বিএসএফ ও কদমতলা থানার সকল আইনি প্রক্রিয়ার পর আজ কদমতলা থানাধীন ইন্দো-বাংলা সীমান্তের ১৬৬ নং ব্যাটেলিয়ানের বিএসএফ ক্যাম্পের আওতাধীন ইয়াকুব নগর সীমান্ত দিয়ে মৃতদেহটি বাংলাদেশ প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়া হয়। উপস্থিত ছিলেন ১৬৬ নং বিএসএফ এর শীর্ষ আধিকারিক, কদমতলা থানার পুলিশ, বাংলাদেশের জুরি থানার পুলিশ ও বিজিবি।
ঘটনার বিবরণে প্রকাশ,গত ২০ মার্চ শনিবার মাঝরাতে উত্তর জেলার কদমতলা থানাধীন ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের বিষ্ণুপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ৪ নং ওয়ার্ডের ১৬৬ নং ইয়াকুব নগর বিএসএফ ক্যাম্পের ১৮২২/২৪ এস নং পিলারের মাঝখানে বাংলাদেশের একটি চোরের দল সীমান্তের কাঁটাতার কেটে ভারতে প্রবেশ করে।
ভারতে প্রবেশ করে গরু চুরি করতে আসলে এলাকাবাসী টের পেয়ে হই হুল্লোর শুরু করে।তৎক্ষণাৎ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জওয়ানরা পি এ গান দিয়ে এক পাচারকারীকে গুলি করেন। ততক্ষণে দলের অন্যান্য পাচারকারীরা পালিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করলেও গুলিবিদ্ধ এক পাচারকারী ভারত সীমান্তের মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
ঘটনার খবর পেয়ে ছুটে আসেন সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনীর শীর্ষ আধিকারিক ও কদমতলা থানার পুলিশ। মৃত পাচারকারীর কাছ থেকে একটি তার কাটার কাঁটার, তরোয়াল, দা সহ অন্যান্য অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। তাছাড়া জানা যায় মৃত পাচারকারী বাংলাদেশের জুরি থানার অন্তর্গত পূর্ব বটুলি গ্রামের বাপ্পা মিয়া (৩২) পিতা আব্দুল রুফ।দীর্ঘদিন ধরে সে অবৈধ পাচার বাণিজ্যের বাদশা বলে পরিচিত ছিল। তারপর কদমতলা থানার পুলিশ মৃতদেহটিকে সীমান্ত থেকে উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কদমতলা গ্রামীণ হাসপাতালের মর্গে নিয়ে আসে।
কিন্তু দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও বাংলাদেশ প্রশাসন মৃতদেহটি নেওয়ার জন্য কোন তৎপরতা দেখায়নি। তা নিয়ে সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী বাংলাদেশের জুড়ি থানার পুলিশ ও বিজিবিকে দফায় দফায় চিঠি পাঠায়। অবশেষে ৭২ ঘন্টা অতিক্রান্ত হওয়ার পর বাংলাদেশ প্রশাসন কুখ্যাত পাচারকারী বাপ্পা মিয়ার মৃতদেহ সমঝে নেওয়ার সম্মতি জানায়।
তারপর আজ বিকেল বেলা কদমতলা থানাধীন ১৬৬ নং বিএসএফ ব্যাটালিয়ানের ইয়াকুব নগরস্হীত ইন্দো-বাংলা সীমান্ত দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারত-বাংলাদেশের সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী ও পুলিশ মৃতদেহটি মৃত বাপ্পা মিয়ার পিতা অব্দুল রুফের হাতে সমঝে দেয় বাংলাদেশ প্রশাসন। তবে দীর্ঘদিন যাবৎ কদমতলা থানাধীন ইন্দো-বাংলা সীমান্তে ত্রাস সৃষ্টিকারী কুখ্যাত বাপ্পা মিয়ার মৃত্যুর পর সীমান্তের স্থানীয়দের মধ্যে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরে এসেছে।