দেশের জন্য ‘মন খারাপ’ গুগল সিইও’

অনলাইন ডেস্ক, ৩০ এপ্রিল।। করোনাভাইরাসের কড়ালগ্রাসে বিধ্বস্ত ভারত। হাসপাতালের শয্যা, অক্সিজেনের অভাব এবং করোনার চিকিৎসায় ব্যবহৃত জরুরি ওষুধের তীব্র সংকট দেখা গেছে দেশটিতে। করোনায় নিজের দেশের এমন ভয়ানক পরিস্থিতি দেখে মন খারাপ গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সুন্দর পিচাইয়ের।

তিনি বলেছেন, ভারতে মহামারীর এই বিধ্বংসী প্রভাবের সাক্ষী হওয়া দুঃখজনক। ভারতের এ দুঃসময়ে আমাদের এগিয়ে আসা উচিত।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদ মাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে গুগল সিইও এসব কথা বলেন।

সাক্ষাৎকারে সুন্দর পিচাই ভারতের বতর্মান পরিস্থিতি, তার কোম্পানির পদক্ষেপ এবং অন্যরা কিভাবে সহায়তা করতে পারেন এসব নিয়ে আলোচনা করেন।

সাক্ষাৎকারটি ছিল পিচাই ও মাইক্রোসফটের সাত্যয়া নাদেলার মধ্যে। তারা দুজনই ভারতীয় বংশভূত আমেরিকান সিইও। তারা দুজনে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সহায়তা করার অঙ্গীকার করেছেন।

গুগল তার এক ব্লগ পোস্টে জানায়, করোনা মোকাবিলায় তারা জরুরি মেডিসিন সরবরাহের জন্য ইউনিসেফকে অনুদান দিবে। আর এই অনুদান ভারতে দেয়া হবে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহায়তার জন্য। এছাড়া স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রচারণার জন্য গুগল আরো ১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দিচ্ছে।

সিএনএন’র সাক্ষাৎকারে পিচাই বলেন, ভারতে অবস্থা খুবই শোচনীয় এবং হৃদয় বিদারক অবস্থা। তবে আমার মনে হয় সর্বোচ্চ ভয়াবহ পরিস্থিতি এখনও সৃষ্টি হয়নি। আমরা এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিনকেনসহ সর্বো্চ্চ পর্যায়ের সবাই দেখছি- কিভাবে ভারত ও অন্যান্য আক্রান্ত দেশগুলোর পাশে দাঁড়ানো যায়।

অন্য কোম্পানিগুলো কিভাবে সহায়তায় এগিয়ে আসতে পারে পিচাই বলেন, একেকটা কোম্পানির একেক সক্ষমতা রয়েছে। যক্তরাষ্ট্রের সরকারের বিশেষ সক্ষমতা রয়েছে। আমাদের দিক থেকে আমরা তথ্য প্রদানে সহায়তা করছি। প্রায় ৬০০ মিলিয়ন মানুষ ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত এবং তারা ভ্যাকসিন ও টেস্ট সম্পর্কে তথ্য খুঁজছেন। তাই ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে কাজ করে মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করা আমাদের একটি বড় লক্ষ্য। মানুষের ঘরে থাকা, মাস্ক পরা ও নিরাপদে থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা মানুষকে তথ্য পেতে সাহায্য করছি।

তিনি অন্য বড় কোম্পানিগুলোকেও নিজ নিজ সক্ষমতা নিয়ে পাশে দাঁড়ানো আহ্বান জানিয়েছেন।

সুন্দর পিচাই বলেন, নিজেদের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে সাহায্য করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। দ্বিতীয়ত, মাঠপর্যায়ে অর্থ ও প্রয়োজনীয় সংস্থান করা গেলে অনেক বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব। ভারত যেন ভ্যাকসিন তৈরি শুরু করতে পারে এর জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের সরবরাহ নিশ্চিত করতে আমি বিশেষভবে যুক্ত ছিলাম। অ্যাস্ট্রেজেনকার যা করেছে ভারতের জন্য- তাতে আমি অনুপ্রাণিত হয়েছি। এই মহামারী আমাদের একত্রিত করেছে। আমরা আমেরিকানরা ভাগ্যবান। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সবার জন্য ভ্যাকসিন নিশ্চিত করতে আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হবে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির করোনা মোকাবিলার ভূমিকা নিয়ে গুগল সিইও বলেন, আপনি যদি বিশ্বের দিকে তাকান, ভারত কোভিড সংক্রমণে সর্বোচ্চ পর্যায়ে আছে। এর ঢেউ আবারও আসতে পারে। আমি মনে করি গণস্বাস্থ্য সচেতনতায় উৎসাহ দান এবং দুর্যোগের দিকে মনোনিবেশ করা যেতে পারে স্বল্পমেয়াদে। আমি তার সেই চেষ্টাই দেখছি। সহায়তা করার জন্য কোম্পানি হিসেবে আমরা তাদের পাশে রয়েছি।

ফেসবুক ও টুইটার থেকে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে করা কিছু পোস্ট সরানোর প্রসঙ্গে সুন্দর পিচাই বলেন, স্বাভাবিকভাবেই আমরা স্থানীয় আইন মেনে চলি। একটি গণতান্ত্রিক দেশের আইন পাস হয় তার নিয়ম ও প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। ভারতের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিকে সম্মান করা, এর গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের অংশ। সেটাই শক্তি। তবে আমাদের কাছে এ বিষয়ে কোনো অনুরোধ ছিল না। আমরা পূর্বেও বিভিন্ন দেশের সরকারের সাথে গঠনমূলকভাবে কাজ করেছি এবং এ ক্ষেত্রেও তাই করব।

 

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চ্যাট খুলুন
1
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠান
হেলো, 👋
natun.in আপনাকে কিভাবে সহায়তা করতে পারে?