সে কারণেই আর ২৯টি আসনকে বাদ দিয়ে গণমাধ্যমের ফোকাসে রয়েছে এই আসনটিই। নন্দীগ্রামে প্রচারের শেষলগ্নে গতকাল বিজেপিকে রাজনৈতিকভাবে কবর দেওয়ার ডাক দেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোনাচ‚ড়ায় প্রচারে গিয়ে তৃণমূল নেত্রী অভিযোগ করে বলেন, বিজেপি নিজেদের কোনো মেয়েকে খুন করে তৃণমূলের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করবে। এ প্ল্যানটি তিনি ফাঁস করে দিলেন বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, ভয় দেখালে ভয় পাবেন না।
একইসঙ্গে বিজেপির কোনো প্ররোচনায় পা না দেওয়ারও পরামর্শ দেন তৃণমূল নেত্রী। সভায় উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যেই মাথা ঠান্ডা রেখে লড়াই করার কথা বলেন তিনি। তার কথায়, ‘কুল কুল, তৃণমূল।’ আগামীকাল নন্দীগ্রামে ভোট। তাই প্রচারের শেষ দিন প্রচারে নেমে বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দেগে তৃণমূল নেত্রী বলেন, ‘বিহার, উত্তরপ্রদেশ থেকে গুন্ডাদের নিয়ে আসা হচ্ছে। গুন্ডাদের দিয়ে ভয় দেখিয়ে ভোট করানোর চেষ্টা হচ্ছে। এইরকম নানান ঘটনা ঘটছে। ভয় দেখালে ভয় পাবেন না।
রুখে দাঁড়ান।’ একইসঙ্গে ভোটের দিন নিজের ভোট যাতে ঠিকমতো দিতে পারেন, সেই বার্তাও এদিন দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি জানান, ভোটে দিন বিজেপি ইভিএম মেশিনে গড়বড় করার চেষ্টা করবে। ইচ্ছে করে ভোটের মেশিন খারাপ করার চেষ্টা করবে। অপেক্ষা করবেন। তাড়াহুড়ো করবেন না। ভোট না দিয়ে ফিরে আসবেন না। নিজের ভোট নিজে দিয়ে আসবেন। এদিনও ফের বিজেপির বিরুদ্ধে টাকা বিলি করার অভিযোগ তোলেন মমতা। এদিনের সভা থেকে তৃণমূল নেত্রী অভিযোগের সুরেই বলেন, ‘বিজেপি টাকা দিলে সেই টাকা নিয়ে নেবেন। মনে রাখবেন, ওটা আপনার টাকা।
শাড়ি দিলে ওটা পর্দা বানিয়ে নিন। আর তৃণমূলকে ভোটটা দিন।’ এদিন কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দিয়েও টাকা বিলি করার অভিযোগ তোলেন মমতা। এদিনের সভা থেকে পুলিশের একাংশের বিরুদ্ধে দালালি করারও অভিযোগ তোলেন তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, পুলিশ তো এখন নির্বাচন কমিশনের অধীনে। বাইরের রাজ্য থেকে পুলিশ এনে ধমকে চমকে যাওয়া হচ্ছে। ওরা তো আর দুদিন। তারপর তো পগারপার। এখন মাথা ঠান্ডা রাখুন। কোনওরকম কোনও প্ররোচনায় পা দেবেন না। উঠে দাঁড়ালেন নেত্রী আহত হওয়ার ২০ দিন পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রকাশ্যে নিজের পায়ে দাঁড়াতে দেখা গেল নন্দীগ্রামে।
গতকাল টেঙ্গুয়ায় এক সভায় জাতীয় সংগীত গাওয়ার সময় হুইলচেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ান তিনি। গত ১০ মার্চ আহত হওয়ার পর এই প্রথম তাঁকে প্রকাশ্যে দাঁড়াতে দেখা গেল। গত ১০ মার্চ প্রচারের সময় নন্দীগ্রামের বিরুলিয়া বাজারে চলন্ত গাড়ির দরজা খুলে প্রচারের সময় পায়ে চোট পান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে নিয়ে আসা হয় কলকাতায়। ২ দিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। গত ১৪ মার্চ থেকে ফের হুইলচেয়ারে করে প্রচার শুরু করেন মমতা।
নন্দীগ্রামে তার গোটা প্রচারপর্বই তিনি সেরেছেন হুইলচেয়ারে। শেষ দিন অবশেষে উঠে দাঁড়ালেন তিনি। মমতাকে ১৫ দিন বিশ্রামের পরামর্শ দিয়েছিলেন চিকিৎসকরা। তবে ২০ দিন কাটলেও এখনো নিজে পায়ে হাঁটতে পারছেন না তৃণমূলনেত্রী। এই নিয়ে উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষ ও তৃণমূল কর্মীরা।