স্টাফ রিপোর্টার, সাব্রুম, ১৭ এপ্রিল।। দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার শাসকদলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বিবাদ চরম আকার ধারণ করেছে। এক গোষ্ঠী অপর গোষ্ঠীর হাত থেকে পঞ্চায়েতের ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে।
এডিসি নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হওয়ার পর একের পর এক ৮টি এ.ডি.সি ভিলেজ সহ দুটি গ্রাম পঞ্চায়েত হাতছাড়া। শনিবার দক্ষিণ সোনাইছড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান শ্যামল দত্তের বিরুদ্ধে এবং বাঁশপদুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান তপন গুহের বিরুদ্ধে অনাস্থা এনে জয়লাভ করলো সংস্কারপন্থীরা।
প্রথম অনাস্থা আনা হয় দক্ষিণ সোনাইছড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান শ্যামল দত্তের বিরুদ্ধে। এই পঞ্চায়েতের সদস্য সংখ্যা নয় জন । এরমধ্যে ৬জন সদস্য অনাস্থার পক্ষে ভোট দেন এবং দুইজন সদস্য অনাস্থার বিপক্ষে ভোট দেন। বর্তমানে দক্ষিণ সোনাইছড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের নতুন প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন বিধান বিধান চন্দ্র মজুমদার।
অপরদিকে বাঁশপদুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান তপন গুহ এর বিরুদ্ধে অনাস্থা আনার পর নতুন উপ প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন তাজুল ইসলাম । এই পঞ্চায়েতের সদস্য সংখ্যা ৯জন।এরমধ্যে ভোট পরে অনাস্থার পক্ষে পাঁচজনের ।
বাঁশপদুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের এই উপপ্রধান তপন গুহের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনৈতিক কাজকর্মের দায়ে দল থেকে বহিষ্কার করে রাজ্যের বিজেপি প্রদেশ নেতৃত্বরা। এর পরও এই বহিস্কৃত উপ প্রধান অশেষ বৈদ্যের অঙ্গুলিহেলনে সরাতে পারেনি এই উপপ্রধানকে।
অবশেষে শনিবার অনাস্থার প্রস্তাব এনে তপন গুহকে সরিয়ে সংস্কারপন্থী সংস্কারপন্থী লোক হিসেবে পরিচিত তাজুল ইসলামকে উপ প্রধান হিসেবে নিযুক্ত করেন। উভয়ের অনাস্থা প্রস্তাবের ভোটাভুটিতে উপস্থিত ছিলেন ব্লকের এক্সটেনশন অফিসার অনিল দাস।
এই বাঁশপদুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান তপন গুহের বিরুদ্ধে এর আগেও দুই বার অনাস্থার প্রস্তাব আনা হয় কিন্তু ঋষ্যমুখ মন্ডলের সভাপতি অশেষ বৈদ্যের নিজের ক্ষমতার বলে বহিস্কৃত উপপ্রধান তপন গুহকে বহাল তবিয়তে রেখে দেয়।