিম কোর্টের।
রবিবার এই মর্মে শীর্ষ আদালতের তরফে জানানো হয়েছে, দেশে ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে সংক্রমণের রেশ। সম্পূর্ণ লকডাউন না করলে কোনও ভাবেই ঠেকানো সম্ভব নয় এই মারণ ভাইরাসকে। ফলে জনকল্যাণের স্বার্থে দেশজুড়ে সাময়িকভাবে সম্পূর্ণ লকডাউন ঘোষণা করা হোক। এদিন কেন্দ্রের কাছে এই পরামর্শ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
শীর্ষ আদালতের ওই নির্দেশিকায় করোনা পরিস্থিতি রুখতে কেন্দ্রীয় সরকার কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তাও জানতে চাওয়া হয়। একই সঙ্গে কেন্দ্র এবং বিভিন্ন রাজ্যে করোনার সুপার স্প্রেডার রোধ করতে জনসমাবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।
শুধু তাই নয়, আরও বলা হয়েছে, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ রুখতে জনকল্যাণের স্বার্থে সরকারকে লকডাউনের বিষয়টিও বিবেচনা করে দেখার পরামর্শ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
এর আগেও করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য কেন্দ্রের ‘জাতীয় পরিকল্পনা’ কী, তা সুপ্রিম কোর্ট জানতে চেয়েছিল। এই মর্মে কেন্দ্রকে একটি নোটিসও দিয়েছিল প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ।
সেই সময় শীর্ষ আদালত জানিয়েছিল , মূলত চারটি বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়া উচিত। সেগুলি হল অক্সিজেন সরবরাহ, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ সরবরাহ, টিকাকরণের পদ্ধতি এবং লকডাউনের ক্ষমতা কার কাছে থাকবে।
আর এরপরই ফের করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্র কী কী পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে মানুষের স্বার্থে প্রাণ রক্ষায় সম্পূর্ণ লকডাউন জারি করা হবে কি না তা জানতে চেয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
যদিও ভারতে সম্পূর্ণ লকডাউন ঘোষণা হলে আগের বারের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি যাতে না হয় তারজন্য আগাম সতর্কতা মূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। লকডাউন জারির আগে মানুষের চাহিদা পূরণ এবং অর্থনীতি যাতে সচল থাকে সেদিকেও নজর রাখার পরামর্শ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
উল্লেখ্য, মানুষকে স্বস্তি দিয়ে রবিবার কিছুটা কমেছিল করোনা সংক্রমণ। সোমবারও সেই জের অব্যাহত রইল। এদিন রবিবারের রিপোর্টের তুলনাতেও কমল করোনা সংক্রমণ। আক্রন্তের সংখ্যা নেমে এসেছে ৩ লক্ষ ৬৮ হাজারে। পাশাপাশি বেড়েছে সুস্থতার হারও।