ভাতা আনতে গিয়ে টানা দুই দিন নাকানি-চোবানি খেলেন বৃদ্ধরা

স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ১৬ এপ্রিল।। হাতে ব্যাঙ্কের পাস বই৷ দীর্ঘ লাইন৷ অনিশ্চয়তার ভয়৷ এভাবেই কেটে গেল ১৪ এপ্রিল আর ১৬ এপ্রিলের নতুন বছর৷ বৃদ্ধ ভাতা আনতে গিয়ে, বিধবা ভাতা আনতে গিয়ে এভাবেই টানা দুই দিন নাকানি-চোবানি খেল বৃদ্ধরা৷ প্রকাশ পেল রাজ্য সরকারের দায়িত্ব হীনতার৷ ডাবল ইঞ্জিনের সাহায্যে যে শক্তিতে কাজ করার কথা ছিল এখন মানুষ বুঝতে পারছে যেন ইঞ্জিনই নেই৷

সারা রাজ্যে কয়েক লক্ষ ভাতা প্রদান করা হয় বৃদ্ধ নাগরিক, বিধবা মহিলা, প্রভৃতিদের৷ বাংলা নববর্ষ বাঙালিদের বিরাট পর্ব৷ এমন একটা সময়ে সরকার বৃদ্ধ নাগরিকদের সাথে চরম রসিকতা করলো৷ শহরের বিভিন্ন স্টেট কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্ক এবং রাজ্যের দূর-দূরান্তের স্টেট কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কেও ত্রিশ চৈত্র ও বৈশাখের দ্বিতীয় দিন প্রচুর মানুষ ভাতা পাবার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ছিল৷

ভাতার বই যখন ব্যাঙ্কের কাউন্টারের জানালার ফাঁক গড়িয়ে কাঁপা কাঁপা হাতে ভেতরে ঢুকিয়ে ঘোলাটে চোখে বৃদ্ধরা জানতে চাইছিল ভাতা এসেছে কিনা? ব্যাঙ্ক কর্মীদের মুখে ছিল তীব্র বিরক্তিকর ছাপ৷ তাদের মুখের ভঙ্গি এবং দুর্ব্যবহার টাকা না পাবার চাইতেও বেশি দুঃখ দিয়েছে বৃদ্ধদের৷ একেকটি ব্যাঙ্কে শতাধিক মানুষের লম্বা লাইন৷ থিক থিক ভিড়৷ ভাতা প্রাপকদের নানাহ প্রশ্ণও ব্যাঙ্ক কর্মীদের বিরক্ত করে তোলে৷

প্রশ্ণ উঠেছে সরকার এত সংবেদনহীন কেন? বটতলাতে আজ হিরণবালা দাস নামে এক বৃদ্ধ মহিলা জানালেন, ভাতার টাকা না পাওয়াতে প্রেসারের ওষুধ কিনতে পারছেন না৷ আগে মাসের সাত, আট তারিখই টাকা পেতেন৷ এখন পনেরো তারিখ পার হবার পরেও পেলেন না৷ ঠিক একই অবস্থা সারা রাজ্যের ব্যাঙ্কে এখনো ভাতা ঢুকেনি৷ ব্যাঙ্কের কতপিয় কর্মীর বক্তব্য আগে পাঁচ-ছয় তারিখ সমাজ কল্যাণ দপ্তর টাকা পাঠিয়ে দিত৷ আমরা আট-দশ তারিখ দিয়ে দিতাম৷ এখন দেরি করে পাঠায়৷

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চ্যাট খুলুন
1
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠান
হেলো, 👋
natun.in আপনাকে কিভাবে সহায়তা করতে পারে?