স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ১৭ এপ্রিল।। রাজধানী আগরতলা শহরের ভগবান ঠাকুর চৌমুহনীতে নেশাগ্রস্ত এক যুবকের রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃত যুবকের নাম মামুন দাস।রাজধানীর একটি বাড়ি থেকে উদ্ধার করা যুবক মামুন দাস চেন্নাইয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং এ পড়াশোনা করত। সে মারাত্মকভাবে ড্রাগ এডিক্টেড হয়ে পড়েছিল। পরিবারের লোকজন না তাকে নেশার কবল থেকে মুক্ত করার জন্য নেশা মুক্তি কেন্দ্র চিকিৎসা করিয়েছেন।
গত কিছুদিন ধরে সে নেশার কবল থেকে অনেকটাই দূরে ছিল। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। নেশাখোর বন্ধুদের কবলে পড়ে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে ওই যুবক। নেশাখোর ওই যুবকদের আড্ডাখানা ছিল রাজধানীর সিটি সেন্টার। শুক্রবার সন্ধ্যা নাগাদ মামুন তার কয়েকজন বন্ধুকে ফোন করে জানায় সে মেলায় যাবে।
রাত সাড়ে নয়টা পর্যন্ত সে বন্ধুদের সঙ্গে পর্যন্ত রাজপ্রাসাদের সামনে ঘোরাফেরা করে। কথা ছিল তার মাকে নিয়ে বের হবে। রাতে দেবজিত নামে তার এক বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে গাড়ি করে বের হয়। পরবর্তী সময়ে বুদ্ধ ও অর্ঘ্য নামে তাদের আরো দুই বন্ধুর সঙ্গে দেখা হয়। রাতে একসাথেই তারা ঘোরাঘুরি করে বলে খবর।
সকালে তারা যায় ঊষা বাজারে এক বন্ধুর বাড়িতে। বন্ধুকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে। সেখান থেকে তারা চলে আসে ভগবান ঠাকুর চৌমুহনীতে। এখানেই তার মৃতদেহ মিলেছে। তার মুখ দিয়ে প্রচন্ড পরিমাণে রক্তক্ষরণ হয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে অতিরিক্ত নেশা করার ফলে এই ঘটনা ঘটেছে।
মামুন দাস মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ার পর তার বন্ধুরা তার বাড়িতে ফোন করে তার মা-বাবাকে আসার জন্য বলে। মামুনকে সেখান থেকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। জিবি হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানায় তার এক বন্ধু।
আশঙ্কা করা হচ্ছে বন্ধুরা মিলে তাকে অতিরিক্ত নেশা করিয়ে পরিকল্পিতভাবে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে। এব্যাপারে মৃত মামুন দাস এর বাবা নারায়ন দাস থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ এ ব্যাপারে একজনকে আটক করেছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।