স্বামীহীন মহিলা সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিদের জানান যে, ২০১৮ সালের পঁচিশ মে উনার স্বামী শিবু রায় মারা গিয়েছিলেন। উনার পাঁচ বছরের এক পুত্র সন্তান রয়েছে। স্বামী জীবিত থাকা অবস্থায় স্বামী এই ঘরটি বানিয়েছিল এবং এই ঘরেই উনি উনার স্বামী সহ উনার পুত্র সন্তান থাকতেন। স্বামী মারা যাবার পর থেকে স্বামীর বাড়ির লোকজন উনাকে নানা ভাবে উত্যক্ত করতে শুরু করে। উনি বাড়ি থেকে বাজারে যাবার সময় ঘর তালা দিয়ে যান।
বাজার থেকে এসে দেখতে পান উনার তালার উপর স্বামীর বাড়ির লোকরা অপর আরেকটি তালা মেরে দিয়েছে। শুধু তাই নয়, স্বামীর বাড়ির লোকজন কয়েকবারই বলেছেন যে, স্বামীর বাড়ি ছেড়ে বাপের বাড়িতে চলে যাবার জন্য। কিন্তু তারপরও উনি সবকিছু নীরবে সহ্য করে থাকতেন। ইদানীং উনি উনার পুত্রকে নিয়ে উনার বাপের বাড়িতে গিয়েছিলেন। বাপের বাড়িতে যাবার সময় উনি উনার ঘর তালাবন্ধী করে গিয়েছিলেন। বাপের বাড়ি থেকে গতকাল রাতে স্বামীর বাড়িতে ফিরে এসে দেখেন উনার ঘরে উনার তালার উপর স্বামীর বাড়ির লোকরা অপর আরেকটি তালা মেরে রেখে দিয়েছেন।
এটা দেখে উনি প্রথমে স্বামীর বাড়ির লোকদের এব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে স্বামীর বাড়ির কেউ কোনো উত্তর দেননি। এভাবে উনি ঘরের বাইরে এবং বাড়ির গেইটের বাইরে প্রায় পাঁচ ঘন্টার মতো থেকে কোন উপায় না পেয়ে উনি একপ্রকার বাধ্য হয়ে উনার বাপের বাড়ির লোকজনদের খবর দেন। বিষয়টি মহিলা থানায় লিখিতভাবে জানানো হয়। পুলিশের অনুমতি নিয়ে বাপের লোকজন এবং এলাকার আরও অন্যান্য লোকরা মিলে তালা ভেঙ্গে মহিলাকে ঘরে ঢুকতে দেওয়া হয়।
এ ধরনের ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে কৈলাসহর থানার পুলিশ এবং মহিলা থানার প্রচুর পুলিশ এবং টি.এস.আর. আসে। উল্লেখ্য, প্রয়াত শিবু রায়ের বোন বিজেপি দলের কৈলাসহরের প্রথম সারীর নারী নেত্রী। শিবু রায় মারা যাবার পর থেকে বাড়ির অন্যান্য লোকদের সাথে নারী নেত্রীও ওতপ্রোতভাবে জড়িত রয়েছে বলে জানান স্বামীহীন মহিলা। সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিদের সামনে স্বামীহীন মহিলা আরও গুরুতর অভিযোগ করেন যে, উনার স্বামী মারা যাবার পর থেকে স্বামীর ফার্মেসীর ব্যবসা আজ অব্দী চলছে।
কিন্তু স্বামীর ফার্মেসীর ব্যবসার কোনো লভ্যাংশ কিংবা ব্যবসার কোনো টাকা উনাকে দেওয়া হচ্ছে না। স্বামী মারা যাবার পর প্রথমদিকে উনার স্বামীর ইন্সুইরেন্সের টাকা পাইয়ে দিতে উনার মেজ ভাসুর কিছু সাহায্য করলেও আজ অব্দি স্বামীর বাড়ির কেউ কোনো সাহায্য কিংবা উনার খোঁজ খবরও নেয়নি। এমনকি স্বামী মারা যাবার পর উনি কিভাবে খাবেন কিংবা উনার ঘরে চাল ডাল মসলা আছে কিনা সে খবরও স্বামীর বাড়ির কেউ আজ অব্দি নেয়নি । ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকার জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এলাকাবাসীর তরফ থেকে দাবি জানানো হয়েছে।