স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ৩০ এপ্রিল।। রাজ্য সরকার লক্ষ্য করেছে যে, দ্বিতীয় দফায় কোভিড-১৯ মহামারি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়াচ্ছে যা জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক হতে পারে। এই মহামারি প্রতিরোধে উপযুক্ত ব্যবস্থা না নিলে মহামারি বিরাট আকার ধারণ করতে পারে৷ তাই ত্রিপুরা স্টেট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটির স্টেট এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান মুখ্যসচিব মনোজ কুমার এক আদেশে আগামী ৩১ মে, ২০২১ পর্যন্ত কিছু বিধিনিষেধ জারি করেছেন। বিধিনিষেধগুলি হচ্ছে
১) করোনা নাইট কার্ফু: আগরতলা পুর নিগম এলাকায় ৩১ মে, ২০২১ পর্যন্ত রাত ১০টা থেকে সকাল ৫টা পর্যন্ত কার্ফু বলবৎ থাকবে। স্বাস্থ্য সংক্রান্ত কারণ বা অন্য কোনও আপতকালীন বিষয় কিংবা স্বাস্থ্য পরিষেবা, পুলিশ, নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ পরিষেবা, পানীয় জল সরবরাহ, সংবাদমাধ্যম ইত্যাদির সাথে জড়িত ব্যক্তিগণ কার্ফুর আওতার বাইরে থাকবেন। এই আদেশ কার্যকর করার জন্য কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
২) জমায়েতের উপর বিধিনিষেধ: সামাজিক / রাজনৈতিক / খেলাধূলা / বিনোদনমূলক / শিক্ষামূলক / সাংস্কৃতিক / মেলা / উৎসব ইত্যাদি সমস্ত অধিক সংক্রমণের সম্ভাবনা রয়েছে এমন অনুষ্ঠানের আয়োজনে নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে। এসব ক্ষেত্রে আয়োজকরা জেলা প্রশাসন থেকে আগাম অনুমতি নেবেন। দেওয়াল পরিবেষ্টিত স্থান বা হলঘরে অনুষ্ঠিত যে কোনও সামাজিক, সাংস্কৃতিক, বিনোদনমূলক বা রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে মোট বসার জায়গার ৫০ শতাংশ (সর্বোচ্চ ১০০ জন) পূরণ করা যাবে।
উন্মুক্ত স্থানে মাঠের আয়তন অনুসারে ২০০ জন পর্যন্ত জমায়েতের অনুমতি দেওয়া যাবে। তবে মাস্ক পরিধান, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং স্যানিটাইজার বা হ্যান্ডওয়াশের ব্যবস্থা রাখতে হবে। আয়োজকরা এসব নিয়মনীতি অনুসরণ করার জন্য উপযুক্ত সংখ্যায় স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করবেন। সরকারি কিংবা বেসরকারি স্থানে বিবাহ / জন্মদিন ও অন্যান্য সামাজিক অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে ১০০ জনের বেশি লোকের জমায়েত হতে পারবে না। দাহক্রিয়া / অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার ক্ষেত্রে ২০ জন পর্যন্ত লোকের জমায়েত হতে পারবে।
সিনেমা হল / মাল্টিপ্লেসগুলি অর্ধেক আসন খালি রেখে চলতে পারবে। * জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের বাড়িতে থাকতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বাকিদেরও অপ্রয়োজনীয় চালচল বন্ধ রাখতে এবং ভিড় এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।৩) কন্টেইনমেন্ট: স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের নির্দেশিকা অনুসারে জেলা প্রশাসন মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের সাথে পরামর্শক্রমে কন্টেইনমেন্ট জোন / মাইক্রো কন্টেইনমেন্ট জোন ঘোষণা করবে। কন্টেইনমেন্ট জোন এবং তার বাইরের এলাকার মধ্যে সংক্রমণের ধারাকে ছিন্ন করতে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে।
নিয়ম অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা আইন ২০০৫ অনুসারে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাছাড়াও ‘দ্য এপিডেমিক ডিজিজ কোভিড-১৯ রেগুলেশনস ২০২০ অনুসারে বিধিনিষেধ জারি করে বলা হয়েছে যে ১) কর্মস্থল / পাবলিক প্লেস কিংবা ভ্রমণকালে বা ড্রাইভিং-এর সময় মাস্ক / মুখাবরণ ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক।
২) গণ পরিবহণ ব্যবস্থায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে৷ ৩) সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে দোকানগুলি চালু রাখা হবে। দোকানে ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য ভলান্টিয়ার নিয়োগ করতে হবে। যেসব দোকানের সামনের অংশ এক মিটারের কম প্রশস্ত সেসব দোকানে এক সময়ে মাত্র একজন ক্রেতাকে ঢুকতে দেওয়া হবে। এক মিটারের বেশি এবং দুই মিটারের কম প্রশস্ত দোকানে এক সাথে দু’জন ক্রেতা ভেতরে যেতে পারবেন।
বাকিরা পিছনে অপেক্ষায় থাকবেন। ক্রেতা বিক্রেতা উভয়কেই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে এবং প্রতিদিন দোকান স্যানিটাইজ করতে হবে। তাছাড়াও আদেশে বলা হয়েছে মাস্ক পরিধান না করলে প্রথমবার ২০০ টাকা জরিমানা এবং পরবর্তীকালে প্রতিবার ৪০০ টাকা করে জরিমানা হবে। তেমনি উল্লিখিত স্থানগুলিতে সামাজিক দূরত্ব বজায় না রাখলে এবং হোম কোয়ারেন্টাইনের নিয়ম ভঙ্গ করলে ১০০০ টাকা জরিমানা হবে বলে এই আদেশে জানানো হয়েছে।