স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ১০ এপ্রিল।। ত্রিপুরা স্ব-শাসিত জেলা পরিষদ নির্বাচনে ২৮ টি আসনেই শোচনীয় পরাজয় কংগ্রেসের৷ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি পীযূষ কান্তি বিশ্বাসের রাজনৈতিক অনভিজ্ঞতার কারণেই এই শোচনীয় পরাজয়৷
বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে৷ ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেসের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি পীযূষ কান্তি বিশ্বাসের অনভিজ্ঞতার ফল ভোগ করতে হচ্ছে কংগ্রেস দলকে৷ বিগত লোকসভা নির্বাচনের আগে প্রদেশ কংগ্রেসের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব প্রাপ্ত হন পীযূষ কান্তি বিশ্বাস৷ তারপর থেকেই রাজ্যে কংগ্রেসের সাংগঠনিক শক্তি আরো দুর্বল হয়ে পড়তে থাকে৷ ত্রিপুরা স্ব-শাসিত জেলা পরিষদ নির্বাচনের ফলাফলে তার প্রমাণ হাতেনাতে মিলেছে৷
প্রদেশ কংগ্রেসের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ত্রিপুরা স্ব-শাসিত জেলা পরিষদ নির্বাচনে অন্তত ১৭ টি আসনে কংগ্রেস দলের প্রার্থীরা জয়ী হবে৷ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে ভুল তথ্য ও মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনে লড়াই করার জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তহবিল নিয়ে আসেন তিনি৷
কার্যত জেলা পরিষদ নির্বাচনে কংগ্রেসের তেমন কোনো সাংগঠনিক তৎপরতা পরিলক্ষিত হয়নি৷ সংগঠনকে নিয়ে তিনি যেভাবে বালখিল্যপনা চালিয়ে গেছেন তার খেসারত ভোগ করতে হচ্ছে দলকে৷ ত্রিপুরা স্ব-শাসিত জেলা পরিষদ নির্বাচনের ফলাফলে দেখা গেছে কংগ্রেসের প্রাপ্ত ভোট শতাংশের হিসেবে নিয়ে আসাই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে৷
বিগত লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের ভোট যেখানে হাজার ১৯ শতাংশ ছিল সেখানে ত্রিপুরা স্ব-শাসিত জেলা পরিষদের নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট দুই তিন শতাংশের বেশি হবে না৷ ত্রিপুরা স্ব-শাসিত জেলা পরিষদের নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর কংগ্রেস দলের নেতা-কর্মী সমর্থকরা আরো হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন৷
প্রদেশ কংগ্রেসের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি পীযূষ কান্তি বিশ্বাস এর উপর কেউ আর ভরসা করতে পারছেন না৷ ত্রিপুরা স্ব-শাসিত জেলা পরিষদের ফলাফল ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন মহলে তীব্র ক্ষোভ ধূমায়িত হতে শুরু করেছে৷ সামনেই আগরতলা পুরনিগম এবং অন্যান্য পুর পরিষদের নির্বাচন৷
বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির নেতৃত্বে পুরো নির্বাচনে লড়াই করতে হলে দলের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়বে তা বলার অপেক্ষা রাখে না৷ ত্রিপুরা স্ব-শাসিত জেলা পরিষদ নির্বাচনের ফলাফলের নিরিখে অবিলম্বে রাজ্যে নেতৃত্ব বদলের জোরালো দাবি উঠেছে৷