অনেক গোপন কথা প্রকাশ করলেন অভিনেত্রী মহিমা চৌধুরী

অনলাইন ডেস্ক, ১০ এপ্রিল।। বাঙালি কন্যা হিসেবে তিনি যখন প্রবেশ করেছিলেন বলিউডে, তখন তা হয়েছিল সমস্ত বাঙ্গালির জন্য গর্বের বিষয়। কাজল এবং রানী মুখার্জির পাশাপাশি মহিমা চৌধুরীও বাংলার গর্ব।

সুভাষ ভাই পরিচালিত পরদেশ নামক হিন্দি ছবিতে অভিনয় করার মাধ্যমে তিনি প্রবেশ করেছিলেন হিন্দি সিনেমা জগতে। পরিচালকের ম অক্ষর দিয়ে কোন নায়িকার প্রয়োজন ছিল, নায়িকার নাম ঋতু চৌধুরী থেকে পাল্টে করে দেওয়া হল মহিমা চৌধুরী।

আমরা সকলেই জানি এই সিনেমা বক্স অফিসে ভালোভাবে ব্যবসা করেছিল। এই সিনেমাতে শাহরুখ খানের বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন তিনি। তারপর তাকে আর ফিরে তাকাতে হয়নি। একের পর এক দুর্দান্ত সিনেমা উপহার দিয়েছিলেন মহিমা চৌধুরী। বহু পুরস্কার রয়েছে তার ঝুলিতে।

২০১০ সাল পর্যন্ত টানা অভিনয় করার পর তিনি বিরতি নিয়েছিলেন চার বছরের। পুনরায় ২০১৫ সালে তিনি অভিনয় জগতে ফিরে আসার চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু সেইভাবে জায়গা করতে পারেননি। এর মাঝেই তিনি আর্কিটেকচার ব্যবসায়ী ববি মুখার্জিকে বিয়ে করেন।

তবে এই বিয়ে দীর্ঘস্থায়ী হয়নি তার। ২০১১ সালে ডিভোর্স হয়ে যায় মহিমার। শেষ হয়ে যায় তার বৈবাহিক জীবন।বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে যে মেয়েটি মিষ্টি হাসি দিয়ে সকলের মন জয় করে রেখেছিলেন তিনি অভিনয় জগৎ থেকে নিজেকে গুটিয়ে আনতে যে তার কত কষ্ট হয়েছে তা বলাই বাহুল্য। ব্যক্তিগত জীবনেও বারবার কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয়েছিল তাকে।

সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী জানিয়েছিলেন, তিনি যখন বিবাহিত ছিলেন তখন মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে যেতে হতো তাকে। অনেকবার ভেবেছিলেন কাছের বন্ধুদের সঙ্গে সব কথা শেয়ার করবেন।

একবার ভেবেছিলেন যে, জীবনে মা ডাক শুনতে পারলে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে তার। কিন্তু পরপর দুইবার গর্ভপাতের পর আরও বেশি মানসিক অশান্তির সৃষ্টি হয়েছিল। এর পরে তিনি এক মেয়ের মা হন। মেয়েকে মায়ের কাছে রেখে কাজ করতেন তিনি। কিন্তু তারপরেও যখন স্বামীর সঙ্গে অশান্তির নিরাময় হয় না, তখন স্বামীকে ডিভোর্স দেবার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

ব্যক্তিগত জীবন ছাড়াও নিজের একটি দুর্ঘটনার কথা শেয়ার করলেন মহিমা চৌধুরী। তিনি জানালেন যে, দিল কেয়া কারে ছবির শুটিংয়ের জন্য যখন তিনি গাড়িতে ছিলেন তখন হঠাৎ করে ট্রাকের সামনে দুর্ঘটনা ঘটে যায়। তার মুখ বিভৎসভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

এই সিনেমাতে কাজল এবং অজয় দেবগন দুজনেই অভিনয় করেছিলেন। তখন মহিমা চৌধুরীর সমস্ত চিকিৎসা খরচ দিয়েছিলেন অজয় দেবগন এবং কাজল। তারা সম্পূর্ণ ব্যাপারটি গোপন রাখতে চেয়েছেন যাতে কোনোভাবেই কন্ট্রোভার্সির শিকার না হতে হয় মহিমা চৌধুরী কে। সেই ঘটনার জন্য আজও মহিমা চৌধুরী কৃতজ্ঞ অজয় দেবগন এবং কাজলের কাছে।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চ্যাট খুলুন
1
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠান
হেলো, 👋
natun.in আপনাকে কিভাবে সহায়তা করতে পারে?