অনলাইন ডেস্ক,১৭ এপ্রিল।। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের জেরে বিপর্যস্ত গোটা দেশ। দৈনিক করোনা-সংক্রমণ ভেঙে ফেলছে একের পর এক পুরানো রেকর্ড, সর্বকালীন রেকর্ড গড়ে ভারতে ২.৩৪-লক্ষের গণ্ডি ছাড়িয়ে গেল দৈনিক করোনা-সংক্রমণ। এই সময়ে ভারতে মৃত্যু হয়েছে ১,৩৪১ জনের। শনিবার সকালে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক জানিয়েছে, শুক্রবার সারাদিনে ভারতে নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন মোট ২,৩৪,৬৯২ জন, বিগত ২৪ ঘন্টায় সমগ্র দেশে করোনা কেড়ে নিয়েছে ১,৩৪১ জনের প্রাণ।
ভারতে সক্রিয় করোনা-রোগীর সংখ্যা বাড়তে বাড়তে ১৬.৭৯-লক্ষের (১১.৫৬ শতাংশ) গণ্ডি ছাড়িয়ে গিয়েছে। সংক্রমণ বৃদ্ধির মধ্যেই সুস্থতা স্বস্তি দিচ্ছে, শুক্রবার সারা দিনে ভারতে করোনা-মুক্ত হয়েছেন ১ লক্ষ ২৩ হাজার ৩৫৪ জন। ফলে শনিবার সকাল আটটা পর্যন্ত ভারতে মোট সুস্থ হয়েছেন ১,২৬,৭১,২২০ জন করোনা-রোগী (৮৭.২৩ শতাংশ)। এই অবস্থায় শনিবার রাতে রিভিউ মিটিংয়ে বসলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পর্যালোচনা বৈঠকে দেখা হয় দেশের করোনা পরিস্থিতির মোকাবিলা করার দিকগুলো। আলোচনায় উঠে আসে দেশের ভ্যাকসিন মজুতের পরিমাণও। বিভিন্ন দফতরের উচ্চ পদস্থ আধিকারিকরা বৈঠকে উপস্থিত থাকেন। দেশে সুনামির মত আছড়ে পড়েছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ।
লাগাতার বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের সাম্প্রতিকতম রিপোর্ট অনুযায়ী আক্রান্তের নিরীখে ভারত আবার নতুন রেকর্ড তৈরি করল। গত ২৪ ঘন্টায় করোনা ভাইরাস থাবা বসিয়েছে ২ লক্ষ ৩৪ হাজার ৬৯২ জনের শরীরে। এখনও পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৪৫ লক্ষ ২৬ হাজার ৬০৯ জন। কোরোনার বলি হয়েছে ১ হাজার ৩৪১ জন। যা শুক্রবারের তুলনায় বেশ খানিকটা বেশি।এখনও পর্যন্ত ১ লক্ষ ৭৫ হাজার ৬৫০জন মানুষ করোনার বলি হয়েছে।পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘন্টায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ লক্ষ ২৩ হাজার ৩৫৪ জন।
এইমুহূর্তে দেশে সক্রিয় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ লক্ষ ৭৯ হাজার ৭৪০জন। এখনও পর্যন্ত কোভিড টিকা পেয়েছেন দেশের ১১ কোটি ৯৯ লক্ষ ৩৭ হাজার ৬৪১ জনকে। তবে সংক্রমণ তাতেও রোখা যাচ্ছে না। গত জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসেই মনে হয়েছিল, স্বস্তি ফিরিয়ে করোনা কমছে। সম্ভবত তার পুরোপুরি বিদায়ের ক্ষণও এসেই গিয়েছে। কিন্তু এ বঙ্গ এখনও রঙ্গে ভরা। সেই রঙ্গের নাম ‘ভেরিয়্যান্ট’। করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ে যা সবচেয়ে বেশি আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আতঙ্ক, কারণ, করোনাভাইরাসের এই নতুন রূপ (ভেরিয়্যান্ট) দ্রুত ‘মিউটেশন’ করে।