অতি স্বল্প সময়ে রাজ্যের ৯৪.৫ শতাংশ স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদানকারী কর্মী এবং ৯৫.৫ শতাংশ প্রথমসারির কর্মী টিকা নিয়েছেন যা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ। আজ আগরতলা পুর নিগমের কনফারেন্স হলে এক সাংবাদিক সম্মেলনে জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের রাজ্য অধিকর্তা ডা. সিদ্ধার্থ শিব জয়সওয়াল এই সংবাদ জানান। সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি জানান, ১৬ জানুয়ারি থেকে কোভিড-১৯ টিকাকরণের প্রথম পর্যায়ে স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদানকারী কর্মীদের টিকার প্রথম ডোজ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদানকারী কর্মীদের টিকার দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। রাজ্যের ৪৫ হাজার ২৭০ জন স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদানকারী কর্মীদের টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে টিকাকরণের গড় হার ৯৪.৫ শতাংশ। সেইসঙ্গে রাজ্যের ৩৭ হাজার ৭৮৬ জন স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদানকারী কর্মীদের টিকার দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়।
এক্ষেত্রে টিকাকরণের গড় হার ৮৩.৫ শতাংশ। সাংবাদিক সম্মেনে মিশন অধিকর্তা জানান, ৬ মার্চ থেকে রাজ্যে কোভিড- ১৯ টিকাকরণের দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রথমসারির কর্মীদের কোভিড-১৯ টিকার দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। রাজ্যের ৬২ হাজার ৪২ জন প্রথমসারির কর্মীদের টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে টিকাকরণের গড় হার ৯৫.৫ শতাংশ।
সেইসঙ্গে রাজ্যের ৫০ হাজার ৭৫ জন প্রথমসারির কর্মীদের টিকার দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে টিকাকরণের গড় হার ৮০.৭ শতাংশ। তিনি জানান, ১ মার্চ থেকে কোভিড-১৯ টিকাকরণের তৃতীয় পর্যায়ে ৬০ বছর বয়সের উপর ব্যক্তি এবং ৪৫ বছর বয়স থেকে ৫৯ বছর বয়সের নাগরিক যারা নির্দিষ্ট রোগে (কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক চিহ্নিত রোগ সমূহ)আক্রান্তদের টিকাকরণের আওতায় আনা হয়।
১ এপ্রিল থেকে রাজ্যে ৪৫ বছরের ঊর্ধে সমস্ত নাগরিকদের টিকা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।সাংবাদিক সম্মেলনে মিশন অধিকর্তা আরও জানান, রাজ্যে এখন পর্যন্ত ৩ লক্ষ ৩৪ হাজার ৮১ জন ৬০ বছর ঊর্ধে নাগরিকদের কোভিড-১৯ টিকা দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে টিকাকরণের গড় হার ৭৬.১ শতাংশ। সেইসঙ্গে ৪ লক্ষ ২৮ হাজার ৮৭৩ জন ৪৫ বছর বয়স থেকে ৫৯ বছর বয়সের নাগরিকদের টিকা দেওয়া হয়েছে।
এক্ষেত্রে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত টিকাকরণের গড় হার ৫৫.৯ শতাংশ। তিনি জানান, ১ মে থেকে কোভিড-১৯ টিকা সরবরাহের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে। তবে পূর্ব নির্দেশিকা অনুসারে কেন্দ্রীয় সরকার অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে রাজ্যকে বিনামূল্যে টিকা সরবরাহ করবে। নতুন নির্দেশিকা অনুসারে রাজ্যকে টিকা ক্রয় করতে হবে। তিনি জানান, রাজ্যে in the state ১৮ বছর থেকে ৪৪ বছর বয়সের নাগরিকদের টিকাকরণের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার কোভিশিল্ড ভ্যাকসিন ক্রয় করবে।
নির্বাচন কমিশনের রিপোর্ট অনুসারে রাজ্যে ১৮ বছর থেকে ৪৪ বছর বয়সের নাগরিকের সংখ্যা প্রায় ১৬ লক্ষ। তিনি জানান, বর্তমানে ৯৪৮ টি টিকাকরণ কেন্দ্রে টিকা দেওয়া হচ্ছে। সরকারি মেডিক্যাল কলেজ, রাজ্য হাসপাতাল, জেলা হাসপাতাল, সামাজিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র, সাব-সেন্টার, সি এ পি এফ ক্যাম্প ও আই এল এস হাসপাতালে টিকা দেওয়া হচ্ছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে মিশন অধিকর্তা জানিয়েছেন, রাজ্যে এমন অনেক প্রথমসারির কর্মী, বিশেষ করে আধা সামরিক বাহিনী (সি.এ.পি.এফ)-এর কর্মী এবং ৪৫ বছরের ঊর্ধের নাগরিকগণ রয়েছেন যারা কো-ভ্যাকসিন-এর প্রথম ডোজ বহি:রাজ্য থেকে গ্রহণ করেছেন এবং বর্তমানে বিভিন্ন কারনে ত্রিপুরায় রয়েছেন। এই সুবিধাভোগীদের দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার জন্যে এক বিশেষ টিকাকরণ কর্মসূচি আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তর, ত্রিপুরা সরকার।
এই অনুসারে বিশেষ অনুরোধে কেন্দ্র থেকে পর্যাপ্ত সংখ্যায় কো-ভ্যাকসিন আনা হয়েছে। জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন, ত্রিপুরা সরকার- এর তরফ থেকে ৫ মে, ২০২১ রাজ্যের বিশেষ টিকাকরণ কর্মসূচি আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সুবিধাভোগীরা উল্লেখিত দিনে টিকা নেওয়ার জন্যে এখন থেকেই cowin.gov.in -এ নিজেদের নাম নথিভূক্ত করতে পারেন। যদি নাম নথিভূক্ত করতে কারও অসুবিধা হয় সেক্ষেত্রে তাঁরা সরাসরি নিম্নলিখিত কোভিড টিকাকরণ কেন্দ্রে কো-ভ্যাকসিন-এর দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণ করতে পারেন।
তিনি জানান, আগামী ৫ মে কো-ভ্যাকসিন নেওয়ার কেন্দ্রগুলি হল পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার আই এম এ হাউস কনফারেন্স হল (পশ্চিম, সিপাহীজলা ও খোয়াই জেলার জন্য), উত্তর ত্রিপুরা জেলার পদ্মপুর ইউ পি এইচ সি সি ভি সি (উত্তর ত্রিপুরা ও ঊনকোটি জেলার জন্য), ধলাই জেলার আমবাসা পি এইচ সি সি ভি সি, গোমতী জেলার উদয়পুরের ত্রিপুরাসুন্দরী মহকুমা হাসপাতাল, দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার শান্তিরবাজারস্থিত জেলা হাসপাতাল।